কানে কোনো আঘাত লেগে বা পুরোনো ইনফেকশনে কি কানের পাতলা পর্দা হঠাৎ ফুটো হয়ে পুঁজ-রক্ত পড়ছে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কানের ড্রপের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার ভেতরের শ্রবণ স্নায়ুকে স্থায়ীভাবে পুড়িয়ে বধিরতা ডেকে আনছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

কানের পর্দা ফেটে যাওয়া বা ফুটো হয়ে পুঁজ-পানি বের হওয়ার ক্রনিক যন্ত্রণায় চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট ওটোস্কোপি পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া কানের ড্রপ অনবরত ব্যবহার করা এক ভয়ানক ভুল; কারণ এই কেমিক্যালের তীব্র টক্সিক উপাদান ভেতরের সংবেদনশীল শ্রবণ স্নায়ু গলিয়ে চিরতরে স্থায়ী বধিরতা ডেকে আনে।

আমাদের নাক, কান ও গলা এবং ওটোলজি মাইক্রো-সার্জারি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক কানের ক্রনিক ইনফেকশনে (Chronic Otitis Media) আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের কানের ভেতরের সংবেদনশীল পর্দাটি কেমিক্যালের তীব্র দহনে স্থায়ীভাবে গলে বড় গর্তে রূপ নিয়েছে এবং কান থেকে অনবরত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হচ্ছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, কানে থাপ্পড় খাওয়া বা কাঠি লেগে পর্দা ফেটে যাওয়া, পুকুরে গোসলের সময় কানে পানি ঢুকে কষা ভাব তৈরি হওয়া অথবা কান পাকার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া ইয়ার ড্রপস (যেমন: জেন্টামাইসিন, নিওমাইসিন বা কড়া স্টেরয়েড যুক্ত ড্রপ) কিনে মাসের পর মাস কানে ঢালতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত কানের অ্যানাটমি ও অডিওলজি অনুযায়ী, কানের মাঝখানের পাতলা টিমপ্যানিক পর্দাটি (Tympanic Membrane) বাইরের ব্যাকটেরিয়াকে মস্তিস্কের গভীরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং তরঙ্গের মাধ্যমে আমাদের শুনতে সাহায্য করে।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ওটোস্কোপি পরীক্ষা ছাড়া পর্দার আসল অবস্থা না জেনে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল লিকউড ড্রপ কানে ঢালবেন, তখন ওই ওষুধের কড়া টক্সিক উপাদানগুলো যদি পর্দার কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে কানের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল অংশে (Inner Ear) প্রবেশ করে, তবে তা রক্তনালীকে পুড়িয়ে এক নিমেষে মস্তিস্কের শ্রবণ স্নায়ু বা ককলিয়ার হেয়ার সেলগুলোকে চিরতরে অবশ ও অকেজো করে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ওটোটক্সিসিটি' (Ototoxicity) বলা হয়, যার সরাসরি ফলে কানের ভেতরে অনবরত ঝিঁঝিঁ পোকার মতো তীব্র বাঁশির আওয়াজ (Tinnitus) শুরু হয় এবং রোগী চিরতরে আংশিক বা পুর্ণাঙ্গ বধিরতা বা শ্রবণশক্তি হারানোর মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন।

কানের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল যন্ত্রণা শান্ত করার এবং শ্রবণ স্নায়ুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কানের ড্রপের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের অধীনে কানের একটি মাইক্রো-ওটোস্কোপি বা পিটিএ (Pure Tone Audiometry) পরীক্ষা করিয়ে পর্দার আসল অবস্থা নিখুঁতভাবে লক করুন। ইনফ্লেমেশন ও অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত ঠান্ডা আইসক্রিম শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো ইউস্টেশিয়ান নালী ব্লক করে কানের প্রেশার ওলটপালট করে দেয়। গোসলের সময় কানে তুলা দিয়ে খাঁটি পেট্রোলিয়াম জেলি আলতো করে মেখে কানকে সম্পূর্ণ পানিমুক্ত রাখুন, দিনে অন্তত দুবার মৃদু গরম পানির ভাপ বা ওষধি স্টিম ইনহেলেশন নিন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. ইব্রাহিম খলিল

কান পাকলে ফার্মেসি থেকে ড্রপ কিনে ঢালতাম। একপর্যায়ে কান প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

রুবিনা আক্তার

ডাক্তারের পরামর্শে মাইক্রো-ওটোস্কোপি করিয়েছি। এখন কানে তুলা-জেলি রাখি, পানি ঢুকতে দিই না।

আব্দুল মতিন

গোসলের সময় কানে তুলা রাখি, ঠান্ডা খাই না। কানের ঝিঁঝিঁ আওয়াজ অনেক কমেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।