ডায়াবেটিস রোগীদের পা হঠাৎ জিনঝিন করে অবশ হয়ে যাচ্ছে কিংবা রাতে রগ টেনে ধরছে কি?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি পেইনকিলার সাপ্লিমেন্টের এই অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার শরীরের সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোকে চিরতরে অবশ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সিন্ড্রোমজনিত কারণে হাত-পায়ের রগ টান লাগা বা অবশ ভাব দূর করতে চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া পেইনকিলার খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই রাসায়নিক কেমিক্যাল স্নায়ুর ড্যামেজ না কমিয়ে উল্টো লিভার ও কিডনিকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়।
আমাদের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি ও ইলেকট্রো-ডায়াগনস্টিক ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি (Diabetic Neuropathy) ও ক্রনিক স্নায়ুর ক্ষয় রোগে আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যারা হাত-পায়ের পাতায় অনবরত সুঁই ফোটার মতো তীব্র জ্বালা, কষা ভাব, বা রগ অনিয়ন্ত্রিতভাবে টেনে ধরার যন্ত্রণায় ভুগছেন। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, রক্তে সুগার বাড়ার কারণে হাত-পা অসাড় হওয়া বা অবশ ভাব দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার বা মেদ কমানোর সাপ্লিমেন্ট গিলে খেয়ে নেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-ফিজিওলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, উচ্চ রক্তে শর্করার ক্ষতিকর বিষক্রিয়া পেরিফেরাল স্নায়ুগুলোর সূক্ষ্ম রক্তনালীকে সংকুচিত করে দেয়, যার ফলে স্নায়ুর সুরক্ষাত্মক মায়োলিন আস্তরণ স্থায়ীভাবে ক্ষয়ে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডায়াবেটিক পলিইউরোপ্যাথি বলা হয়।
কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই ভেতরের স্নায়ুর ক্ষয় বা সিগন্যাল পরিবহনের ড্যামেজকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ করতে পারে না। আপনি যখন কোনো নিউরোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগসগুলো অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এর ফলে কিডনির ফিল্টারিং নেফ্রন কোষগুলো অ্যাসিডের মতো পুড়ে স্থায়ীভাবে ড্যামেজ হয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) সৃষ্টি করে, যার ফলে রোগী চিরতরে পায়ের অনুভূতি হারিয়ে পঙ্গুত্বের চূড়ান্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন, যা কোনো কড়া চিকিৎসায়ও আর পূর্বের অবস্থায় ফেরে না।
স্নায়ুর এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক মেটাবলিক প্রদাহ শান্ত করার এবং পেরিফেরাল নার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস ও মেটাবলিক ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে আক্রান্ত অঙ্গের একটি এনসিএস (NCS - Nerve Conduction Study) পরীক্ষা করিয়ে মূল স্নায়ুর ড্যামেজ লেভেল নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই রক্তে গ্লুকোজ অনিয়ন্ত্রিত করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও স্নায়ুর ক্ষয় বাড়ায়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা স্নায়ুর প্রতিরক্ষাত্তর পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে সুঁই ফোটার মতো ব্যথা হত। পেইনকিলার খেয়ে লাভ হতো না।
এনসিএস টেস্ট করেছি। নিউরোলজিস্টের গাইডলাইন মেনে চলছি, অনেক উপকার পাচ্ছি।
সুগার কন্ট্রোল করেছি, আখরোট খাই। পায়ের অবশ ভাব অনেক কমেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
