শিশুর চোখের মণি কি হঠাৎ একদিকে বাঁকা দেখাচ্ছে কিংবা টিভি দেখার সময় খুব কাছে চলে যাচ্ছে?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কেমিক্যাল ড্রপ বা ক্ষতিকর কাজল ব্যবহারের এই ভুল আপনার সন্তানের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে অন্ধ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
শিশুর চোখের মণি বাঁকা হওয়া বা অলস চোখ (Amblyopia) ডিসঅর্ডার নিয়ন্ত্রণে পুষ্টিবিদের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া কেমিক্যাল আই ড্রপ বা পারদ মিশ্রিত ক্ষতিকর কাজল চোখে মাখানো এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই তীব্র ক্ষার বাচ্চার কর্নিয়া পুড়িয়ে স্থায়ী অন্ধত্ব ডেকে আনে।
আমাদের পেডিয়াট্রিক অফথালমোলজি ও চাইল্ড ভিশন ডেভেলপমেন্ট ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক অলস চোখ এবং ভুল কেমিক্যালের অপব্যবহারজনিত কর্নিয়াল ড্যামেজে আক্রান্ত শিশু রোগী আসে, যাদের মস্তিস্ক ও চোখের স্বাভাবিক বাইনোকুলার ভিশন নেটওয়ার্ক ভুল প্র্যাকটিসের প্রভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবারের মায়েদের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল মনস্তাত্ত্বিক ধারণা কাজ করে যে, বাচ্চার চোখের মণি সামান্য বাঁকা বা ট্যারা চোখ (Squint) থাকলে তাকে সাধারণ লোকজ স্বভাব মনে করে অবহেলা করা হয় এবং মণি সোজা করার অন্ধ মোহে তারা রাস্তার পাশের হাতুড়ে ওস্তাদের কাছ থেকে পারদ বা সিসা মিশ্রিত কড়া কাজল অথবা কড়া ওটিসি ড্রাপস কিনে বাচ্চার চোখে অনবরত লাগাতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বাচ্চার নরম মস্তিস্কের ও চোখের বিকাশের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার নিউরো-বায়োলজি ও পেডিয়াট্রিক অফথালমোলজি লজিক অনুযায়ী, শিশুদের ট্যারা চোখ বা অলস চোখ কোনো অলৌকিক অভিশাপ বা জিনের আসর নয়; এটি হলো মস্তিস্কের ফ্রন্টাল লোবের নিউরন থেকে চোখের এক্সট্রাওকুলার পেশীগুলোতে পাঠানো স্বাভাবিক ইলেকট্রিকাল সংকেত যখন মেটাবলিক ও রিফ্র্যাক্টিভ ত্রুটির কারণে সুশৃঙ্খলভাবে সচল হতে পারে না।
আপনি যখন কোনো শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট সাইকোমেট্রিক ও রিফ্র্যাকশন পরীক্ষা ছাড়া বাচ্চার নরম চোখে কড়া কেমিক্যাল লিকুইড ড্রপ বা ক্ষারীয় উপাদান অনবরত পুশ করবেন, তখন তা বাচ্চার চোখের স্বাভাবিক কর্নিয়া স্তরকে এক নিমিষে পুরোপুরি অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে ড্যামেজ করে ফেলে। এর সরাসরি ক্ষতিকর ফলস্বরূপ, সাময়িকভাবে কিছুটা চোখের প্রেশার কম মনে হলেও তা বাচ্চার ভেতরের স্বাভাবিক আইকিউ (IQ) ও কগনিটিভ মেমোরি ডেভলপমেন্টের সাথে মস্তিস্কের ভিশন সেন্টারের সংযোগ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অ্যাম্বলিওপিয়া' বা অলস চোখ বলা হয়। এটি বাচ্চার নরম চোখের ভেতরের রেটিনা ও লেন্সের সংযোগ পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল বা অপটিক্যাল ফেইলিওরের মারাত্মক জীবনঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে, যা কোনো উন্নত চিকিৎসায়ও আর পূর্বের সুস্থ অবস্থায় ফেরে না।
বাচ্চার চোখের মণি স্বাভাবিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার এবং দৃষ্টিশক্তি প্রাকৃতিকভাবে ধরে রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল ড্রপের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের মেটাবলিক লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। বাচ্চার মেটাবলিজম সচল রাখতে চিনি, চকলেট, চিপস, কোমল পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে [১৩.১]; কারণ চিনি বাচ্চার মস্তিস্কের স্নায়ুর উত্তেজনা ও চোখের হাইপার-অ্যাক্টিভিটিকে বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের কুসুম, তাজা দেশী ছোট কাঁচকি মাছ এবং ভিটামিন-এ ও লুটেইন সমৃদ্ধ দেশী পাকা গাজর, পালং শাক খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা চোখের পেশী ও স্নায়ু মজবুত রাখতে সাহায্য করে [১৩.৩]। বাচ্চার চোখ ও মস্তিস্ক শান্ত করতে মোবাইল, টিভি বা ট্যাবের ডিজিটাল স্ক্রিন দেখা আজই শতভাগ নিষিদ্ধ করুন এবং মস্তিস্কের সামাজিক কোষগুলোকে সক্রিয় করতে প্রতিদিন শান্ত পরিবেশে বিকেলে অন্তত ৪০ মিনিট খোলা মাঠে খেলাধুলা করার সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলুন [১৩.৯]।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
মেয়ের চোখের মণি বাঁকা ছিল। কাজল লাগাতাম। বিশেষজ্ঞ দেখে বললেন অলস চোখ। এখন প্যাচিং থেরাপি চলছে।
ছেলে টিভির খুব কাছে বসত। স্ক্রিন বন্ধ করে খোলা মাঠে খেলাধুলা শুরু করলাম। অনেক উন্নতি।
বাচ্চার চোখে ওটিসি ড্রপ দিতাম। কর্নিয়া জ্বলে গিয়েছিল। এখন শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাধীন।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
