অফিসে সারাদিন ভুলভাবে বসে কি কোমর ও ঘাড়ে তীব্র কষা ব্যথা করছে এবং কাঁধ জ্যাম হয়ে যাচ্ছে?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলার গিলে খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস আপনার স্পাইনাল কর্ডকে চিরতরে পঙ্গু করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
অফিসে সারাদিন ভুলভাবে বসে কোমর ও ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হওয়া কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়, এটি মেরুদণ্ডের মেকানিক্যাল ডিসক ডিজিজ; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।
আমাদের এরগোনোমিক্স ও মেকানিক্যাল পোশচার সংশোধন ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক অফিস কর্মচারী, কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও গার্মেন্টস শ্রমিক আসেন, যারা সারাদিন ভুলভাবে বসে কোমর ও ঘাড়ে তীব্র কষা ব্যথা, ফ্রোজেন শোল্ডার কিংবা মেরুদণ্ডের ডিস্ক প্রোল্যাপসের জটিল মেকানিক্যাল সমস্যায় ভুগছেন। আমাদের দেশের অফিস আদালত ও শিল্পকারখানায় একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, সারাদিন বেঁকে বসে কাজ করার ফলে কোমর ও ঘাড়ে তীব্র মেকানিক্যাল ব্যথা শুরু হওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ফিজিওথেরাপি বা এরগোনোমিক্স বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওটিসি কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে মাসের পর মাস মুড়িমুড়কির মতো গিলে খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং মেরুদণ্ড ও কঙ্কালতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত এরগোনোমিক্স ও বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ ভুলভাবে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের লাম্বার ও সার্ভিক্যাল ভার্টেব্রার মধ্যে থাকা ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্কগুলো অস্বাভাবিক মেকানিক্যাল চাপে পিছলে গিয়ে স্নায়ুর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিস্ক হার্নিয়েশন বা ডিস্ক প্রোল্যাপস বলা হয়।
কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই মেকানিক্যালি পিছলে যাওয়া ডিস্ককে প্রাকৃতিকভাবে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পারে না। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত সেবন করবেন, তখন ওই ওষুধের কড়া রাসায়নিক ককটেল পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক আলসার তৈরি করে এবং রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য ডায়ালাইসিসের মতো মারাত্মক চিকিৎসাগত সংকটে ঠেলে দেয়।
মেরুদণ্ডের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল যন্ত্রণা শান্ত করার এবং ডিস্কের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের বসার ভঙ্গি ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন এরগোনোমিক্স বিশেষজ্ঞের অধীনে মেরুদণ্ডের ডায়াগনসিস করিয়ে ডিস্কের ড্যামেজ লেভেল নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো হাড়ের প্রদাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা ডিস্কের কোলাজেন ফাইবার পুনর্গঠনে সাহায্য করে। মেরুদণ্ড সচল রাখতে চিকিৎসকের নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট এরগোনোমিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম নিয়ম মেনে প্রতিদিন করুন, অফিসে প্রতি ৪৫ মিনিট পর পর ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
অফিসে সারাদিন ভুলভাবে বসতাম। পেইনকিলার খেতাম। এখন এরগোনোমিক চেয়ারে বসি, ব্যায়াম করি।
ঘাড়ের ব্যথায় ওটিসি পেইনকিলার খেতাম। কিডনির ক্ষতি হতে পারত। এখন চিকিৎসা নিই।
প্রতি ৪৫ মিনিটে দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করি। কোমর ব্যথা অনেক কমেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
