ঘাড়ের তীব্র ব্যথায় কি অনবরত পেইনকিলার খাচ্ছেন এবং সবসময় ফোমের নেক কলার জড়িয়ে রাখছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি ড্রাগস ও কলারের এই অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার ঘাড়ের পেশীকে আজীবনের জন্য অলস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ক্ষয় বা Cervical Spondylosis কোনো কেমিক্যাল পেইনকিলারে কখনো স্থায়ীভাবে জোড়া লাগে না; বরং চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া অনবরত কড়া ব্যথানাশক বড়ি খাওয়া ও সবসময় ফোমের কলার বেঁধে রাখার কুঅভ্যাস ঘাড়ের মাংসপেশীকে চিরতরে নিস্তেজ ও অকেজো করে দেয়।
আমাদের স্পাইন সার্জারি ও ট্রমা রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক মেরুদণ্ডের জটিলতায় ভোগা রোগী আসেন, যারা দীর্ঘস্থায়ী ঘাড় ব্যথা, ঘাড় থেকে ব্যথা পিঠের দিকে ছিটকে যাওয়া, মাথা ঘোরানো অথবা দুই হাতের আঙুল অনবরত ঝিমঝিম (Numbness) করার তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ঘাড়ের রগ কষে যাওয়া বা ব্যথা শুরু হওয়ামাত্রই তারা কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার গিলে খেয়ে নেন অথবা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সারাদিন ফোমের নরম নেক কলার (Cervical Collar) গলায় জড়িয়ে অলসভাবে বসে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত স্পাইনাল অ্যানাটমি ও বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী, কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ ঘাড় বাঁকা করে থাকা বা ভুল বালিশ ব্যবহারের চাপে ঘাড়ের কশেরুকা বা ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক যখন প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে ক্ষয়ে যায়, তখন তাকে সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস বলা হয়। এর ফলে হাড়ের ভেতরের সূক্ষ্ম স্নায়ুর শিকড়গুলোর (Nerve Roots) ওপর তীব্র মেকানিক্যাল কম্প্রেশন বা চাপের সৃষ্টি হয়।
কোনো রাসায়নিক পেইনকিলার এই ক্ষয়ে যাওয়া হাড়ের মেকানিক্যাল গঠন বা স্নায়ুর চাপকে টেনে প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত করতে পারে না। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে অনবরত এই কড়া ব্যথানাশক ড্রাগসগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলী পুড়িয়ে রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে এবং কিডনিকে এক নিমিষে ড্যামেজ করে ক্রনিক কিডনি বিকলতার (CKD) দিকে ঠেলে দেয়। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, চিকিৎসকের গাইডলাইন ছাড়া সারাদিন গলায় কড়া কলার বা বেল্ট বেঁধে রাখলে ঘাড়ের হাড়কে ধরে রাখার প্রধান প্রাকৃতিক পিলার বা ডিপ সারভিক্যাল পেশীগুলো (Deep Cervical Muscles) অলস হয়ে রক্ত সঞ্চালন হারিয়ে ফেলে এবং সময়ের সাথে সাথে স্থায়ীভাবে শুকিয়ে নিস্তেজ হয়ে যায়, যা ঘাড়ের সুরক্ষাপ্রাচীর চিরতরে ধ্বংস করে রোগীকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।
ঘাড়ের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল যন্ত্রণা শান্ত করার এবং স্নায়ুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের বসার ভঙ্গি ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন স্পাইন সার্জনের অধীনে ঘাড়ের একটি এক্স-রে বা এমআরআই (MRI) পরীক্ষা করিয়ে স্নায়ুর আসল অবস্থা নিখুঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো হাড়ের চারপাশের প্রদাহ বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। ঘাড়ের চারপাশের পেশী প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকের নির্দেশিত মৃদু আইসোমেট্রিক ব্যায়াম (Isometric Neck Exercises) নিয়ম মেনে প্রতিদিন করুন। শোয়ার সময় উচু বালিশ সম্পূর্ণ বর্জন করে নরম পাতলা অর্থোপেডিক বালিশ ব্যবহার করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ঘাড় ব্যথা হলেই কলার পরে থাকতাম। এখন ঘাড় আরও শক্ত হয়ে গেছে। ডাক্তার কলার বাদ দিতে বলেছেন।
এক্স-রে করিয়ে ডাক্তারের ব্যায়াম মেনে চলছি। কলার ছাড়াই এখন অনেক স্বস্তি।
উঁচু বালিশ বাদ দিয়ে পাতলা বালিশ নিয়েছি। ঘাড়ের ব্যথা কমে গেছে, প্রতিদিন ব্যায়াম করি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
