কানে সামান্য চুলকানি বা ভারী ভাব হলেই কি অবহেলা করে ওটিসি কটন বাড দিয়ে অনবরত খোঁচাচ্ছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া মেকানিক্যাল কাঠির এই ভুল ব্যবহার আপনার কানের পাতলা পর্দা চিরতরে ফুটো করে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
কানের তীব্র চুলকানি বা খইল (Earwax) দূর করার জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট ওটোস্কোপি পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কটন বাড বা মেটালের কাঠি দিয়ে কান খোঁচানো এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই যান্ত্রিক আঘাত কানের প্রাকৃতিক সুরক্ষাপ্রাচীর ধ্বংস করে চিরতরে পাতলা পর্দা ছিঁড়ে ফেলে।
আমাদের নাক, কান ও গলা এবং ওটোলজি মাইক্রো-সার্জারি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক কানের ক্রনিক এক্সটার্নাল ইনফেকশনে আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের কানের নালী খোঁচানোর তীব্র আঘাতে স্থায়ীভাবে অবশ ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, গোসলের পর কানে সামান্য পানি বা আর্দ্রতা জমা হওয়া, কান চুলকানো কিংবা কানের ময়লা বা খইল পরিষ্কার করার অন্ধ মোহে তারা হাতের কাছে থাকা কটন বাড, চাবির রিং, মুরগির পালক বা মেটালের ক্লিপ দিয়ে অনবরত কান খোঁচাতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত কানের অ্যানাটমি ও ফিজিওলজি অনুযায়ী, কানের ভেতরে থাকা সেবাম বা খইল কোনো ময়লা নয়, এটি মূলত এসিডিক প্রকৃতির এক প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ, যা বাইরের ধুলাবালি, ছত্রাক ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে কানের পর্দার গভীরে ঢুকতে সরাসরি বাধা দেয়।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ওটোস্কোপি পরীক্ষা ছাড়া কটন বাড কানের ভেতর অনবরত নাড়াচাড়া করবেন, তখন কানের খইল বাইরে বের হওয়ার বদলে উল্টো আরও ভেতরের দিকে মেকানিক্যাল বলের মতো শক্ত চাকা (Impacted Wax) হয়ে জমাট বেঁধে যায়। এই শক্ত চাকাটি কানের পাতলা টিমপ্যানিক পর্দার ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া মেকানিক্যাল চাপ তৈরি করে রক্ত সঞ্চালন স্তব্ধ করে দেয়, যার ফলে পর্দাটি একপর্যায়ে পুঁজের ইনফেকশন হয়ে স্থায়ীভাবে ফুটো হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ওটোমাইকোসিস' (Otomycosis) বা কানের কড়া ফাঙ্গাল ইনফেকশন বলা হয়। এর সরাসরি ফলে কানের ভেতরে অনবরত ঝিঁঝিঁ পোকার মতো তীব্র বাঁশির আওয়াজ শুরু হয়, কান থেকে পানি ঝরে এবং মস্তিস্কের শ্রবণ স্নায়ু বা ককলিয়ার হেয়ার সেলগুলো চিরতরে অবশ ও অকেজো হয়ে রোগী আংশিক বা পুর্ণাঙ্গ বধিরতা বা শ্রবণশক্তি হারানোর মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন।
কানের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল চুলকানি শান্ত করার এবং শ্রবণ স্নায়ুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কটন বাডের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের অধীনে কানের একটি মাইক্রোস্কোপিক সাকশন ক্লিনিং করিয়ে কানের নালী নিখুঁতভাবে পরিষ্কার রাখুন। ইনফ্লেমেশন ও অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত ঠান্ডা আইসক্রিম শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো ইউস্টেশিয়ান নালী ব্লক করে কানের প্রেশার ওলটপালট করে দেয়। গোসলের সময় কানে প্রাকৃতিকভাবেই তুলা দিয়ে খাঁটি পেট্রোলিয়াম জেলি আলতো করে মেখে কানকে সম্পূর্ণ পানিমুক্ত রাখুন, দিনে অন্তত দুবার মৃদু গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন নিন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
কটন বাড দিয়ে কান খোঁচাতাম প্রতিদিন। একপর্যায়ে কান থেকে পানি ঝরতে শুরু করেছে।
ডাক্তারের কাছে গিয়ে মাইক্রোস্কোপিক ক্লিনিং করিয়েছি। এখন কান পরিষ্কার, কোনো সমস্যা নেই।
গোসলের সময় কানে তুলা দিয়ে পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে রাখি। কান শুকনো থাকে, চুলকানি নেই।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
