পঁচিশ পার হতেই কি কপাল বা চোখের কোণে সূক্ষ্ম বলিরেখা দেখা দিচ্ছে? বয়স লুকিয়ে রাখার গোপন ওষধি নিয়মটি জানেন তো?

নাকি বাজারচলতি দামি কোলাজেন পাউডার খেয়ে আপনার লিভার ও শরীরের পরিপাক প্রক্রিয়াকে আরও ক্লান্ত করে তুলছেন?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কমার্শিয়াল Collagen Powder গিললে বা দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম মুখে লেপলে কোনো লাভ হয় না; কারণ আসল কোলাজেন ত্বক নিজে থেকে তৈরি করে, যা শুধুমাত্র গভীর ঘুম এবং সঠিক ডিটক্স ডায়েটের মাধ্যমেই সচল রাখা সম্ভব।

আমাদের অ্যাসথেটিক মেডিসিন ও অ্যান্টি-এজিং সেন্টারে প্রতিদিন এমন অনেক সচেতন নারী ও পুরুষ আসেন, যারা পঁচিশ বা ত্রিশ বছর পার হওয়ামাত্রই কপালে, মুখের চারপাশে বা চোখের কোণে সূক্ষ্ম বলিরেখা (Fine Lines ও Wrinkles) দেখে চরম প্যানিকড হয়ে পড়েন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বক আলগা হয়ে যাওয়া বা লাবণ্য হারানো একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়া।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, মানুষের ত্বকের ভেতরের স্তরে 'কোলাজেন' (Collagen) এবং 'ইলাস্টিন' নামক বিশেষ দুটি প্রোটিন থাকে, যা চামড়াকে টানটান, মসৃণ ও সতেজ রাখতে দেয়ালের পিলারের মতো কাজ করে। সাধারণত পঁচিশ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছর শরীর প্রাকৃতিকভাবেই এই কোলাজেন উৎপাদনের গতি প্রায় ১ শতাংশ করে কমিয়ে দিতে শুরু করে, যাকে আমরা 'সেলুলার এজিং' বলি।

আজকাল অনেক তরুণ-তরুণী ইন্টারনেটে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে রাতারাতি বয়স ধরে রাখার জন্য কৃত্রিম উপায়ে তৈরি দামি কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট বা পাউডার কিনে খাওয়া শুরু করেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কুঅভ্যাস। এই প্রক্রিয়াজাত পাউডারগুলো যখন আমাদের পাকস্থলীতে যায়, তখন পরিপাকতন্ত্রের এসিড এগুলোকে সাধারণ অ্যামাইনো এসিডে ভেঙে ফেলে, যা সরাসরি ত্বকের তারুণ্য ফিরিয়ে আনতে বিন্দুমাত্র কাজ করতে পারে না। উল্টো এই ভারী সাপ্লিমেন্টগুলোর অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান প্রসেস করতে গিয়ে আমাদের সংবেদনশীল লিভার ও কিডনির ওপর মারাত্মক কাজের চাপের সৃষ্টি হয়।

ত্বকের অকাল বার্ধক্য (Premature Aging) রোধ করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার লাইফস্টাইলের ভেতর। প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র এবং গভীর ঘুম নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, কারণ এই ঘুমের সময় মস্তিস্ক থেকে হিউম্যান গ্রোথ হরমোন (HGH) নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবেই ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোলাজেন ফাইবারগুলোকে নতুন করে পুনর্গঠন ও মেরামত করে।

আমার ওষধি পরামর্শ হলো—ত্বকের বাহ্যিক আর্দ্রতা ও লাবণ্য ধরে রাখতে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার পূর্বে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন (Sunscreen) ব্যবহার করুন, কারণ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মিই ত্বকের কোলাজেনকে সবচেয়ে দ্রুত ভেঙে ফেলে। খাবারে রিফাইন্ড চিনি ও প্রক্রিয়াজাত ফাস্টফুড সম্পূর্ণ বর্জন করুন, কারণ চিনি রক্তের কোষের সাথে মিশে 'গ্লাইকেশন' নামক ক্ষতিকর প্রক্রিয়া তৈরি করে ত্বকের নমনীয়তা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয়। এর বদলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ দেশীয় টক ফল, আমলকী, গ্রিন টি এবং এক মুঠো আখরোট বা কাঠবাদাম রাখুন। শরীর ও ত্বককে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত রাখতে দিনে অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

শারমিন সুলতানা

২৮ বছর বয়সে কপালে ফাইন লাইনস দেখে প্যানিক হয়ে কোলাজেন পাউডার কিনেছিলাম। ডাক্তার ম্যাডামের কথা পড়ে বুঝলাম ঘুম আর খাবারই আসল সমাধান।

তানভীর হোসেন

রেটিনল সিরাম শুরু করেছি, ৩ মাসে বলিরেখা অনেক কমে এসেছে। সানস্ক্রিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছি।

ফারজানা ইসলাম

আমলকী আর গ্রিন টি খাওয়া শুরু করেছি, ত্বক আগের চেয়ে অনেক টানটান লাগে। ধন্যবাদ এই গাইডের জন্য।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।