বাচ্চার হঠাৎ ২-৩ বার পাতলা পায়খানা হলেই কি আতঙ্কিত হয়ে কড়া ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ খাওয়াচ্ছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কেমিক্যালের এই ভুল প্রয়োগ আপনার সন্তানের নরম অন্ত্রকে বিষাক্ত করে অবশ করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

শিশুর হঠাৎ পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া শুরু হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) ডায়রিয়া বন্ধের কড়া ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক লিকুইড খাওয়ানো এক চরম জীবনঘাতী ভুল; কারণ এটি অন্ত্রের ভেতর বিষাক্ত টক্সিন আটকে রেখে 'Toxic Megacolon' তৈরি করে বাচ্চাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

আমাদের পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ডায়রিয়া বিশেষায়িত জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক মুমূর্ষু শিশু আসে, যারা অনবরত বমি, তীব্র পেট ফাঁপা বা অন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে অচেতন প্রায়। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবারের মায়েরা বা অভিভাবকেরা বাচ্চার দিনে ২-৩ বার পাতলা পায়খানা বা লুজ মোশন দেখা দেওয়ামাত্রই চরম আতঙ্কিত বা প্যানিকড হয়ে পড়েন। এই তীব্র ভয়ের বশে তারা কোনো চাইল্ড স্পেশালিস্টের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা কিংবা অন্ত্রের মেটাবলিক রক্ত সঞ্চালনের নিখুঁত সমীকরণ না জেনেই হাতের কাছের ফার্মেসি থেকে কড়া অ্যান্টি-ডায়রিয়াল ওষুধ (যেমন: লোপেরামাইড জাতীয় লিকুইড) অথবা যত্রতত্র কড়া অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপ এনে শিশুকে খাইয়ে দেন। এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বাচ্চার নরম পরিপাকতন্ত্রের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার প্যাথলজি ও অন্ত্রের বিজ্ঞান অনুযায়ী, শিশুদের বেশিরভাগ সাধারণ ডায়রিয়া মূলত রোটাভাইরাস (Rotavirus) সংক্রমণের কারণে ঘটে থাকে, যা ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই শরীর থেকে ভাইরাসের বর্জ্য নিষ্কাশনের মাধ্যমে নিজে নিজে সেরে যায়।

আপনি যখন চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া জোড়পূর্বক পায়খানা বন্ধ করার কড়া কেমিক্যাল ড্রাগস বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অকেজো অ্যান্টিবায়োটিক বাচ্চার সংবেদনশীল পেটে পুশ করবেন, তখন তা অন্ত্রের প্রাকৃতিক ছান্দিক সংকোচন ও প্রসারণ ক্ষমতাকে এক নিমিষে অবশ ও অবরুদ্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, ইনফেকশনের ক্ষতিকর বিষাক্ত টক্সিন ও ব্যাকটেরিয়াগুলো বাইরে বের হতে না পেরে বাচ্চার অন্ত্রের দেওয়ালে কামড়ে ধরে পেটকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'টক্সিক মেগাকোলন' (Toxic Megacolon) বা 'প্যারালাইটিক ইলিয়াস' বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় বাচ্চার নরম পরিপাকনালী ফুটো করে পুরো পেটে তীব্র ইনফেকশন ছড়িয়ে দেয় এবং রক্তে বিষক্রিয়া বা সেপটিসেমিয়া তৈরি করে বাচ্চার জীবনকে এক সেকেন্ডে লাইফ সাপোর্টের দিকে ঠেলে দেয়।

বাচ্চার পেটের অসুখ ও ডায়রিয়া নিরাময় করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল ওষুধের শর্টকাট মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে বাচ্চার পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নিখুঁতভাবে রক্ষা করার ভেতর। বাচ্চার প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর পরিমিত ও সঠিক নিয়মে তৈরি ওরস্যালাইন (ORS) বা ডাবের পানি চামচ দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো বাধ্যতামূলক করুন। ওষধি যত্ন হিসেবে বাচ্চার খাবার তালিকা থেকে কাঁচা চিনি, অতিরিক্ত সোডিয়াম যুক্ত চিপস, প্যাকেটজাত জুস এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে ঘরে তৈরি ওটস, কলার জাউ ভাত, ঘরে পাতা চিনি ছাড়া টকদই এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত ওআরএস-এর পাশাপাশি ওষধি জিংক (Zinc) সিরাপ ১০-১৪ দিন নিয়মিত খাওয়ান, যা অন্ত্রের ক্ষত প্রাকৃতিকভাবেই দ্রুত মেরামত করবে। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং পরিপাক সচল রাখতে শিশুকে দৈনিক পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. আরিফুল ইসলাম

বাচ্চার ডায়রিয়া হলে ওআরএস খাওয়াই। জিংক সিরাপ ১৪ দিন দিয়েছি। ৩ দিনেই ভালো হয়ে গেছে।

ফাতেমা বেগম

আগে অ্যান্টিবায়োটিক দিতাম। এবার ডাক্তার বললেন ওআরএস আর জিংক। কোনো সাইড ইফেক্ট নেই।

নাজমা আক্তার

কলার জাউ ভাত আর টকদই খাওয়াচ্ছি। বাচ্চার পেটের সমস্যা অনেক কমেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।