মাছ খাওয়ার সময় গলায় হঠাৎ কড়া কাঁটা বিঁধলেই কি অনবরত শুকনো ভাতের দলা গিলছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া মেকানিক্যাল ভাতের এই তীব্র অন্যায্য চাপ আপনার খাদ্যনালীকে ছিঁড়ে গভীর ইনফেকশন করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

গলায় মাছের তীক্ষ্ণ কাঁটা বা টনসিলে কোনো বাইরের বস্তু বিঁধলে চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া জোর করে শুকনো ভাতের বড় দলা বা শক্ত কলা গেলা এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই অন্যায্য চাপ কাঁটাকে খাদ্যনালীর আরও গভীরে ঢুকিয়ে রক্তনালী ছিঁড়ে দেয়।

আমাদের নাক, কান ও গলা এবং এন্ডোস্কোপিক ফরেন বডি রিমুভাল (Foreign Body Removal) জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক গলার কাঁচা ক্ষতে আক্রান্ত জটিল মুমূর্ষু রোগী আসেন, যাদের গলার টনসিল বা খাদ্যনালীর ভেতরের নরম দেয়ালটি অবৈজ্ঞানিক উপায়ে জোর করে শক্ত খাবার গিলার তীব্র মেকানিক্যাল চাপে ছিঁড়ে গভীর ইনফেকশনে রূপ নিয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, মাছ খাওয়ার সময় গলার হাইপোফ্যারিংস বা টনসিল ক্রিপ্টে সামান্য একটু কাঁটা বিঁধলে বা জ্যাম লাগার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন মনে করেন না। এর বদলে তারা প্রথাগতভাবে বড় বড় শুকনো ভাতের দলা গলধঃকরণ করা, কড়া শুকনো কলা চিবানো ছাড়া গিলে ফেলা কিংবা গলার ভেতর হাতুড়ে আঙুল ঢুকিয়ে জোরপূর্বক বমি করানোর চেষ্টা করতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং শ্বাসনালীর সুরক্ষার জন্য মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত গলার অ্যানাটমি ও এন্ডোস্কোপিক লজিক অনুযায়ী, গলার ভেতরের নরম আস্তরণ ও এপিথেলিয়াল চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর ঠিক পাশ দিয়েই মস্তিস্ক ও হার্টের প্রধান রক্তনালীগুলো প্রবাহিত হয়।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া অন্ধ ভরসায় শক্ত ভাতের দলা দিয়ে বিঁধে থাকা কাঁটাকে জোরপূর্বক নিচের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তখন ওই মেকানিক্যাল ঘর্ষণের ফলে সোজা বা আলতোভাবে বিঁধে থাকা কাঁটাটি আরও বাঁকা হয়ে খাদ্যনালীর নরম দেয়াল বা জেনুইন চামড়াকে ফালি ফালি করে ছিঁড়ে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ফ্যারিঞ্জিয়াল পারফোরেশন' (Pharyngeal Perforation) বলা হয়। এর সরাসরি ফলে, ক্ষতের গভীরতা এত বেশি বেড়ে যায় যে বাইরের মুখের ধুলাবালি ও থুথুর ব্যাকটেরিয়া খুব সহজে কাঁচা চামড়ার গভীরে ঢুকে তীব্র পুঁজযুক্ত ইনফেকশন বা 'ডিপ নেক অ্যাবসেস' (Deep Neck Abscess) তৈরি করে। এই ইনফেকশনের তীব্র বিষক্রিয়া গলার চারপাশের বাতাস চলাচলের প্রধান শ্বাসনালীকে টিউমারের মতো ফুলিয়ে এক সেকেন্ডে শ্বাসরোধ করে ফেলে, যার ফলে রোগী তীব্র শ্বাসকষ্ট, রক্তের বমি এবং তীব্র সেপটিক শকের শিকার হন, যা কড়া থোরাসিক সার্জারি ছাড়া নিরাময় করা অসম্ভব।

গলায় কাঁটা বিঁধার এই ভয়ানক জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ঘরোয়া টোটকার অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই নিস্পৃহ ও শান্ত থাকা। কাঁটা বিঁধলে প্যানিকড না হয়ে হালকা কুসুম গরম পানি আলতো করে চুমুক দিয়ে পান করুন অথবা একটু লেবুর রস মুখে রাখুন; লেবুর সাইট্রিক এসিড অনেক সময় নরম সূক্ষ্ম কাঁটাকে প্রাকৃতিকভাবেই নরম করে গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। কোনো মেকানিক্যাল টানাটানির পেছনে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে একজন ইএনটি কনসালটেন্টের অধীনে একটি ডাইরেক্ট ল্যারিনগোস্কোপি বা ন্যাজাল এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করিয়ে কাঁটার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিখুঁতভাবে লক করুন এবং কোনো কাঁচা ক্ষত বা সেলাইয়ের ধকল ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যথামুক্তভাবে চিকিৎসকের বিশেষ ফরেন বডি ফোর্সেপসের (Foreign Body Forceps) মাধ্যমে মাত্র এক মিনিটে কাঁটাটি নিরাপদে অপসারণের আধুনিক প্রফেশনাল চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. শাহীন আলম

গলায় কাঁটা বিঁধলে শুকনো ভাত গিলতাম। একপর্যায়ে গলা ফুলে শ্বাসকষ্ট শুরু হলো।

নাজমা বেগম

ডাক্তারের পরামর্শে ল্যারিনগোস্কোপি করিয়ে কাঁটা বের করেছি। এখন গরম পানি ও লেবুর রস খাই।

আব্দুল কাদের

মাছ খাওয়ার সময় সতর্ক থাকি, কাঁটা বিঁধলে প্যানিক করি না। গরম পানি চুমুক দিই।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।