শরীরে হুটহাট চুলকানি বা লালচে র্যাশ হলেই কি ফার্মেসি থেকে কড়া স্টেরয়েড মলম কিনে মাখছেন?
জানুন এই কড়া কেমিক্যাল কীভাবে আপনার ত্বকের নিজস্ব সুরক্ষাবলয়কে চিরতরে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
যেকোনো স্কিন র্যাশ বা চুলকানি দেখা দেওয়ামাত্রই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কড়া Steroid Cream মাখলে সাময়িক আরাম মিললেও তা ত্বকের নিজস্ব ইমিউনিটি ও Skin Barrier ধ্বংস করে চর্মরোগকে আরও ক্রনিক করে তোলে।
আমাদের সামরিক ও বেসামরিক স্কিন ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক ইনফ্লেমেটরি স্কিনের রোগী আসেন, যারা শরীরে সামান্য চুলকানি, লালচে ভাব বা একজিমা (Eczema) দেখা দেওয়ামাত্রই নিজে নিজে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে কড়া কেমিক্যাল মলম কিনে মাখতে শুরু করেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, বাজারে পাওয়া যাওয়া বেশিরভাগ সাধারণ চুলকানির ও দাদের মলমে উচ্চ মাত্রায় কড়া স্টেরয়েড (যেমন: ক্লোবেটাসল, প্রোপিওনেট বা বেটামিথাসন) ব্লেন্ড করা থাকে। এই উপাদানগুলো ত্বকের উপরিভাগের রক্তনালীগুলোকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করে এবং কোষের অতি-সংবেদনশীল ইমিউন সাড়াকে স্তব্ধ করে দেয়। এর ফলে চুলকানির অনুভূতি ও লালচে ভাব নিমিষেই অবশ হয়ে শান্ত হয়ে যায়।
কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী আরামের অন্তরালে এটি আপনার ত্বকের স্বাভাবিক কোষ গঠন এবং প্রতিরক্ষামূলক তৈলাক্ত স্তর বা লিপিড ব্যারিয়ারকে (Lipid Barrier) অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে পাতলা করে ফেলে। এর সরাসরি ক্ষতিকর মেকানিজম হিসেবে, কয়েকদিন ব্যবহার বন্ধ রাখলেই চর্মরোগটি জ্যামিতিক তীব্রতায় আবার চামড়ায় ফিরে আসে। তখন চামড়া ফেটে গিয়ে ভেতরের কাঁচা টিস্যু বাতাসে উন্মুক্ত হয়ে যায়, যা ক্ষতিকর ফাঙ্গাল, ছোঁয়াচে স্ক্যাবিস ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনকে (Secondary Infection) শরীরের গভীর ডার্মিস স্তরে ছড়িয়ে দেয়। দীর্ঘকাল এই কড়া হরমোনাল মলম মুখে বা শরীরে মাখলে চামড়া তার স্থায়ী লাবণ্য হারায় এবং সেখানে স্থায়ী সাদা দাগ বা স্ট্রিয়া (Stretch Marks) তৈরি হয় যা আর কখনো পূর্বের অবস্থায় ফেরে না।
আমার ওষধি পরামর্শ হলো—শরীরে নতুন কোনো র্যাশ বা চুলকানি হলে প্যানিকড হয়ে হাত দিয়ে তা চুলকাবেন না বা নখ দিয়ে ক্ষত তৈরি করবেন না। ক্ষতের ওপর কোনো সুগন্ধি কসমেটিকস, পারফিউম বা কড়া ক্ষারযুক্ত কাপড়ের সাবান ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্ষতের তীব্র শুষ্কতা ও টানটান ভাব কমাতে কেমিক্যাল-ফ্রি বিশুদ্ধ পেট্রোলিয়াম জেলি বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ ময়েশ্চারাইজিং লোশন আলতো করে প্রলেপ দিন। সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন, যাতে বাতাস চলাচল সচল থাকে।
শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে এবং রক্তের বর্জ্য ফিল্টার করতে দিনে অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস কুসুম গরম বা সাধারণ বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন। খাবারে অতিরিক্ত চিংড়ি, ইলিশ, পুঁইশাক বা বেগুন পরিহার করুন যদি আপনার তীব্র এলার্জির প্রবণতা থাকে। গুরুতর বা অনিয়ন্ত্রিত চুলকানি হলে নিজে নিজে ফার্মেসির ওষুধ না খেয়ে অবিলম্বে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন এবং শরীরের ওজন অনুযায়ী সঠিক অ্যান্টি-হিস্টামিন ড্রাগসের সেবন নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েড মলম কিনে মাখতাম, সাময়িক আরাম পেতাম কিন্তু পরে আরও বাড়ত। কর্নেল স্যারের কথা শুনে এখন জেন্টল ক্লিনজার আর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করি।
শীতকালে শরীরে চুলকানি হলেই কড়া সাবান দিয়ে ঘষতাম। এখন পেট্রোলিয়াম জেলি আর সুতি কাপড় পরি, অনেক আরাম।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
