ডায়ালাইসিস চলায় শরীর অনবরত তীব্র ব্যথায় ম্যাজম্যাজ করছে বলেই কি নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার বড়ি গিলছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি ড্রাগসের এই কৃত্রিম লোড আপনার হার্টকে এক সেকেন্ডে স্তব্ধ করে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
কিডনি ডায়ালাইসিস (Dialysis) স্টেজে থাকা রোগীদের সামান্য শরীর ব্যথার জন্য পুষ্টিবিদের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া পেইনকিলার বড়ি খাওয়ানো এক জীবনঘাতী ভুল; কারণ এই কেমিক্যাল রক্তে পটাশিয়াম বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে এক সেকেন্ডে হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে।
আমাদের রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ও কৃত্রিম ডায়ালাইসিস ইউনিটে প্রতিদিন এমন অনেক শেষ স্তরের কিডনি বিকল (ESRD) হওয়া ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের হৃদস্পন্দন রক্তে খনিজের তীব্র গোলমালের কারণে চরম অনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, ডায়ালাইসিস সেশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর শরীর ম্যাচম্যাচ করা, হাড়ের কষা ভাব বা তীব্র অবসাদ শুরু হওয়ামাত্রই তারা নেফ্রোলজিস্টের কাছে যান না। এর বদলে তারা প্রাবেশিকভাবে বাতের ব্যথা বা মেটাবলিক ক্লান্তি মনে করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) গিলে খেয়ে নেন অথবা ডাক্তারের পানির চার্ট অমান্য করে অবাধে ডাবের পানি বা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং রক্ত পরিশোধনাগারের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত রেনাল প্যাথলজি ও অডিওলজি অনুযায়ী, ডায়ালাইসিস রোগীদের কিডনি যেহেতু প্রস্রাবের মাধ্যমে বাড়তি পানি ও বিষাক্ত পটাশিয়াম শরীর থেকে বের করতে পারে না, তাই বাইরে থেকে কেমিক্যালের কৃত্রিম লোড রক্তে প্রবেশ করলে তা এক সেকেন্ডে শরীরকে নিস্তেজ করে ফেলে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (যেমন: Serum Potassium / Phosphorus) ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত সেবন করবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক চিকিৎসাগত সত্য হলো, এই ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রাকে হঠাৎ ৭-৮ মিলিগ্রামের ওপরে নিয়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপারক্যালেমিয়া' (Hyperkalemia) বলা হয়। মস্তিস্ক ও হার্টের পেশীগুলো এই অতিরিক্ত পটাশিয়ামের বিষক্রিয়ায় এক নিমিষে পুরোপুরি অবশ ও অকেজো হয়ে যায়, যার ফলে কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা কার্ডিওভাসকুলার অপারেশনের সুযোগ না দিয়ে রোগীর হৃদস্পন্দন সম্পূর্ণ থমকে যায় (Cardiac Arrest), যা রোগীকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
ডায়ালাইসিস রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী মেটাবলিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট থেরাপিউটিক খাবার তালিকা এবং মেটাবলিক ওষধি লাইফস্টাইলের সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন চার্ট অনুযায়ী রক্তের পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম লেভেল নিয়মিত পরীক্ষা করিয়ে আপনার সঠিক পুষ্টি গাইডলাইন লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত পটাশিয়াম যুক্ত ডাবের পানি, ডাল, মাল্টা, কামরাঙা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে পুষ্টিবিদের মেপে দেওয়া সুনির্দিষ্ট পরিমাপে ওটস, লাল চালের ভাত এবং সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ ও চর্বিহীন লিন প্রোটিন রক্তের ইউরিয়া স্থিতিশীল রাখতে খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে চিকিৎসকের মেপে দেওয়া সুনির্দিষ্ট চার্ট (যেমন: দৈনিক ১ লিটার) অনুযায়ী মেপে পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ডায়ালাইসিসের পর শরীর ব্যথায় পেইনকিলার খেতাম। পটাশিয়াম ৭.২ ধরা পড়ল। এখন নেফ্রোলজিস্টের গাইডলাইন মানি।
ডাবের পানি খেতাম নিয়মিত। এখন জানলাম ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক।
Kt/V ট্র্যাক করে বুঝলাম ডায়ালাইসিস ঠিকমতো হচ্ছে না। এখন নিয়মিত চেক করাই।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
