সন্তান প্রসবের পর কি কোমর ও তলপেটে তীব্র টান লেগে অনবরত কষা ব্যথা করছে এবং হাঁচি-কাশি দিলে প্রস্রাব চুইয়ে পড়ছে?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলার গিলে খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস আপনার জরায়ু ও লিভার মেটাবলিজমকে চিরতরে বিকল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
নারীদের গর্ভাবস্থা-পরবর্তী তীব্র কোমর ব্যথা বা পেলভিক ফ্লোর পেশীর শিথিলতা কোনো সাধারণ বাতের রোগ নয়, এটি মেকানিক্যাল লিগামেন্টের প্রসারণ; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা বাচ্চার বুকের দুধের ক্ষতিসহ মায়ের কিডনি বিকল করে দেয়।
আমাদের উইমেনস হেলথ ফিজিওথেরাপি ও পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাবিলিটেশন ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক সন্তান প্রসব-পরবর্তী (Postpartum) তীব্র কোমর ব্যথা, পিঠের কষা টান এবং হাঁচি-কাশি দিলে অজান্তেই প্রস্রাব চুইয়ে পড়ার (Urinary Incontinence) জটিলতায় আক্রান্ত ক্রনিক মায়েরা আসেন, যাদের তলপেটের ও জরায়ুর চারপাশের গভীর পেশীগুলো প্রসবকালীন তীব্র মেকানিক্যাল চাপের কারণে সম্পূর্ণ আলগা ও অকেজো হয়ে গেছে। আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, সন্তান প্রসবের পর নতুন মায়েদের কোমর বা কুঁচকিতে তীব্র মোচড়ানো কষ্ট অনুভব হওয়া, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বাচ্চাকে কোলে নিতে না পারা কিংবা পিঠের মাংশপেশীতে কামড়ানো যাতনা শুরু হওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা ঘরের অলসতা বা সাধারণ মেটাবলিক ক্লান্তি মনে করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওটিসি কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ড্রাগস অনবরত খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও কঙ্কালতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পেলভিক বায়োমেকানিক্স ও এন্ডোক্রাইনোলজি লজিক অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় শরীর থেকে 'রিল্যাক্সিন' (Relaxin) নামক হরমোন ক্ষরিত হয়ে জরায়ুর চারপাশের লিগামেন্ট ও পেলভিক ফ্লোর পেশীগুলোকে অতিরিক্ত নরম ও প্রসারিত করে দেয়, যা প্রসবের পর সঠিক এরগোনোমিক ব্যায়াম না করলে অলস ও আলগা হয়ে তীব্র মেকানিক্যাল ব্যথার জন্ম দেয়।
কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই আলগা হয়ে যাওয়া লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা বা পেলভিক ফ্লোরের পেশীশক্তিকে প্রাকৃতিকভাবে আগের টানটান অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে না। আপনি যখন নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানোর সংবেদনশীল স্তরে কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত সেবন করবেন, তখন ওই ওষুধের কড়া রাসায়নিক ককটেল বুকের দুধের মাধ্যমে সরাসরি বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করে শিশুর নরম লিভার ও কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে স্থায়ীভাবে ড্যামেজ করে ফেলে। এর সমান্তরালে মায়ের শরীরেও রক্তের নাইট্রোজেনাস বর্জ্য ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এক ধাক্কায় স্পাইক করে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) মারাত্মক জীবনঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে, যা রোগীকে আজীবনের জন্য মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
মায়েদের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল যন্ত্রণা শান্ত করার এবং পেলভিক ফ্লোরের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইল ও সুনির্দিষ্ট 'পেলভিক কোর স্ট্রেন্থেনিং' ব্যায়ামে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ওমেন হেলথ ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের অধীনে তলপেটের ডায়াগনসিস করিয়ে পেশীর ড্যামেজ লেভেল নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো শরীরের মেদ বাড়িয়ে পেলভিক ফ্লোরের ওপর মেকানিক্যাল চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা মাড়ির ও পেলভিক লিগামেন্টের কোলাজেন ফাইবার পুনর্গঠনে সাহায্য করে। জরায়ুর পেশী সচল রাখতে এবং প্রস্রাব ঝরা বন্ধ করতে চিকিৎসকের নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট ওষধি 'কেগেল ব্যায়াম' (Kegel Exercise) নিয়ম মেনে প্রতিদিন অন্তত ৩ বার করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
প্রসবের পর কোমর ব্যথায় পেইনকিলার খেতাম। এখন জানলাম কেগেল ব্যায়াম দরকার। চিকিৎসা নিচ্ছি।
বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে পেইনকিলার খেতাম। বাচ্চার ক্ষতি হতে পারত। এখন ডাক্তারের পরামর্শে চলি।
কেগেল ব্যায়াম নিয়মিত করি। প্রস্রাব ঝরা বন্ধ হয়েছে। কোমর ব্যথা অনেক কমেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
