বুকের মাঝখানে হঠাৎ অসহ্য ভারী চাপ ধরা ব্যথা হলেই কি এসিডিটি মনে করে গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ খাচ্ছেন?

সাবধান! এই সামান্য অবহেলা ও ঘরে বসে সময় নষ্ট করা আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান 'Golden Hour' কেড়ে নিচ্ছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

বুকের মাঝখানে বা বাম পাশে অসহ্য নিংড়ানো মোচড়ানো ব্যথাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের গ্যাস মনে করে ঘরে বসে থাকা এক মারাত্মক ভুল; কারণ এটি তীব্র হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে যা প্রথম ১ ঘণ্টার জীবনরক্ষাকারী 'Golden Hour' পার হলে রোগীকে কার্ডিয়াক শকে ঠেলে দেয়।

আমাদের সিসিইউ (CCU) ও হৃদরোগ কোরোনারি জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক হার্ট অ্যাটাক হওয়া আশঙ্কাজনক রোগী আসেন, যারা বুকের কেন্দ্রে তীব্র জ্বলন বা ভারী চাপ ধরা কষ্ট শুরু হওয়ার পর ৩-৪ ঘণ্টা ঘরে অলস বসে কাটিয়ে দিয়েছেন। এই রোগীরা কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা জরুরি ইসিজি (ECG) পরীক্ষা ছাড়াই নিজে নিজে এসিডিটি বা পেটের গ্যাস মনে করে বোতল ভর্তি ক্ষারীয় এন্টাসিড সিরাপ অথবা কড়া ওটিসি গ্যাস্ট্রিকের ক্যাপসুল গিলে সময় নষ্ট করেছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ধমনী প্যাথলজি ও ক্লিনিক্যাল ইমার্জেন্সি লজিক অনুযায়ী, হার্টের রক্তনালী চর্বির ক্লট জমে শতভাগ ব্লক হওয়ামাত্রই হৃদপেশী মরতে শুরু করে। এই সংবেদনশীল ট্রায়াজ সময়ে প্রথম ১ ঘণ্টাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'গোল্ডেন আওয়ার' (Golden Hour) বলা হয়, যার মধ্যে সঠিক ফার্স্ট এইড ও রিং পরালে হার্টের পেশী স্থায়ী ড্যামেজ থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পায়।

আপনি যখন বুক ব্যথার আসল কারণ না জেনে সাধারণ গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ঘরে বসে থাকবেন, তখন ধমনীর ভেতরের ব্লকেজটি আরও বড় হয়ে রক্ত প্রবাহ পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা আকস্মিক ধস নেমে ফুসফুসে অনবরত পানি জমিয়ে তীব্র শ্বাসকষ্ট, শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং হাতের আঙুল বা চোয়াল অবশ হওয়ার মতো বিপজ্জনক জটিলতা তৈরি করে। এই সংবেদনশীল স্তরে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে না নিলে হৃদপিণ্ডের পেশী চিরতরে অকেজো হয়ে 'কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট' ঘটে, যা রোগীকে বাঁচানোর কোনো সুযোগই দেয় না। হার্ট অ্যাটাকের তীব্র মুহূর্ত থেকে জীবনকে সুরক্ষিত রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি সিরাপের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই সুনির্দিষ্ট ফার্স্ট এইড গাইডলাইন ফলো করার ভেতর।

বুকের মাঝখানে ভারী পাথর চেপে বসার মতো তীব্র ব্যথা শুরু হওয়ামাত্রই রোগীকে মেঝেতে পিঠ ঠেকিয়ে আধশোয়া আরামদায়ক ডাব্লিউ পজিশনে (W Position) বসিয়ে দিন; এটি হার্টের ওপর রক্তের কাজের লোড অনেক কমিয়ে দেয়। রোগী সম্পূর্ণ সচেতন থাকলে ঘরে থাকা একটি ৩০০ মিলিগ্রামের আস্ত অ্যাসপিরিন (Aspirin) ট্যাবলেট তাকে সাথে সাথে চিবিয়ে গিলে খেতে বলুন, যা ধমনীর রক্ত জমাট বাঁধার ক্লটকে প্রাকৃতিকভাবেই সাময়িকভাবে বড় হতে বাধা দেয়। কোনো চটকদার কবিরাজী টোটকার পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (যেমন- ৯৯৯) ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন অথবা রোগীকে নিকটস্থ হৃদরোগ বা সিসিইউ সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং প্রফেশনাল ইসিজি ও ট্রপোনিন-আই পরীক্ষার মাধ্যমে এনজিওগ্রাম ও রিং পরানোর উন্নত প্রফেশনাল চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত পাতলা রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং ধমনীর প্লাক পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

আনোয়ার হোসেন

বুকে ব্যথা হলে গ্যাস্ট্রিক ভেবেছিলাম। আসলে হার্ট অ্যাটাক ছিল। সতর্কতা সবাইকে দিই।

সালমা আক্তার

বাবাকে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়াতে বলেছিল ডাক্তার, সেটাই জীবন বাঁচিয়েছিল।

মিজানুর রহমান

৯৯৯ এ ফোন করে সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছি, সিসিইউ ট্রিটমেন্টে এখন সুস্থ।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।