শিশুর বুকে সামান্য কফ বা শুকনো কাশি দেখলেই কি নিজে নিজে ওটিসি কাশির সিরাপ কিনে খাওয়াচ্ছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কড়া কেমিক্যালের এই কৃত্রিম ড্রাইভ আপনার সন্তানের মস্তিস্কের শ্বাসকেন্দ্র ও হৃদপিণ্ডকে অবশ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
শিশুর সামান্য সর্দি, বুকে গরগর শব্দ বা কাশির জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট ওজন-ভিত্তিক ডোজ ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া কাশির সিরাপ বা এন্টি-হিস্টামিন ড্রপ খাওয়ানো এক জীবনঘাতী ভুল; কারণ এই কেমিক্যাল সরাসরি বাচ্চার শ্বাসনালীর কফকে শক্ত আঠার মতো জমিয়ে ফুসফুসকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে।
আমাদের শিশু বক্ষব্যাধি ও পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক তীব্র শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু আসে, যাদের মায়েরা বা বাবারা বাচ্চার সামান্য ঠান্ডা-কাশি বা বুকে কফ জমার অস্বস্তি দেখামাত্রই কোনো স্ত্রীরোগ বা শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের গাইডলাইন ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া কাশির সিরাপ (Cough Suppressants বা Antihistamines বড়ি বা লিকুইড) কিনে সোজা বাচ্চার মুখে ঢেলে দিয়েছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পেডিয়াট্রিক রেস্পিরেটরি ফিজিওলজি ও মেটাবলিক অ্যানাটমি অনুযায়ী, শিশুর কাশি নিজে কোনো রোগ নয়; এটি মূলত ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে ঢুকে যাওয়া ধুলাবালি, ভাইরাস বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মাকে শরীরের বাইরে বের করে দেওয়ার এক স্বাভাবিক ডিফেন্স মেকানিজম বা প্রাকৃতিক ওষধি প্রক্রিয়া।
যখনই অভিভাবকেরা চিকিৎসকের কোনো লিখিত ডোজ ছাড়া অনবরত ওটিসি কাশির সিরাপ বা কড়া বিটা-টু অ্যাগনিস্ট ড্রপ খাওয়াতে থাকেন, তখন ওই তরলে থাকা কড়া সিডেটিভ কেমিক্যাল বা ডেক্সট্রোমেথরফেন উপাদান সরাসরি বাচ্চার মস্তিস্কের সংবেদনশীল শ্বাসকেন্দ্রকে (Respiratory Center) সাময়িকভাবে অবশ করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, বাহ্যিকভাবে বাচ্চার কাশির বেগ কমে গেছে মনে হলেও ভেতরের প্রাকৃতিক কফ শ্বাসনালীর দেওয়ালে আঠার মতো শক্ত ও ঘনীভূত হয়ে আটকে যায়। একপর্যায়ে বাচ্চার সূক্ষ্ম বায়ুথলিগুলো (Alveoli) স্থায়ীভাবে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ করে অকেজো হয়ে পড়ে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অ্যাটেলিক্টেসিস' বা ফুসফুসের তীব্র কলাপ্স রোগ বলা হয়। এই বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছালে বাচ্চার শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিষক্রিয়া তৈরি হয়, হাত-পা ও ঠোঁট নীলচে হয়ে যায় এবং অবুজ শিশু তীব্র হাইপোক্সিক শকে চলে যায়, যা কোনো কড়া কেমিকেলেও আর সহজে ফেরানো যায় না।
শিশুর শ্বাসনালীর কফ পরিষ্কার করা এবং ফুসফুসের ইমিউনিটি প্রাকৃতিকভাবে সচল রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল সিরাপের কৃত্রিম মোহের পেছনে বাচ্চার গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক থেরাপিউটিক গাইডলাইন মেনে চলার ভেতর। ছয় মাসের ওপরের শিশুদের ক্ষেত্রে কাশির তীব্রতা ও গলার জ্বালা কমাতে হালকা কুসুম গরম পানির সাথে এক চামচ খাঁটি মধু এবং দুই ফোঁটা তুলসী পাতার রস মিশিয়ে আলতো করে খাওয়ান; মধুর ওষধি এনজাইম শ্বাসনালীর শক্ত কফকে প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে তরল করে মলের মাধ্যমে বের করে দেয়। বাচ্চার বুকে কফ জমে নাক বন্ধ হয়ে গেলে ভুলেও কড়া ওটিসি ড্রপ না দিয়ে বিশুদ্ধ নরমাল স্যালাইন ওয়াটার ড্রপ (Normal Saline Nasal Drop) দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মৃদু সোডিয়াম ক্লোরাইড বাষ্প বা নেবুলাইজেশনের সাহায্য নিন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত পাতলা রাখতে বাচ্চাকে বয়স অনুযায়ী পরিমিত কুসুম গরম পানি ও বুকের দুধের জোগান শতভাগ নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
বাচ্চার কাশিতে ওটিসি সিরাপ দিয়েছিলাম। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেল। ডাক্তার বললেন কফ জমে ফুসফুসে সমস্যা হয়েছে।
স্যালাইন ন্যাজাল ড্রপ আর মধুর পানি দিয়ে কাশি কমাচ্ছি। কোনো সাইড ইফেক্ট নেই।
আগে প্রতিবার কাশিতে সিরাপ দিতাম। এখন ডাক্তারের পরামর্শে নেবুলাইজেশন করাই। অনেক ভালো।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
