সামান্য মাথা ব্যথা বা গা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার গিলে খাচ্ছেন? ব্যাপারটা কি আসলে এমন সরল?

নাকি ঝটপট আরাম পাওয়ার সাময়িক মোহে আপনার অজান্তেই পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে ভেতরের লিভার ও কিডনি?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

সামান্য মাথা ব্যথা বা গা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে খাওয়ার অভ্যাস আপনার পাকস্থলীর ক্ষতকে রাতারাতি রক্তক্ষরণযুক্ত আলসারে রূপান্তর করতে পারে এবং কিডনি ও লিভারকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দিতে পারে।

আমাদের ইন্টারনাল মেডিসিন ওপিডিতে প্রতি সপ্তাহে এমন অনেক ক্রনিক মেটাবলিক জটিলতার রোগী আসেন, যারা শরীরে যেকোনো ধরণের তীব্র বা মৃদু ব্যথা হওয়া মাত্রই কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। কাছের ও পরিচিত কোনো ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে যেকোনো একটি কড়া ব্যথানাশক ট্যাবলেট (যেমন: ডিক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন বা কিটোরোলাক) কিনে সোজা মুখে পুরে গিলে খেয়ে নেন। এটি আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি জঘন্য আত্মঘাতী কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি অনুযায়ী, ব্যথা নিজে কোনো স্বাধীন রোগ নয়; এটি মূলত শরীরের ভেতরের কোনো গভীর ইনফেকশন, টিস্যুর প্রদাহ বা স্নায়ুর কষা ভাবের এক আগাম সতর্ক সংকেত বা অ্যালার্ম মাত্র।

আপনি যখনই এই সংকেতকে গুরুত্ব না দিয়ে ঘন ঘন এনএসএআইডি (NSAIDs) গোত্রের কড়া ব্যথানাশক বড়ি সেবন করবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ সুরক্ষিত অ্যাসিড-প্রতিরোধক দেওয়াল বা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (Prostaglandin) প্রলেপকে এক নিমিষে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, পেটের ভেতরের কড়া হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড সরাসরি জেনুইন চামড়াকে গলিয়ে ফেলে মারাত্মক অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণযুক্ত গ্যাস্ট্রিক আলসার তৈরি করে, যার ফলে অনেক সময় রোগীর মুখ দিয়ে বা মলের সাথে তাজা রক্তপাত শুরু হয়। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এই ওটিসি (OTC) কেমিক্যাল ড্রাগসের অতিরিক্ত টক্সিক রেসিডিউ বা বর্জ্য পদার্থ রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির সূক্ষ্ম নেফ্রন কোষগুলোকে সরাসরি বার্ন করে দেয়। আমাদের চেম্বারে প্রতিনিয়ত এমন অনেক ক্রনিক কিডনি বিকল (CKD) হওয়া মুমূর্ষু রোগী আসেন, যাদের এই জীবনঘাতী ডায়ালাইসিস স্টেজে পৌঁছানোর একমাত্র মূল কারণ হলো চিকিৎসকের কোনো লিখিত পারমিশন ছাড়া বছরের পর বছর কড়া পেইনকিলার খাওয়ার এই শর্টকাট অভ্যাস।

ব্যথা দূর করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো—কোনো কড়া রাসায়নিক বড়ি হুট করে মুখে না দিয়ে, ব্যথার ভেতরের মূল কারণটি খুঁজে বের করা। পরিমিত পরিমাপের বিশুদ্ধ পানি পান, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা, সঠিক বসার ভঙ্গি বা পোশচার মেইনটেইন করা এবং তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা লিভারের সেবাম চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে কোনো কড়া পেইনকিলার ছাড়াই শরীরকে আজীবন সুস্থ ও চটপটে রাখা সম্ভব। সুস্থ থাকতে হলে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। যদি কোনো কারণে শরীরের ব্যথা তীব্র ও অসহ্য হয়ে পড়ে, তবে নিজে নিজে কোনো পেইনকিলার না খেয়ে অবিলম্বে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন এবং লিভার ও কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে শুধুমাত্র তাঁর নির্দেশিত শতভাগ নিরাপদ ও মাইল্ড থেরাপিউটিক মেডিসিন (যেমন: সঠিক ডোজে Paracetamol) সেবন নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

রফিকুল ইসলাম

প্রতিদিন অফিসে মাথা ব্যথা হলেই ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার কিনে খেতাম। কিডনির সমস্যা ধরা পড়ার পর ডাক্তার বললেন এটাই মূল কারণ। আগে জানলে এত বড় ক্ষতি হতো না।

সালমা খাতুন

গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়ে রক্তপাত শুরু হয়েছিল। ডাক্তার স্যার বললেন বছরের পর বছর পেইনকিলার খাওয়ার ফলেই এমনটা হয়েছে। এখন নিয়ম মেনে চলছি।

তানভীর আহমেদ

বাবা প্রতিদিন ব্যথায় ডিক্লোফেনাক খান, বারণ করলে শোনেন না। এই আর্টিকেলটা দেখিয়ে বুঝালাম। অনেক উপকার হলো।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।