টেস্টটিউব বেবি মানেই কি ল্যাবরেটরিতে তৈরি কোনো কৃত্রিম শিশু? বিজ্ঞান কী বলে আসলে?

জানুন আইভিএফ (IVF) থেরাপির আড়ালের আসল সত্য এবং অবহেলিত প্রজনন কোষের সুস্থতা ফিরিয়ে আনার নিয়ম।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

টেস্টটিউব বেবি বা IVF কোনো ল্যাবরেটরির কৃত্রিম শিশু নয়; এটি সম্পূর্ণ দম্পতির নিজস্ব রক্ত ও প্রজনন কোষের মিলন, যা ওভ্যুলেশনের প্রাকৃতিক বন্ধন ছিঁড়ে গেলে ল্যাবে সফল করার এক আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত আস্থার আলো।

আমাদের ইনফার্টিলিটি ও রিপ্রোডাক্টিভ কেয়ার সেন্টারে প্রতিদিন এমন অনেক দম্পতি আসেন, যারা বিয়ের অনেক বছর পার হওয়ার পরও সন্তান ধারণে ব্যর্থ হয়ে তীব্র মানসিক অবসাদ ও সামাজিক গঞ্জনার শিকার হন। আমাদের দেশের মানুষের মনে 'টেস্টটিউব বেবি' বা আইভিএফ (In vitro fertilization) চিকিৎসা নিয়ে এক মারাত্মক কুসংস্কার এবং অবৈজ্ঞানিক সামাজিক ভীতি প্রচলিত আছে। অনেকেই মনে করেন এটি কোনো কৃত্রিম উপায়ে ফ্যাক্টরির মতো তৈরি বাচ্চা, যা ধর্মীয় বা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সেলুলার বায়োলজি অনুযায়ী, টেস্টটিউব বেবি অন্য কোনো বাইরের উপাদান নয়, এটি শতভাগ ওই স্বামী ও স্ত্রীর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর স্বাভাবিক ভ্রূণ। ফ্যালোপিয়ান নালীর তীব্র ব্লকেজ, অনিয়মিত পিরিয়ড কিংবা পুরুষের শুক্রাণুর কাউন্ট কম থাকার কারণে যখন জরায়ুর ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে ফার্টিলাইজেশন বা গর্ভধারণ সম্ভব হয় না, তখনই চিকিৎসকেরা এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নেন।

এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর ডিম্বাশয় থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ডিম্বাণু এবং স্বামীর শরীর থেকে শক্তিশালী শুক্রাণু অত্যন্ত আলতো উপায়ে সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরির একটি টেস্টটিউব বা কাঁচের ডিশে কৃত্রিমভাবে শরীরের তাপমাত্রা মেইনটেইন করে মিলিত করা হয়। যখন এই কোষ দুটি সফলভাবে বিভাজিত হয়ে একটি জীবন্ত ভ্রূণ (Embryo) তৈরি করে, তখন সেটিকে আবার মায়ের জরায়ুর ভেতরে (Uterus) নিরাপদে প্রতিস্থাপন বা ইনজেক্ট করে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে বাকি পুরো নয় মাস আর দশ দিন বাচ্চার বৃদ্ধি অন্য যেকোনো স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই মায়ের জরায়ুর পুষ্টি ও রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। ফলে এই শিশু প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া বাচ্চার মতোই শতভাগ সুস্থ ও মেধাবী হয় এবং এতে কোনো জিনগত বিকৃতি বা অস্বাভাবিকতার বিন্দুমাত্র ঝুঁকি থাকে না।

টেস্টটিউব বেবি চিকিৎসার আগে দম্পতির উচিত একজন রেপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। চিকিৎসক দম্পতির সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা, হরমোন প্রোফাইল টেস্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রামের পর সঠিক সময়ে ও পদ্ধতিতে IVF করবেন। খাবারে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফলিক এসিড ও প্রোটিন যুক্ত করা। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা সম্পূর্ণ বর্জন করা।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

রফিক ও নাসরিন দম্পতি

৭ বছর পর IVF করে সুস্থ বাচ্চা পেয়েছি। ডাক্তার ম্যাডামের পরামর্শ অমূল্য।

ডা. মাহবুবুর রহমান

একজন ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলছি, IVF সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক। এই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

সুমাইয়া ও করিম দম্পতি

কুসংস্কারের কারণে অনেক বছর নষ্ট করেছি। এখন সুস্থ পরিবার। সবাইকে IVF নিতে বলব।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।