সন্তান প্রসবের পর কি তলপেটে অনবরত ভারী চাপ বা নিচের দিকে কিছু নেমে আসার অস্বস্তি হচ্ছে? অবহেলা করছেন না তো?

জানুন পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতা কীভাবে আপনার অজান্তেই জরায়ুর স্বাভাবিক অবস্থানকে স্থানচ্যুত করে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

সন্তান প্রসবের পর পেলভিক ফ্লোরের পেশী দুর্বল হয়ে গেলে জরায়ু স্বাভাবিক স্থান থেকে নিচে নেমে আসে, যা প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা ও যৌন জীবনে মারাত্মক অস্বস্তি তৈরি করে।

আমাদের পেলভিক ফ্লোর ডিসঅর্ডার ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক মা আসেন, যারা এক বা একাধিক সন্তান প্রসবের পর তলপেটে অনবরত ভারী চাপ, প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা এবং যৌন মিলনে তীব্র ব্যথার অভিযোগ করেন। আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ প্রসব-পরবর্তী দুর্বলতা মনে করে সম্পূর্ণ অবহেলা করেন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব পেলভিক অ্যানাটমি অনুযায়ী, নারীদের পেলভিক ফ্লোর হলো তলপেটের নিচে অবস্থিত এক জটিল পেশী ও টিস্যুর জাল, যা জরায়ু, মূত্রাশয় ও মলাশয়কে তাদের স্বাভাবিক অবস্থানে ধরে রাখে। গর্ভাবস্থায় ক্রমবর্ধমান বাচ্চার ওজন এবং প্রসবের সময় পেলভিক ফ্লোরের পেশীগুলো অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যোনিপথে প্রসব বা ভ্যাজাইনাল ডেলিভারির সময় এই পেশীগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যখন পেলভিক ফ্লোরের এই সাপোর্টিং পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়, তখন জরায়ু তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নিচের দিকে সরে আসে বা যোনিপথের দিকে ঝুলে পড়ে। একেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউটেরাইন প্রোল্যাপস' (Uterine Prolapse) বলা হয়। এর সরাসরি ফলে মায়েশন নারীরা তলপেটে অনবরত ভারী চাপ, প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা (Urinary Incontinence), বারবার মূত্রনালীতে ইনফেকশন এবং যৌন মিলনে তীব্র ব্যথার সম্মুখীন হন।

হালকা থেকে মাঝারি প্রোল্যাপসের ক্ষেত্রে কোনো অপারেশন ছাড়াই পেলভিক ফ্লোরের পেশী শক্তিশালী করে জরায়ুকে আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কেগেল ব্যায়াম (Kegel Exercises) হলো পেলভিক ফ্লোরের পেশী শক্তিশালী করার সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। প্রতিদিন নিয়মিত কেগেল ব্যায়াম করলে পেলভিক ফ্লোরের পেশী দ্রুত শক্তিশালী হয় এবং জরায়ু স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে।

প্রোল্যাপস প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন প্রোটিনযুক্ত খাবার, ভিটামিন সি ও কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। ভারী জিনিস তোলা ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা। নিয়মিত কেগেল ব্যায়াম ও পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি করা।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

রহিমা খাতুন

দুই সন্তান প্রসবের পর এই সমস্যা হয়েছিল। কেগেল ব্যায়াম করে এখন সুস্থ আছি। ডাক্তার ম্যাডামকে ধন্যবাদ।

ডা. ফারহানা আক্তার

একজন গাইনি সার্জন হিসেবে বলছি, কেগেল ব্যায়াম প্রোল্যাপস প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এই পরামর্শ শতভাগ সঠিক।

নাসরিন সুলতানা

অনেক দিন এই সমস্যা লুকিয়ে রেখেছিলাম। ডাক্তার ম্যাডামের পরামর্শ মেনে এখন সুস্থ আছি।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।