সামান্য বদহজম বা পেটের গোলমাল হলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি ভিটামিন গিলছেন?
জানুন লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে কড়া কেমিক্যাল বড়ির এই কৃত্রিম লোড কীভাবে আপনার যকৃতের জীবনীশক্তি কেড়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
লিভার বা কিডনিকে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য কোনো জাদুকরী ডিটক্স ওষুধের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিনের ডায়েটে শর্করার পরিমিত অংশ বজায় রাখা এবং কায়িক পরিশ্রমই যকৃতের মেদ গলানোর একমাত্র আসল চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত লাইফস্টাইল গাইড।
আমাদের অভ্যন্তরীণ মেডিসিন ও লিভার কেয়ার ইউনিটে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক মেটাবলিক সিন্ড্রোম ও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগী আসেন, যারা অলস জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ওজন বৃদ্ধির জটিলতায় ভুগছেন। এই রোগীরা লিভার ফাংশন সচল করার জন্য কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ বা লিপিড প্রোফাইলের সঠিক সমীকরণ না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া ওটিসি (OTC) মাল্টিভিটামিন, কৃত্রিম এনার্জি বড়ি বা মেদ কমানোর কেমিক্যাল থেরাপি ক্যাপসুল কিনে মাসের পর মাস খেতে থাকেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার হেপাটোলজি ও যকৃত বিপাকীয় লজিক অনুযায়ী, লিভার হলো আমাদের শরীরের প্রধান পরিশোধনাগার বা ফিল্টারিং সিস্টেম, যা অতিরিক্ত কেমিক্যাল ও সিন্থেটিক উপাদান ভাঙতে ভাঙতে একপর্যায়ে নিজেই ক্লান্ত ও প্রদাহের শিকার হয়ে পড়ে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট অ্যান্ডোক্রাইন পরীক্ষা ছাড়া কড়া কেমিক্যাল বড়ি অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন ওই সিন্থেটিক ড্রাগসের টক্সিক বর্জ্য বা মেদ লিভারের সুস্থ কোষে জমা হয়ে 'ফ্যাটি লিভার' বা যকৃতের ক্রনিক প্রদাহের জন্ম দেয়। লিভারের মেদ যদি প্রাথমিক স্তরে অবহেলিত থাকে, তবে তা যকৃতের টিস্যুকে স্থায়ীভাবে শক্ত ও অকেজো করে ফেলে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় লিভার সিরোসিস বা লিভার বিকল হওয়া বলা হয়। লিভার ও কিডনিকে আজীবন শতভাগ সচল রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া বাণিজ্যিক ক্যাপসুলের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের লাইফস্টাইলের মৌলিক পরিবর্তনের ভেতর।
ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, কৃত্রিম সুইটনার, ডালডা, ময়দা এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত Processesড জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই যকৃতে অতিরিক্ত চর্বির প্লাক বা ব্লকেজ জমার প্রধান কাঁচামাল। রান্নায় সাধারণ সয়াবিন তেলের পরিমাণ একদম কমিয়ে সামান্য খাঁটি সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি আস্ত পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করুন। লেবুর সাইট্রিক এসিড লিভারে বিশেষ এক ধরণের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে, যা যকৃতের ভেতরের পুরোনো মেদ প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে শরীর থেকে ফ্ল্যাশ আউট করে দেয়। কোষে জমে থাকা বাড়তি চর্বি পোড়াতে এবং ধমনীর দেওয়ালে জমে থাকা নতুন চর্বির কণাগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ওটিসি মাল্টিভিটামিন খেয়ে লিভার এনজাইম বেড়েছিল। ডাক্তার স্যারের গাইড মেনে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করেছি। এখন সুস্থ আছি।
লেবুর রস আর ৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস শুরু করেছি। ২ মাসে ওজন কমেছে, শরীর হালকা লাগে। সাপ্লিমেন্ট আর লাগে না।
বাবার ফ্যাটি লিভার ছিল। এই আর্টিকেলের নিয়ম মেনে চলা শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক আল্ট্রাসনোগ্রামে অনেক উন্নতি। ধন্যবাদ ডাক্তার স্যার।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
