উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে লবণ একদম ছেড়ে দিচ্ছেন বা ওটিসি ওষুধ খাচ্ছেন?
সাবধান! সোডিয়াম একদম ছেড়ে দিলে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ভেঙে হার্টের রিদম বিগড়ে যাচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পুষ্টিবিদের সুনির্দিষ্ট ড্যাশ (DASH) ডায়েট চার্ট না মেনে নিজে নিজে অন্ধভাবে লবণ একদম ছেড়ে দেওয়া বা ওটিসি ওষুধ খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ সোডিয়ামের তীব্র ঘাটতি শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ভেঙে হার্টের রিদম বিগড়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের কার্ডিওভাসকুলার নিউট্রিশন ও হাইপারটেনশন ম্যানেজমেন্ট ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের জটিলতায় ভোগা রোগী আসেন, যাদের রক্তের লিপিড প্রোফাইল ও সিস্টোলিক প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে অনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড পুষ্টিবিদের ড্যাশ (DASH) ডায়েট চার্ট না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধ কিনে খান অথবা খাবারে লবণ একদম ছেড়ে দিয়ে মারাত্মক ইলেকট্রোলাইট ডেফিসিয়েন্সিতে ভুগতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং হৃদরোগের জন্য আত্মঘাতী চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ভাসকুলার বায়োলজি ও কার্ডিয়াক মেটাবলিজম অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ মূলত কোনো একক লবণের সমস্যা নয়, এটি হলো শরীরের গভীর ভাসকুলার ইনফ্লেমেশন, লিপিড প্লাক ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের এক জটিল মাল্টি-ফ্যাক্টরিয়াল এন্ডোক্রাইন বহিঃপ্রকাশ।
রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেলে তা ধমনীর ভেতরের প্রাচীরে ক্ষতিকর প্লাক জমা করে রক্তনালীকে ক্রমেই সরু ও অনমনীয় করে তোলে। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Lipid Profile / Electrolyte Panel) ছাড়া নিজে নিজে লবণ একদম ছেড়ে দিবেন বা কড়া ওটিসি ডাইউরেটিক্স ওষুধ সেবন করবেন, তখন ওই অতিরিক্ত সোডিয়াম ডিপ্লিশন শরীরের স্বাভাবিক ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে চরমভাবে বিগড়ে দেয়। এর সরাসরি ফলে, সাময়িকভাবে রক্তচাপ কম মনে হলেও তা শরীরের হার্টের বৈদ্যুতিক সিগন্যাল পাথওয়েকে স্থায়ীভাবে অস্থির করে দেয়। একপর্যায়ে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে হার্টের রিদম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো মারাত্মক স্থায়ী রূপের দিকে ঠেলে দেয় এবং ধমনীর প্লাক আরও দ্রুত জমা হয়ে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
রক্তচাপ প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল ওষুধের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট ড্যাশ (DASH) খাবার তালিকা এবং ওষধি লাইফস্টাইলের সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস, মিষ্টি, ময়দা এবং কড়া কোল্ড ড্রিংকস শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই ভাসকুলার ইনফ্লেমেশন ও উচ্চ রক্তচাপের মূল চালিকাশক্তি। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, তাজা শাকসবজি, কলা, ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন, রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ধমনীর প্লাক গলিয়ে ইনসুলিনকে সক্রিয় করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
উচ্চ রক্তচাপে লবণ একদম ছেড়ে দিয়েছিলাম। একপর্যায়ে মাথা ঘুরত, দুর্বল লাগত।
পুষ্টিবিদের ড্যাশ ডায়েট চার্ট মেনে চলছি। রক্তচাপ এখন নিয়ন্ত্রণে, শরীর ভালো আছে।
প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটি, মিষ্টি ও ডালডা ছেড়ে দিয়েছি। কোলেস্টেরল অনেক কমেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
