ব্লাড সুগার চিরতরে ভালো হবে মনে করে কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি ডায়াবেটিস হারবাল বড়ি খাচ্ছেন?
জানুন ল্যাবরেটরিতে আনভেরিফাইড কড়া উদ্ভিজ্জ কেমিক্যালের এই অতিরিক্ত লোড কীভাবে আপনার সংবেদনশীল লিভার ও কিডনিকে ধ্বংস করছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ব্লাড সুগার হুট করে নামানোর অন্ধ মোহে চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) জাদুকরী ডায়াবেটিস বড়ি বা করলার কড়া রস অনবরত খাওয়ার অভ্যাস যকৃতের কোষে তীব্র মেটাবলিক টক্সিসিটি তৈরি করে লিভার ও কিডনি ফেইলিওরের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিক হরমোন কেয়ার ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক ডায়াবেটিস ও লিভার-কিডনি ফেইলিওরের মুমূর্ষু রোগী আসেন, যারা রক্তে শর্করার মাত্রা বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি ওটিসি (OTC) ড্রাগস খাওয়া শুরু করেছিলেন। এই রোগীরা বিভিন্ন চটকদার অনলাইন বিজ্ঞাপন বা লোকমুখে শুনে নিজে নিজে বছরের পর বছর 'ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করার ভেষজ বড়ি', ক্ষতিকর করলার কড়া তরল অথবা ডাক্তারের কোনো লিখিত গাইডলাইন ছাড়া কড়া মেথি এক্সট্র্যাক্ট ক্যাপসুল অনবরত সেবন করে আসছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার বায়োলজি ও এন্ডোক্রাইন লজিক অনুযায়ী, অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস থেকে ক্ষরিত ইনসুলিন হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করায়; কোনো কাঁচা উদ্ভিজ্জ রস রাতারাতি এই অভ্যন্তরীণ ইনসুলিনের হরমোন মেকানিজমকে সচল করতে পারে না।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা (HbA1c / Serum Creatinine) ছাড়া হুটহাট বাণিজ্যিক কেমিক্যাল হারবাল বড়ি অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন ওই কাঁচা পাতার অতিরিক্ত ভারী ক্ষতিকর ভারী মেটাল ও আনভেরিফাইড উপাদানগুলো প্রসেস করার তীব্র চাপ সরাসরি লিভার ও কিডনির নেফ্রন কোষের ওপর পড়ে। এর সরাসরি ফলে, রক্তে সুগার সাময়িকভাবে কম মনে হলেও তা যকৃতের ভেতরের মসৃণ কোষ আস্তরণগুলো অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার অ্যান্ড রেনাল ইনজুরি' বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় ফ্যাটি লিভার ও তীব্র মেটাবলিক এসিডোসিসের জন্ম দেয় এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত করে রোগীকে লাইফ সাপোর্টের দিকে ঠেলে দেয়।
রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ এবং কোষে জমে থাকা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রাকৃতিকভাবে কমানোর একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া বাণিজ্যিক ভেষজের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্তের ফাস্টিং ইনসুলিন ও লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে আপনার সঠিক পুষ্টি গাইডলাইন লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই কোষে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরির প্রধান ট্রিগার। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। ওটস চিনি শোষণের গতি ধীর করে ইনসুলিনের ওপর কাজের লোড অনেক কমিয়ে দেয়; তাই পরিমিত ওটস ডায়েটে রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ভেষজ বড়ি খেয়ে ডায়াবেটিস ভালো হবে ভেবেছিলাম। লিভার এনজাইম বেড়ে ডাক্তার দেখিয়েছি। ভেষজ জিনিসও ক্ষতিকর হতে পারে।
করলার রস খেতে খেতে কিডনির ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেছে। ডাক্তার বললেন আর খাওয়া যাবে না। সতর্ক থাকুন সবাই।
মা অনলাইনে অর্ডার করে ভেষজ বড়ি খাচ্ছিলেন। লিভার ড্যামেজ ধরা পড়ার পর বন্ধ করেছেন। এই আর্টিকেল সবাইকে সতর্ক করবে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
