পেটে সামান্য গ্যাস বা বুক জ্বালাপোড়া হলেই কি প্রতিদিন সকালে একটি ওমেপ্রাজল বড়ি গিলে খাচ্ছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার এই অভ্যাস আপনার লিভার ও অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

সামান্য বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাসের অস্বস্তির জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া বছরের পর বছর অনবরত পিপিআই (PPI) বা গ্যাস্ট্রিকের বড়ি খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর প্রাকৃতিক এসিডিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে লিভারের মেদ ও অন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।

আমাদের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডায়েট ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক লিভার ও অন্ত্রের জটিলতায় ভুগা রোগী আসেন, যারা গত ৫ থেকে ১০ বছর ধরে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সম্পূর্ণ খালি পেটে একটি করে ওমেপ্রাজল, এসোমিপ্রাজল বা প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় কড়া গ্যাস্ট্রিকের বড়ি খেয়ে আসছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি মারাত্মক চিকিৎসাগত ক্ষতিকর অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পরিপাক প্যাথলজি অনুযায়ী, আমাদের পাকস্থলীর ভেতরে প্রাকৃতিকভাবেই কড়া হাইড্রোক্লোরিক এসিড ক্ষরিত হয়, যা আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই—তা সহজে হজম করতে এবং খাবারের সাথে পেটে ঢুকে যাওয়া লাখো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে নিমিষেই ধ্বংস করতে শরীরের এক অন্যতম প্রধান সুরক্ষাপ্রাচীর হিসেবে কাজ করে।

আপনি যখন চিকিৎসকের কোনো লিখিত মেয়াদ ছাড়া অনবরত এই পিপিআই (Proton Pump Inhibitor) বড়িগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর এসিড ক্ষরণ করার প্রাকৃতিক পাম্পগুলোকে স্থায়ীভাবে অবশ ও বন্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, পেটের ভেতরের স্বাভাবিক এসিডের মাত্রা একদম শূন্যে নেমে আসে, যার ফলে লিভার ও অন্ত্রের ভেতরের হজম প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে যায়। এসিডের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাইরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো খুব সহজে অন্ত্রে বাসা বাঁধে, যা দীর্ঘস্থায়ী বদহজম, ফুড পয়জনিং এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক আইবিএস (IBS) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের জন্ম দেয়। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, পেটে এসিড না থাকলে শরীর আমরা যে খাবার খাই তা থেকে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি-১২ এবং ম্যাগনেসিয়াম বিন্দুমাত্র শোষণ করতে পারে না। এর ফলে হাড়ের মেকানিক্যাল ঘনত্ব দ্রুত কমে গিয়ে অল্প বয়সেই হাড়ের ক্ষয় রোগ বা অস্টিওপরোসিস দেখা দেয় এবং লিভারের মেটাবলিজম নষ্ট হয়ে যকৃতে ক্ষতিকর চর্বি ও ফ্যাটি লিভারের মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়।

পেটের গ্যাস বা বুক জ্বালাপোড়া দূর করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো—নিজে নিজে কোনো ওটিসি (OTC) গ্যাস্ট্রিকের বড়ি সেবন সম্পূর্ণ বর্জন করা এবং লাইফস্টাইলের মৌলিক পরিবর্তন আনা। কোনো চটকদার হারবাল টনিক বা সাময়িক ওষুধের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের অধীনে এন্ডোস্কোপি ও লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে মূল সমস্যাটি চিহ্নিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে কাঁচা চিনি, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল, কড়া মসলাযুক্ত তরকারি এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত প্রক্রিয়াজাত ফাস্টফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো অন্ত্রের নালী শুকিয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত এবং পরিমিত পানি পান করুন। পাকস্থলীর ভালো ব্যাকটেরিয়া সচল রাখতে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পর ছোট এক বাটি ঘরে পাতা চিনি ছাড়া টকদই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং লিভার সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. কামরুল হাসান

৫ বছর ধরে ওমেপ্রাজল খেতাম। বন্ধ করার পর হজম অনেক ভালো হয়েছে।

শিরিন আক্তার

টকদই আর ওটস খাওয়া শুরু করেছি। গ্যাসের সমস্যা অনেক কমেছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন

এন্ডোস্কোপি করে চিকিৎসকের পরামর্শে চলছি। গ্যাস্ট্রিকের বড়ি আর খাই না।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।