ডায়াবেটিস বা হাই প্রেশার থাকার কারণে কি চোখের ভিশন হঠাৎ অত্যন্ত ঝাপসা হয়ে আসছে?

সাবধান! ব্লাড সুগার ও লিপিড নিয়ন্ত্রণ না করে ওটিসি ড্রপসের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার রেটিনাকে চিরতরে অন্ধ করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের চোখের ভিশন ধীর গতির ঝাপসা হওয়াকে সাধারণ মেটাবলিক ক্লান্তি ভেবে অবহেলা করা এক মারাত্মক ভুল; কারণ রক্তের উচ্চ শর্করা চোখের পেছনের সংবেদনশীল 'Retina' স্তরকে পুড়িয়ে স্থায়ী অন্ধত্ব তৈরি করে।

আমাদের অফথালমোলজি ও রেটিনা কেয়ার বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ওবেসিটির জটিলতায় আক্রান্ত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের চোখের পেছনের প্রধান আলো সংবেদনশীল পর্দা বা রেটিনাটি উচ্চ শর্করার দীর্ঘস্থায়ী বিষক্রিয়ায় অ্যাসিডের মতো পুড়ে ক্ষতবিক্ষত (Diabetic Retinopathy) হয়ে গেছে [১৩.২]। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, রক্তে সুগার বাড়ার কারণে চোখের দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা হওয়া, চোখের সামনে মাকড়সার জালের মতো কালো বিন্দু ভাসা কিংবা রাতের আলোতে দেখতে তীব্র কষ্ট হওয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ামাত্রই তারা রেটিনা স্পেশালিস্টের কাছে যান না [১৩.২]। এর বদলে তারা চশমার দোকান থেকে ঘন ঘন গ্লাস পরিবর্তন করেন অথবা নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে ওটিসি ড্রপস কিনে চোখে দিয়ে সময় নষ্ট করেন [১৩.২]। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং চোখের পেছনের প্রধান অপটিক স্নায়ুর সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস [১৩.২]। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত রেটিনাল প্যাথলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, উচ্চ রক্তে শর্করার ক্ষতিকর কেমিক্যাল ককটেল রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে ভঙ্গুর করে দেয়, যার ফলে সেখান থেকে অনবরত রক্ত ও তরল চুইয়ে লেন্সের চারপাশে জমা হতে থাকে, যাকে ম্যাকুলার এডিমা বলা হয় [১৩.২]।

আপনি যখন কোনো রেটিনা সার্জনের সুনির্দিষ্ট ফান্ডোস্কোপি (Fundoscopy) বা ওসিটি (OCT) পরীক্ষা ছাড়া কেবল ওটিসি কড়া ড্রাপসের মোহে দিন পার করবেন, তখন তা মস্তিস্কের পেছনের প্রধান দৃষ্টি স্নায়ুকে প্রাকৃতিকভাবেই চিরতরে নিস্তেজ করে ফেলে [১৩.২]। একপর্যায়ে মস্তিস্ক নিজেকে বাঁচাতে চোখে নতুন কিছু ক্ষতিকর ও ভঙ্গুর রক্তনালী তৈরি করে, যা হঠাৎ চোখের ভেতরে ফেটে গিয়ে বিশাল রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে চিরতরে পুর্ণাঙ্গ অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়, যা কোনো কড়া চিকিৎসায়ও আর পূর্বের সুস্থ অবস্থায় ফেরে না [১৩.২]।

চোখের এই ক্রনিক রেটিনাল ক্ষয় রোধ করার এবং দৃষ্টিশক্তি আজীবন প্রাকৃতিকভাবে অটুট রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল ড্রপের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং মেটাবলিক ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর [১৩.২]। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ামাত্রই বছরে অন্তত একবার রেটিনা পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক করুন [১৩.২]। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই রক্তে গ্লুকোজ অনিয়ন্ত্রিত করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও রেটিনার ক্ষয় বাড়ায় [১৩.২]। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের কুসুম, তাজা দেশী ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা রেটিনার সুক্ষ্ম রক্তনালী পুনর্গঠনে সাহায্য করে [১৩.২]। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন, রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ইনসুলিনকে সক্রিয় করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন [১৩.২]।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. ইব্রাহিম খলিল

ডায়াবেটিস আছে, চোখ ঝাপসা দেখতাম। ওটিসি ড্রপ দিতাম। ফান্ডোস্কোপি করে জানলাম রেটিনোপ্যাথি।

সালমা খাতুন

বাবার চোখের সামনে কালো বিন্দু ভাসত। রেটিনা লেজার করানোর পর অনেক উন্নতি।

ডা. মো. শাহীন আলম

টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে একবার রেটিনা পরীক্ষা জরুরি। এই গাইডটি শেয়ার করছি।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।