শিশুর হঠাৎ অতিরিক্ত ও দ্রুত ওজন কমে যাচ্ছে এবং ঘন ঘন পানি পিপাসা পাচ্ছে? ব্লাড সুগারের গোলমাল নয় তো?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া ডায়াবেটিসের বড়ি বা ভেষজ টনিক আপনার সন্তানের নরম কিডনিকে চিরতরে বিকল করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

শিশুর রক্তে শর্করার আধিক্য বা টাইপ-১ ডায়াবেটিস (Type 1 Diabetes) ধরা পড়লে চিকিৎসকের এন্ডোক্রাইন পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) ডায়াবেটিসের বড়ি খাওয়ানো এক জীবনঘাতী ভুল; কারণ বাচ্চার দেহে ইনসুলিনের সম্পূর্ণ অভাব বড়িতে সারে না বরং তা 'DKA' তৈরি করে শিশুকে কোমায় ঠেলে দেয়।

আমাদের পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজি ও শিশু হরমোন বিশেষায়িত জরুরি বিভাগে প্রায়ই এমন অনেক আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুরা আসে, যারা তীব্র বমি, দ্রুত ভারী শ্বাস নেওয়া এবং অচেতন অবস্থায় আইসিইউ (ICU) বেডে ভর্তি হতে বাধ্য হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবারের অভিভাবকেরা বা মায়েরা বাচ্চার হুট করে অতিরিক্ত ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘন ঘন প্রস্রাব করা (বিশেষ করে রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলা) এবং অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি ও খাবারের পিপাসা লাগাকে সাধারণ কৃমির উপদ্রব বা গ্রোথ হরমোনের চঞ্চলতা মনে করে দীর্ঘকাল অবহেলা করেন। এর চেয়েও মারাত্মক বিপদ ঘটে যখন তারা কোনো চাইল্ড স্পেশালিস্টের পরীক্ষা ছাড়া ফার্মেসি থেকে বড়দের খাওয়ার কড়া ওরাল ডায়াবেটিসের বড়ি কিংবা অবৈজ্ঞানিক কবিরাজী গাছের কড়া রস এনে শিশুকে খাওয়াতে শুরু করেন। এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বাচ্চার লিভার ও কিডনির জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার বায়োলজি ও শিশু এন্ডোক্রাইনোলজি অনুযায়ী, শিশুদের ডায়াবেটিস বড়দের মতো নয়; এটি মূলত টাইপ-১ ডায়াবেটিস (Type 1 Diabetes), যেখানে বাচ্চার অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে বাচ্চার শরীরে প্রাকৃতিকভাবে বিন্দুমাত্র ইনসুলিন তৈরি হওয়ার চাবি বা রাস্তা অবশিষ্ট থাকে না।

এই বাস্তব সত্য না জেনে আপনি যখন বাচ্চার সংবেদনশীল পেটে কৃত্রিম ওরাল কেমিক্যাল বড়ি অনবরত পুশ করবেন, তখন তা রক্তে শর্করার বিষাক্ত লোড কমাতে বিন্দুমাত্র কাজ করতে পারে না। উল্টো কোষগুলো শক্তির প্রধান জ্বালানি গ্লুকোজ না পাওয়ায় লিভারের জমানো মেদ ও ফ্যাট দ্রুত পুড়িয়ে রক্তে 'কিটোন বডি' নামক এক মারাত্মক অ্যাসিডের বিষক্রিয়া তৈরি করে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস' (DKA) বলা হয়। এই জটিল অবস্থা তৈরি হওয়ামাত্রই বাচ্চার মস্তিস্কের কোষগুলো অ্যাসিডের তীব্র দহনে স্থায়ীভাবে অবশ হয়ে যায়, যা কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই শিশুকে সরাসরি গভীর কোমায় ঠেলে দেয় এবং বাচ্চার নরম কিডনি ও মেটাবলিক সিস্টেমকে এক নিমিষে বিকল করে দেয়।

শিশুর টাইপ-১ ডায়াবেটিস ও গ্রোথ হরমোনের স্বাভাবিক গতি রক্ষা করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের শর্টকাট মোহের পেছনে বাচ্চার গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে একজন শিশু হরমোন বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্তের ফাস্টিং সুগার, HbA1c এবং সি-পেপটাইড (C-Peptide) পরীক্ষা করিয়ে বাচ্চার দেহে ইনসুলিনের আসল রিজার্ভ নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করার ভেতর। এই শিশুদের বেঁচে থাকার এবং প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়ার একমাত্র সুরক্ষাকবচ হলো চিকিৎসকের নির্দেশিত ও এফডিএ অনুমোদিত নিরাপদ মানব ইনসুলিন থেরাপির (Insulin Therapy) সঠিক সেবন নিশ্চিত করা। বাচ্চার ওষধি মেটাবলিক যত্ন হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে ওটস, লাল চালের নরম ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, তাজা দেশী ছোট মাছ এবং উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ কাঠবাদাম গুঁড়ো খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে শিশুকে দৈনিক পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

রুবিনা আক্তার

বাচ্চার ঘন ঘন প্রস্রাব আর ওজন কমে যাচ্ছিল। HbA1c টেস্ট করিয়ে টাইপ-১ ধরা পড়েছে। ইনসুলিন থেরাপি শুরু করেছি।

মো. শাহীন আলম

মেয়েকে কবিরাজী টনিক খাওয়াতাম। DKA হয়ে ICU তে ভর্তি। এখন নিয়মিত ইনসুলিন দিই।

ফারহানা কবির

C-Peptide টেস্ট করিয়ে ইনসুলিন ডোজ ঠিক করেছি। ওটস আর ছোট মাছ খায়। সুগার কন্ট্রোলে আছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।