লিভারের চর্বি বা ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি ডিটক্স সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন?
জানুন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত নয় এমন কেমিক্যাল ক্যাপসুলের অতিরিক্ত সেবন কীভাবে আপনার যকৃতের প্রধান ফিল্টারিং কোষগুলোকে স্থায়ীভাবে পুড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ফ্যাটি লিভার বা লিভারের প্রদাহ দূর করার জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া লিভার টনিক, মেদ কমানোর চা বা আনভেরিফাইড ডিটক্স ক্যাপসুল খাওয়ার অভ্যাস যকৃতের ভেতরে তীব্র রাসায়নিক টক্সিসিটি তৈরি করে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক ফ্যাটি লিভার ও লিভার এনজাইম (SGPT/SGOT) অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়া রোগী আসেন, যারা আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ ধরা পড়ার পর চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি ওটিসি (OTC) ড্রাগস খাওয়া শুরু করেছিলেন। এই রোগীরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া বা চটকদার অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে নিজে নিজে বছরের পর বছর 'লিভার ডিটক্স সাপ্লিমেন্ট', উচ্চ মাত্রার কেমিক্যাল ওমেগা-৩ অথবা ডাক্তারের কোনো লিখিত গাইডলাইন ছাড়া কড়া ভিটামিন ই (Vitamin E) ক্যাপসুল অনবরত সেবন করে আসছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার হেপাটোলজি অনুযায়ী, মানুষের লিভার নিজেই শরীরের সবচেয়ে বড় ও প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন অর্গান, যা খাবার থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এবং ক্ষতিকর টক্সিন ছেঁকে রক্ত পরিষ্কার করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা ছাড়া হুটহাট বাণিজ্যিক কেমিক্যাল সাপ্লিমেন্ট অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন ওই সিন্থেটিক ক্যাপসুলের অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং আনভেরিফাইড ভারী উপাদানগুলো প্রসেস করার তীব্র চাপ সরাসরি লিভার কোষের ওপর পড়ে। এর সরাসরি ফলে, লিভার সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো যকৃতের ভেতরের মসৃণ কোষ আস্তরণগুলো অ্যাসিডের মতো পুড়ে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি' (DILI) বলা হয়, যা এক নিমেষে ফ্যাটি লিভার গ্রেড-১ কে তীব্র ফাইব্রোসিস বা লিভার সিরোসিসের মারাত্মক রূপের দিকে ঠেলে দেয় এবং রক্তে এনজাইমের ভারসাম্য পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলে।
ফ্যাটি লিভার ও যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া বাণিজ্যিক ক্যাপসুল বা সিরাপের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের অধীনে রক্তের লিপিড প্রোফাইল এবং লিভারের ফাইব্রোস্ক্যান (FibroScan) করিয়ে মূল মেটাবলিক সমস্যাটি চিহ্নিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল, ময়দা, ডালডা এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত Processesড জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই যকৃতে অতিরিক্ত চর্বির প্লাক জমার প্রধান কাঁচামাল। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত এবং পরিমিত পানি পান করুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি আস্ত পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করুন। লেবুর সাইট্রিক এসিড লিভারে বিশেষ এক ধরণের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে, যা যকৃতের ভেতরের পুরোনো মেদ প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে শরীর থেকে ফ্ল্যাশ আউট করে দেয়। কোষে জমে থাকা বাড়তি চর্বি পোড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ার পর নিজে নিজে লিভার টনিক খেতাম। এনজাইম আরও বেড়ে গেল। ডাক্তার বললেন ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি। সত্যিই ভয়ংকর।
লেবুর রস আর হাঁটার অভ্যাস শুরু করেছি। ৩ মাসে আল্ট্রাসনোগ্রামে ফ্যাটি লিভার অনেক কমেছে। সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করেছি।
সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন দেখে লিভার ডিটক্স ক্যাপসুল কিনেছিলাম। এই আর্টিকেল পড়ে বুঝলাম কত বড় ভুল করেছিলাম। সবাইকে সতর্ক করি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
