মাসিক অনিয়মিত হওয়ার সাথে কি চিবুকে শক্ত লোম গজাচ্ছে ও ওজন দ্রুত বাড়ছে? পিসিওএস নয় তো?
সাবধান! লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে ওটিসি হরমোন পিল বা ক্রাশ ডায়েটের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার ডিম্বাশয়কে স্থায়ীভাবে অলস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
নারীদের পিসিওএস (PCOS) বা হরমোনজনিত দ্রুত মেদ বৃদ্ধি সামাল দিতে লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে নিজে নিজে ওটিসি (OTC) কড়া হরমোন পিল খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই বড়িগুলো ডিম্বাশয়কে স্থায়ীভাবে অলস ও অকেজো করে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের রিপ্রোডাক্টিভ নিউট্রিশন ও ওভারিয়ান কেয়ার ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক তরুণী ও মায়েরা আসেন, যারা পিরিয়ডের মারাত্মক অনিয়ম, থুতনিতে শক্ত কালো লোম গজানো বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) ধরা পড়ার পর জরায়ুর তীব্র জটিলতায় ভুগছেন। আমাদের দেশের নারীদের মধ্যে একটি অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, পিসিওএস বা হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে চর্বি বাড়া শুরু হওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড পুষ্টিবিদের হরমোনাল ডায়েট চার্ট না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া কেমিক্যাল যুক্ত 'জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি' বা ওটিসি হরমোন পিল অনবরত সেবন করতে থাকেন অথবা না খেয়ে থাকার ক্ষতিকর ক্রাশ ডায়েট শুরু করেন। এটি আমাদের দেশের মা-বোনদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও মেটাবলিজমের জন্য এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং আত্মঘাতী চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার বায়োলজি ও এন্ডোক্রাইন লজিক অনুযায়ী, পিসিওএস মূলত কোনো জরায়ুর নিজস্ব স্বাধীন রোগ নয়, এটি হলো শরীরের গভীর মেটাবলিক লিভারের চর্বি ও তীব্র ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের (Insulin Resistance) এক জটিল এন্ডোক্রাইন বহিঃপ্রকাশ।
রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেলে তা ডিম্বাশয়কে অতি-উত্তেজিত করে বেশি বেশি অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোন তৈরি করতে বাধ্য করে, যা ডিম্বাণু ফোটার প্রাকৃতিক রাস্তা বন্ধ করে পানির ছোট ছোট ফোস্কার মতো সিস্টের জন্ম দেয়। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Fasting Insulin / Hormone Profile) ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি হরমোন পিল সেবন করবেন, তখন ওই কেমিক্যালের অতিরিক্ত কৃত্রিম লোড শরীরের স্বাভাবিক হরমোন তৈরির প্রাকৃতিক উদ্দীপনাকে চিরতরে অবশ ও বন্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, সাময়িকভাবে রক্তক্ষরণ ঠিক মনে হলেও তা শরীরের স্বাভাবিক ওভুলেশন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে ডিম্বাশয় নিজের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে, যার ফলে রক্তের পুরুষ হরমোনের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে তীব্র হিরসুটিজম ও বন্ধ্যাত্বকে এক নিমিষে মারাত্মক ও স্থায়ী রূপের দিকে ঠেলে দেয় এবং মেটাবলিজম ধীর করে ওজন ও ফ্যাটি লিভারের জটিলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ডিম্বাশয়ের সিস্ট গলানো এবং হরমোনের সুষম ভারসাম্য প্রাকৃতিকভাবে ফিরিয়ে আনার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল পিলের মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও পিসিওএসের মূল চালিকাশক্তি। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন, রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন এবং কোষে জমে থাকা চিনি সরাসরি পুড়িয়ে ইনসুলিনকে সক্রিয় করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
পিসিওএস ধরা পড়ার পর নিজে নিজে হরমোন পিল খেতাম। একপর্যায়ে মাসিক বন্ধ হয়ে গেল।
পুষ্টিবিদের ডায়েট চার্ট আর হাঁটা শুরু করলাম। ৪ মাসে পিরিয়ড নিয়মিত হয়েছে।
মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুড বর্জন করে ওটস ও ছোট মাছ খাচ্ছি। ওজন কমছে, লোমও কমছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
