সারাদিন ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর কি চোখ লাল হয়ে তীব্র জ্বালা করছে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া যত্রতত্র ওটিসি কেমিক্যাল ড্রপ ব্যবহারের এই শর্টকাট আপনার চোখের কর্নিয়াকে স্থায়ীভাবে শুষ্ক করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

দীর্ঘক্ষণ অনবরত ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে উৎপন্ন কড়া চোখের ক্লান্তি বা ড্রাই আইজ (Dry Eyes) দূর করতে চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া যত্রতত্র ওটিসি (OTC) ন্যাফাজোলিন যুক্ত রেডনেস রিলিফ ড্রপ ব্যবহার করা এক আত্মঘাতী ভুল; কারণ এটি চোখের স্বাভাবিক অশ্রু গ্রন্থি চিরতরে শুকিয়ে ফেলে।

আমাদের অফথালমোলজি ও কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম বিশেষায়িত ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক আইটি প্রফেশনাল, ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থী আসেন, যাদের চোখের মিবোমিয়ান গ্রন্থি অনবরত ভুল কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহারের ফলে নিজের স্বাভাবিক লুব্রিকেন্ট বা অশ্রু নিঃসরণ ক্ষমতা হারিয়ে চরম খসখসে ও শুষ্ক হয়ে পড়েছে [১৩.১]। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে এটি অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি মারাত্মক চিকিৎসাগত ক্ষতিকর অভ্যাস। অনেকেই ভাবেন ফ্রিল্যান্সিং বা অফিসের কাজে একটানা ৪-৫ ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর চোখ লাল হওয়া, কষা ভাব হওয়া বা বালি ফোটার মতো খচখচানি কষ্ট শুরু হওয়ামাত্রই আই স্পেশালিস্টের কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; কাছের ফার্মেসি থেকে যেকোনো একটি লালচে ভাব কমানোর ওটিসি ড্রাপস কিনে চোখে দিয়ে সময় নষ্ট করেন [১৩.১]। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত চোখের অ্যানাটমি ও ফিজিওলজি অনুযায়ী, মানুষ যখন কোনো স্ক্রিনের দিকে পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তখন চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা টিয়ার ফিল্ম বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়, যাকে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ড্রাই আইজ সিন্ড্রোম' (Dry Eyes Syndrome) বলি।

কোনো ওটিসি কেমিক্যাল ড্রপ এই ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী মেটাবলিক শুষ্কতাকে প্রাকৃতিকভাবে নিরাময় করতে পারে না। আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট টিয়ার ব্রেক-আপ টাইম (TBUT) পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল ড্রাগসগুলো সেবন বা ব্যবহার করতে থাকবেন, তখন তা চোখের রক্তনালীগুলোকে কৃত্রিমভাবে সংকুচিত করে দেয়। এর সরাসরি রিবাউন্ড মেকানিজম হিসেবে, ওষুধ বন্ধ করামাত্রই চোখ আগের চেয়ে দ্বিগুণ তীব্রতায় লাল ও কষা হয়ে যায়। একপর্যায়ে চোখের ভেতরের কর্নিয়া স্তর তীব্র এসিডের মতো পুড়ে স্থায়ী ক্রাস্ট বা ঘা তৈরি করে, যার ফলে রোগী চিরতরে মৃদু আলোর ভিশন হারিয়ে ফেলার মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন।

ডিজিটাল স্ক্রিনজনিত এই ক্রনিক মেকানিক্যাল ক্লান্তি শান্ত করার এবং কর্নিয়ার প্রাকৃতিক অশ্রু স্তর সচল রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ি বা ড্রপের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের কাজের ভঙ্গি ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন টাইমের পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো সবুজ বস্তুর দিকে তাকিয়ে চোখকে প্রাকৃতিকভাবে আরাম দেওয়ার ওষধি '২০-২০-২০ নিয়ম' (20-20-20 Rule) লক করুন। ইনফ্লেমেশন ও চোখের অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে [১৩.১]। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের কুসুম, তাজা দেশী ছোট কাঁচকি মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা চোখের অশ্রুর পিচ্ছিল লুব্রিকেন্ট সচল রাখতে সাহায্য করে [১৩.১]। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন [১৩.১]।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

তানভীর আহমেদ

ফ্রিল্যান্সিং করি, সারাদিন স্ক্রিনে থাকি। ওটিসি ড্রপ দিতাম। এখন ২০-২০-২০ নিয়ম মানি, অনেক ভালো।

ফারহানা ইয়াসমিন

চোখ শুষ্ক লাগত, রেডনেস রিলিফ ড্রপ দিতাম। TBUT পরীক্ষা করিয়ে জানলাম মিবোমিয়ান গ্রন্থি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।

রাফসানুল হক

অফিসে ৮ ঘণ্টা স্ক্রিন। চোখ জ্বালা করত। ওমেগা-৩ ও পানি বাড়ানোর পর অনেক উপকার পেয়েছি।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।