ডায়াবেটিস বা ওজনের আধিক্য ধরা পড়লেই কি চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে ওটিসি স্লিমিং চা কিংবা ক্রাশ ডায়েট শুরু করছেন?
সাবধান! লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে কড়া কেমিক্যাল বড়ির এই কৃত্রিম শর্টকাট আপনার লিভার মেটাবলিজমকে চিরতরে ধ্বংস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন বা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) চটকদার স্লিমিং পিল বা অনাহারে থাকার ক্রাশ ডায়েট করা এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই অনিয়ন্ত্রিত মেকানিজম ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তীব্র করে লিভারে চর্বি জমার গতি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ও মেটাবলিক হরমোন ডায়েট ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ওবেসিটির (Obesity) জটিলতায় আক্রান্ত ক্রনিক রোগী আসেন, যারা পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা, রক্তের অনিয়ন্ত্রিত শর্করা এবং লিভারের এনজাইমের তীব্র ড্যামেজ নিয়ে ভুগছেন। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ব্লাড সুগার বা ওজনের সমীকরণ একটু ওলটপালট দেখামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের মেটাবলিক পরীক্ষা কিংবা রক্তের এইচবিএ১সি (HbA1c) চার্ট না জেনেই নিজে নিজে অনলাইন পেজ বা ফেসবুক লাইভ দেখে কড়া কেমিক্যাল যুক্ত 'স্লিমিং পিল', মেদ কমানোর ক্ষতিকর ডিটক্স চা অথবা না খেয়ে থাকার মারাত্মক ক্রাশ ডায়েট অনবরত শুরু করে দেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং শরীরের প্রধান ফিল্টারিং সিস্টেমের জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার বায়োলজি ও এন্ডোক্রাইন লজিক অনুযায়ী, আমরা যখন হঠাৎ শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে ক্রাশ ডায়েট করি, তখন শরীর ক্ষুধার্ত ও প্যানিকড হয়ে নিজের শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভারকে অতি-উত্তেজিত করে বেশি বেশি ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড চর্বি তৈরি করতে বাধ্য করে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Lipid Profile / Serum Creatinine) ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি চটকদার মেদ কমানোর বড়ি বা সাপ্লিমেন্ট সেবন করবেন, তখন ওই কেমিক্যালের অতিরিক্ত টক্সিক রেসিডিউ লিভার ও অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসের ওপর মারাত্মক বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর সরাসরি ফলে, সাময়িকভাবে কিছুটা ওজন কম মনে হলেও তা শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিক পাথওয়েকে স্থায়ীভাবে অলস ও অকেজো করে দেয়। একপর্যায়ে ইনসুলিন হরমোন নিজের ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে, যার ফলে রক্তের গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে না পেরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও গুরুতর ফ্যাটি লিভারকে এক নিমিষে মারাত্মক ও স্থায়ী রূপের দিকে ঠেলে দেয় এবং কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকনিগুলোকে পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
কোষে জমে থাকা চর্বি গলানো এবং ইনসুলিনের সেন্সিটিভিটি প্রাকৃতিকভাবে বাড়ানোর একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই কোষে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরির প্রধান ট্রিগার। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন, রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন এবং কোষে জমে থাকা চিনি সরাসরি পুড়িয়ে ইনসুলিনকে সক্রিয় করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
স্লিমিং চা খেতে খেতে সুগার বেড়ে গিয়েছিল। এখন ডায়েটিশিয়ানের ডায়েট চার্টে চলছি।
ক্রাশ ডায়েট করে লিভার খারাপ হয়েছিল। পুষ্টিবিদের পরামর্শে এখন স্বাভাবিক খাবার খাই।
প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটি, ওটস আর লাল চালের ভাত খাই। সুগার অনেক নিয়ন্ত্রণে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
