ঠাণ্ডা পানি বা মিষ্টি খাবার খেলেই কি দাঁতের গোড়া বিদ্যুৎ চমকানোর মতো তীব্র শিরশির করে ওঠে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি সেনসিটিভিটি পেস্টের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার আপনার দাঁতের মূল স্নায়ুকে চিরতরে পুড়িয়ে দিচ্ছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

দাঁত অতিরিক্ত শিরশির করা বা Dentin Hypersensitivity কোনো সাধারণ মেকানিক্যাল ময়লা নয়, এটি মূলত এনামেল ক্ষয়ে উন্মুক্ত হওয়া স্নায়ুরজ্জুর ক্ষত; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।

আমাদের কসমেটিক ডেন্টিস্ট্রি ও ডেন্টাল হাইপার-সেনসিটিভিটি বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক দাঁতের কড়া যন্ত্রণায় ভোগা ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের দাঁতের সুরক্ষাপ্রাচীর বা এনামেল স্তরটি ভুল ব্রাশ প্র্যাকটিসের মেকানিক্যাল ঘর্ষণে সম্পূর্ণ ক্ষয়ে ভেতরের সংবেদনশীল ডেন্টিন স্তরটি উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, ঠাণ্ডা পানি, গরম চা বা টক ফল খেলে দাঁত কনকন করা বা তীব্র অসাড়তা শুরু হওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ডেন্টিস্টের কাছে যান না। এর বদলে তারা চটকদার অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে ক্ষতিকর কয়লা, লবণ-মাজন, ওটিসি ব্লিচিং কিট অথবা কড়া পেইনকিলার ট্যাবলেট অনবরত ব্যবহার করতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং মুখগহ্বরের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ডেন্টাল অ্যানাটমি ও ফিজিওলজি অনুযায়ী, এনামেল ক্ষয়ে গেলে ডেন্টিনের ভেতরে থাকা হাজারো সূক্ষ্ম অণুনালিকা বা ডেন্টিনাল টিউবিউলস সরাসরি মুখের লালার সংস্পর্শে আসে, যা বাইরের তাপমাত্রা পরিবর্তনের সংকেতকে সরাসরি দাঁতের ভেতরের জীবন্ত মজ্জা ও মস্তিস্কের প্রধান শ্রবণ স্নায়ুর শিকড়ে এক সেকেন্ডে তরঙ্গের মতো পাঠিয়ে তীব্র ব্যথার বিস্ফোরণ ঘটায়।

কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া ডেন্টিনাল টিউবিউলসকে প্রাকৃতিকভাবে সিল বা বন্ধ করতে পারে না। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত খেতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়। একপর্যায়ে স্নায়ুর এই অনিয়ন্ত্রিত উদ্দীপনা দাঁতের গভীর মজ্জা বা পাল্প স্তরকে চিরতরে গলিয়ে দিয়ে দাঁতের গোড়ার হাড় পুড়িয়ে ক্রনিক পালপাইটিসের জন্ম দেয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।

দাঁতের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল শিরশিরানি শান্ত করার এবং এনামেল প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওরাল হাইজিনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ডেন্টিস্টের অধীনে আক্রান্ত দাঁতের পরীক্ষা করিয়ে ক্ষয়ের মূল কারণটি নিখুঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত কোমল পানীয় এবং সাইট্রাস জাতীয় কড়া টক খাবার সরাসরি চিবানো শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো দাঁতের খনিজ স্তর দ্রুত পুড়িয়ে ফেলে। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। প্রতিদিন সকাল ও রাতে নরম ব্রাশ (Soft Bristle) দিয়ে আলতো বৃত্তাকার গতিতে ব্রাশ করার ওষধি অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

ফারজানা বেগম

ঠাণ্ডা পানি খেলেই দাঁত শিরশির করত। কয়লা মাজন ব্যবহার করতাম। এখন নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ব্রাশ করি।

মো. রাকিবুল হাসান

পেইনকিলার খেতে খেতে কিডনির সমস্যা হয়েছিল। এখন ডেন্টিস্টের পরামর্শে ফ্লুরাইড পেস্ট ব্যবহার করি।

সুমাইয়া আক্তার

টক ফল সরাসরি চিবানো বন্ধ করেছি। দাঁতের শিরশিরানি অনেক কমেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।