শরীর একটু দুর্বল বা ফ্যাকাশে লাগলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কড়া আয়রন বড়ি কিনে গিলছেন?
সাবধান! শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার এই নীরব বিষক্রিয়া আপনার লিভার ও হরমোন কোষকে স্থায়ীভাবে বিকল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
শরীর ফ্যাকাশে হওয়া বা অ্যানিমিয়া (Anemia) চেনার সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি (OTC) কড়া আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার অভ্যাস শরীরে 'Iron Overload' তৈরি করে লিভারের টিস্যুকে স্থায়ীভাবে শক্ত ও অকেজো করে দিতে পারে।
আমাদের অভ্যন্তরীণ মেডিসিন ও কার্ডিও-মেটাবলিক ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক রোগী আসেন, যারা অনবরত অতিরিক্ত ক্লান্তি, সামান্য হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠা, বুক ধড়ফড় করা অথবা চোখ ও নখ ফ্যাকাশে মনে হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগীরা কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা রক্তে রক্তের হিমোগ্লোবিন ও ফেরিটিন (Serum Ferritin) রিজার্ভের সঠিক সমীকরণ না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা রক্তের ক্যাপসুল কিনে মাসের পর মাস খেতে থাকেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত হেমাটোলজি ও যকৃত বিপাকীয় লজিক অনুযায়ী, মানুষের শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন বা লোহা প্রাকৃতিকভাবে বাইরে বের করে দেওয়ার কোনো স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারিং মেকানিজম নেই।
আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট অ্যান্ডোক্রাইন গাইডলাইন ছাড়া কড়া কেমিক্যাল আয়রন বড়ি অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোহা রক্তে ভেসে বেড়াতে না পেরে সরাসরি লিভার, হৃদপিণ্ড এবং অগ্ন্যাশয়ের সুস্থ কোষগুলোর ওপর বিষাক্ত বর্জ্য বা মেদ হিসেবে স্থায়ীভাবে জমা হতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'হেমোক্রোমাটোসিস' (Hemochromatosis) বা আয়রন ওভারলোড টক্সিসিটি বলা হয়। এই অতিরিক্ত লোহা যকৃতের কোষের ভেতর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে লিভারের টিস্যুগুলোকে চিরতরে শক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে, যাকে লিভার ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস বলা হয়। তাছাড়া এটি প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন নিঃসরণকারী বিটা কোষগুলোকে পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীরে তীব্র ব্রোঞ্জ ডায়াবেটিস দেখা দেয় এবং হার্টের পেশী দুর্বল হয়ে কার্ডিওমাইওপ্যাথির সৃষ্টি হয়।
শরীরের ক্লান্তি বা রক্তস্বল্পতা দূর করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া রাসায়নিক ক্যাপসুল হুট করে মুখে না দিয়ে ব্যথার ও দুর্বলতার আসল মূল কারণটি সনাক্ত করার ভেতর। থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) বা জিনেটিক মাইনর অ্যানিমিয়া রোগীদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই আয়রন বেশি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই বড়ি সেবন সরাসরি বিষের মতো কাজ করে। কোনো ওটিসি ওষুধের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের অধীনে সিবিসি (CBC) ও সিরাম ফেরিটিন পরীক্ষা করিয়ে রক্তের আসল অবস্থা নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত Processesড জাঙ্ক ফুড সম্পূর্ণ বর্জন করুন। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের কুসুম, মুরগির কলিজা, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। আয়রন শোষণের গতি বাড়াতে খাবারের পরপরই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ তাজা আমলকী বা লেবুর রস খান। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.5 লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
শরীর দুর্বল লাগলেই নিজে নিজে আয়রন বড়ি খেতাম। পরীক্ষা করিয়ে জানলাম থ্যালাসেমিয়া মাইনর। ডাক্তার বললেন আয়রন খাওয়া আমার জন্য বিষ।
CBC ও ফেরিটিন পরীক্ষা করিয়ে সঠিক ডোজ জানতে পারলাম। আগে নিজে নিজে খেয়ে লিভার এনজাইম বাড়িয়েছিলাম। সতর্ক থাকুন সবাই।
আমলকী ও লেবুর রস দিয়ে আয়রন শোষণ বাড়াচ্ছি। ওষুধ ছাড়াই শরীর আগের চেয়ে ভালো লাগছে। এই গাইড সত্যিই উপকারী।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
