হঠাৎ করেই কি মুখে বা থুতনিতে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্ত লোম গজাচ্ছে? বারবার ওয়্যাক্সিং বা থ্রেডিং করেও কি মুক্তি মিলছে না?

জানুন ভেতরের হরমোনের জটিল গোলমাল কীভাবে আপনার ত্বকের রোমকূপের গঠনকে স্থায়ীভাবে পুরুষালী লুকে রূপান্তর করছে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

নারীদের চিবুকে বা গালে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্ত কালো লোম গজানো কোনো সাধারণ ত্বকের সমস্যা নয়; এটি মূলত শরীরের ভেতরের অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের আধিক্যের এক স্পষ্ট এন্ডোক্রাইন সংকেত, যা পার্লারের থ্রেডিংয়ে কখনো মূল থেকে সারে না।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হরমোনাল ডার্মাটোলজি ওএসডিতে প্রতিদিন এমন অনেক তরুণী ও মায়েরা আসেন, যারা থুতনিতে, স্তনের চারপাশে বা তলপেটে পুরুষদের মতো শক্ত, মোটা ও কালো লোম গজানোর সমস্যায় তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে 'হিরসুটিজম' (Hirsutism) বলা হয়ে থাকে।

আমাদের দেশের মা-বোনেরা এই সমস্যা দেখা দেওয়ামাত্রই কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি বিউটি পার্লারে ছুটে যান এবং অনবরত টুইজিং, প্লাকিং, কড়া ওয়্যাক্সিং বা সুতো দিয়ে থ্রেডিং করতে শুরু করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, বাইরের এই যান্ত্রিক বা কড়া টানাটানির ফলে রোমকূপের গোড়া বা চুলের ফলিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে তীব্র ফলিকুলাইটিস ও জেদি ব্রণের কালো দাগের সৃষ্টি করে, কিন্তু ভেতরের হরমোনের কারণে লোম গজানো বিন্দুমাত্র বন্ধ হয় না।

হিরসুটিজমের মূল কারণ হলো নারীদের জিমনেসিয়াম বা ওভারিতে যখন অ্যান্ড্রোজেন (Androgen) বা বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন নামক পুরুষ হরমোনের নিঃসরণ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। আমাদের দেশে ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অলস জীবনযাত্রার ফলে তৈরি হওয়া পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) এবং তীব্র ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সই এর জন্য প্রধানত দায়ী। রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ডিম্বাশয়কে অতি-উত্তেজিত করে বেশি বেশি পুরুষ হরমোন তৈরি করতে বাধ্য করে, যা নারীদের মুখের নরম ও সূক্ষ্ম লোমগুলোকে স্থায়ীভাবে শক্ত দাড়িতে রূপান্তর করে।

মুখের এই অনাকাঙ্ক্ষিত লোম প্রাকৃতিকভাবে ও স্থায়ীভাবে দূর করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো—সবার আগে ভেতরের মেটাবলিক ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দূর করা। কোনো চটকদার টোটকা তেল বা পার্লারের সাময়িক থ্রেডিংয়ের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন হরমোন বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্তের হরমোন প্রোফাইল (Free Testosterone/LH-FSH Ratio) এবং তলপেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG of PHO) করিয়ে মূল রোগটি চিহ্নিত করুন।

ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা ভাত, ময়দা, চিনি, মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত কোমল পানীয় শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, ডিমের সাদা অংশ এবং উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ চিয়া সিড বা আখরোট ও তিসির বীজ রাখুন। কোষে জমে থাকা মেদ ঝরাতে এবং ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) অভ্যাস গড়ে তুলুন। ওজন মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলে এই হরমোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাভাবিক ট্র্যাকে ফিরে আসে এবং নতুন করে শক্ত লোম গজানো চিরতরে বন্ধ হয়।

আর ইতিমধ্যে গজিয়ে যাওয়া পুরোনো শক্ত লোমগুলোকে কোনো রকম কাঁচা ক্ষত বা সেলাইয়ের ধকল ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যথামুক্তভাবে ধ্বংস করার একমাত্র নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত স্থায়ী উপায় হলো—লং-পালসড এনডি-ইয়াগ (Nd:YAG) ডার্মাটোলজিক্যাল লেজার হেয়ার রিডাকশন ট্রিটমেন্ট।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

নাজিয়া সুলতানা

চিবুকে শক্ত লোম দেখে পার্লারে থ্রেডিং করাতাম, কিন্তু আবার গজাতো। PCOS টেস্ট করালে বুঝলাম ভেতরের হরমোন সমস্যা। এখন ডায়েট আর ওয়াক করছি, লোম কমছে।

রুবিনা আক্তার

মেয়ের ১৮ বছর বয়সে মুখে লোম গজালো। ভয় পেয়েছিলাম। ডাক্তার ম্যাডামের পরামর্শ মেনে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি।

সুমাইয়া খান

ওজন ১০ কিলো কমিয়েছি, পিরিয়ড নিয়মিত হয়েছে, মুখে নতুন লোম গজানো বন্ধ। হরমোন ব্যালেন্স আসলেই কাজ করে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।