স্ট্রোকের পর কি একপাশের হাত-পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেছে এবং হাঁচি-কাশি দিলে প্রস্রাব চুইয়ে পড়ছে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলার গিলে খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস আপনার কিডনি ও লিভারকে চিরতরে বিকল করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

স্ট্রোক বা ব্রেন অ্যাটাকের পর শরীরের একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ বাতের রোগ নয়, এটি মস্তিষ্কের নিউরোনের অপরিবর্তনীয় ক্ষতি; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।

আমাদের নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক স্ট্রোক ও ব্রেন অ্যাটাক-পরবর্তী পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Hemiplegia) রোগী আসেন, যাদের শরীরের একপাশ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে, হাত-পা শক্ত হয়ে লক হয়ে গেছে এবং হাঁচি-কাশি দিলে অজান্তেই প্রস্রাব চুইয়ে পড়ার মতো জটিল নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় ভুগছেন। আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, স্ট্রোকের পর শরীরের একপাশ অকেজো হয়ে যাওয়া, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়া শুরু হওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা ঘরের অলসতা বা সাধারণ মেটাবলিক ক্লান্তি মনে করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওটিসি কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ড্রাগস অনবরত খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরোলজি ও বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী, স্ট্রোকের সময় মস্তিষ্কের রক্তনালী হয় ব্লক হয়ে যায় (Ischemic Stroke) অথবা ফেটে যায় (Hemorrhagic Stroke), যার ফলে মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স ও নিউরোনাল নেটওয়ার্কের অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হয় এবং শরীরের বিপরীত পাশের পেশীগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে।

কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই মৃত নিউরোনের পুনর্জন্ম বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত পেশীর মেকানিক্যাল শক্তি প্রাকৃতিকভাবে ফিরিয়ে আনতে পারে না। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট এমআরআই (MRI) বা সিটি স্ক্যান পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত সেবন করবেন, তখন ওই ওষুধের কড়া রাসায়নিক ককটেল রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে স্থায়ীভাবে ড্যামেজ করে ফেলে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীগুলোকে আরও দুর্বল করে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় স্ট্রোকের মারাত্মক ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত শরীরের এই ক্রনিক নিউরোলজিক্যাল যন্ত্রণা শান্ত করার এবং স্নায়ুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন নিউরো-ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের অধীনে মস্তিষ্কের ডায়াগনসিস করিয়ে নিউরোনের ড্যামেজ লেভেল নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো রক্তের কোলেস্টেরল বাড়িয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালীতে পুনরায় ব্লকেজ তৈরি করার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা মস্তিষ্কের নিউরোনের ঝিল্লি পুনর্গঠনে সাহায্য করে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত পেশী সচল রাখতে চিকিৎসকের নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ব্যায়াম নিয়ম মেনে প্রতিদিন অন্তত ৩ বার করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. শাহীন আলম

বাবার স্ট্রোকের পর পেইনকিলার খেতাম। এখন জানলাম নিউরো-রিহ্যাব দরকার। চিকিৎসা নিচ্ছি।

নাসরিন আক্তার

হাত-পা শক্ত হয়ে গেছিল। নিউরো-ফিজিওথেরাপি ব্যায়ামে অনেক উন্নতি হয়েছে।

আবদুল করিম

ওটিসি পেইনকিলার কিডনির জন্য ক্ষতিকর জানতাম না। এখন ডাক্তারের পরামর্শে চলি।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।