সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলেই কি অনবরত এক ঝাঁক হাঁচি আসে এবং গলা খসখস করে খুশখুশে কাশি হয়?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি অ্যান্টি-হিস্টামিন ও কাশির সিরাপের এই দীর্ঘস্থায়ী কুঅভ্যাস আপনার লিভার ও মেটাবলিজমকে অলস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো বা অ্যালার্জিজনিত রাইনাইটিসের যন্ত্রণায় চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া বছরের পর বছর ওটিসি (OTC) কড়া অ্যান্টি-হিস্টামিন বড়ি বা ক্ষতিকর কাশির সিরাপ খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক সংকেতকে অবশ করে লিভারের মেটাবলিক পাথওয়েকে ক্লান্ত করে ফেলে।
আমাদের নাক, কান ও গলা এবং অ্যালার্জি রিহ্যাবিলিটেশন ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক শ্বাসনালীর প্রদাহে আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের ফুসফুস ও নাকের ভেতরের সুরক্ষাত্তর ঝিল্লিটি অনবরত ভুল কেমিক্যাল বড়ি সেবনের ফলে নিজের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে চরম ক্লান্ত ও সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ধুলোবালি বা ধোঁয়ার ছোঁয়া লাগলেই অনবরত চোখ-নাক দিয়ে জলীয় তরল ঝরা, গলা খুশখুশ করে শুকনো কাশি হওয়া বা শ্বাসকষ্টের কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা আসল কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওটিসি অ্যান্টি-হিস্টামিন (যেমন: সেটিরিজিন, ফেক্সোফেনাডিন বা রুপাটাডিন জাতীয় বড়ি) অথবা কড়া ডেক্সট্রোমেথরফেন যুক্ত কাশির লিকুইড কিনে বছরের পর বছর মুড়িমুড়কির মতো খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত শ্বাসনালী অ্যানাটমি ও ইমিউনোলজি অনুযায়ী, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (Allergic Rhinitis) কোনো বাহ্যিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ নয়; এটি হলো বাইরের সাধারণ ধুলাবালি বা ফুলের রেণুকে শরীরের পথভ্রষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন শত্রু ভেবে অতি-প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং রক্তে 'হিস্টামিন' নামক এক রাসায়নিক তরল নিঃসৃত করে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (যেমন: রক্তের AEC বা Total IgE) ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল ড্রাগসগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা সাময়িকভাবে হিস্টামিনের সংকেত অবশ করলেও ভেতরের ইমিউন গোলমাল বিন্দুমাত্র শান্ত করতে পারে না। উল্টো এই কৃত্রিম বড়িগুলোর কড়া রাসায়নিক বর্জ্য মেটাবলাইজ বা ফিল্টার করতে গিয়ে আমাদের সংবেদনশীল লিভারের এনজাইম পাথওয়েগুলোর ওপর তীব্র মেটাবলিক এসিডোসিসের চাপ পড়ে, যা শরীরকে আজীবনের জন্য ক্লান্ত ও নিস্তেজ করে ফেলে এবং ওষুধের কার্যকারিতা ধীর করে দেয়।
শ্বাসনালীর এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক অ্যালার্জিক প্রদাহ শান্ত করার এবং লিভারের মেটাবলিজম সচল রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ইএনটি বা অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের অধীনে একটি সঠিক পরীক্ষা করিয়ে অ্যালার্জির মূল ট্রিগার পয়েন্টটি লক করুন। ইনফ্লেমেশন ও অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিংকস এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো শ্বাসনালীর চারপাশের হাইপার-রেসপন্সকে বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। কানের বা নাকের ভেতরের কষা শ্লেষ্মা প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে পরিষ্কার করতে প্রতিদিন অন্তত দুবার মৃদু গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন (Steam Inhalation) নিন, শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
প্রতিদিন সকালে হাঁচি হলেই অ্যান্টি-হিস্টামিন খেতাম। একপর্যায়ে ওষুধে কাজ করতো না।
ডাক্তারের পরামর্শে অ্যালার্জি টেস্ট করিয়েছি। এখন স্টিম নেই, ঠান্ডা খাই না। হাঁচি কমেছে।
ধুলোবালি এড়াতে মাস্ক পরি, প্রচুর পানি খাই। গলার খুশখুশে কাশি আর হয় না।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
