হার্টের রক্তনালীতে গুরুতর ব্লকেজ ধরা পড়লেই কি অলৌকিক চর্বি গলানোর সিরাপ খেয়ে ঘরে বসে আছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি টনিকের এই ভুল ভরসা আপনার ধমনীর ব্লকেজকে হঠাৎ ফাটিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

হার্টের প্রধান ধমনীতে বিপজ্জনক ও গুরুতর ব্লকেজ ধরা পড়লে লাইফস্টাইল পরিবর্তন বা চিকিৎসকের ইন্টারভেনশন ছাড়া ওটিসি (OTC) চটকদার হার্ট ক্লিনিং ওষুধি সিরাপ খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ শক্ত ক্যালসিয়ামের প্লাক কখনো সিরাপে গলে না বরং যেকোনো মুহূর্তে তা ধমনী ছিঁড়ে তীব্র হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে।

আমাদের ক্যাথল্যাব (Cath Lab) ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক গুরুতর ধমনী ব্লকেজে ভোগা ক্রনিক হৃদরোগী আসেন, যাদের হার্টের মূল রক্তনালীতে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক মেদ, ক্যালসিয়াম ও চর্বির দেয়াল (Atherosclerotic Plaque) শক্তভাবে জমে রক্ত চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই রোগীরা বুকে অসহ্য চাপ ধরা ব্যথা, সামান্য হাঁটলেই দম আটকে আসা বা শ্বাসকষ্টের তীব্র সমস্যায় ভোগার পরও এনজিওপ্লাস্টি বা রিং পরানোর ভয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। এর বদলে তারা বিভিন্ন চটকদার অনলাইন বিজ্ঞাপন বা লোকমুখে শুনে নিজে নিজে বছরের পর বছর 'অলৌকিক চর্বি গলানোর ওষুধি সিরাপ', ক্ষতিকর ভেষজ ডিটক্স লিকুইড অথবা কড়া আনভেরিফাইড সাপ্লিমেন্ট খেয়ে ঘরে বসে থাকেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ধমনী প্যাথলজি অনুযায়ী, রক্তনালীর ভেতরের পুরোনো ব্লকেজগুলো কেবল নরম মেদ নয়, এগুলো সময়ের সাথে সাথে ক্যালসিয়াম জমে পাথরের মতো শক্ত আস্তরণে রূপ নেয়, যা কোনো তরল বা কেমিক্যাল সিরাপে গলানো বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব।

আপনি যখন কোনো গাইডেড চিকিৎসা (যেমন: রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা Statins) ছাড়া অলৌকিক সিরাপের ওপর অন্ধ ভরসা করে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত রাখবেন, তখন ওই শক্ত প্লাকের উপরিভাগ হুট করে ফেটে গিয়ে রক্তনালীর ভেতরে এক সেকেন্ডে বিশাল রক্ত জমাট বাঁধার ক্লট (Clot) তৈরি করে ফেলে। এর সরাসরি ফলে, ধমনীটি শতভাগ ব্লক হয়ে হৃদপিণ্ডের পেশীতে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ এক পলকে স্তব্ধ হয়ে যায় এবং রোগী সরাসরি মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মুখে পতিত হন। হার্টের গুরুতর ব্লকেজ থেকে জীবনকে সুরক্ষিত রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের মোহের পেছনে গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে একটি কোরোনারি এনজিওগ্রাম (Angiogram) পরীক্ষা করিয়ে ব্লকেজের সুনির্দিষ্ট তীব্রতা ও অবস্থান নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করার ভেতর।

যদি ব্লকেজ মাঝারি স্তরের হয়, তবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং সয়াবিন তেল শতভাগ বর্জন করে ওটস, লাল চালের ভাত, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঁচা রসুন খাওয়ার ওষধি লাইফস্টাইল গাইডলাইন মেনে চলুন। ধমনীর প্লাক পরিষ্কার করতে এবং রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন। আর যদি ব্লকেজ বিপজ্জনক স্তরে থাকে, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের গাইডলাইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ আধুনিক, নিরাপদ ও কাটাছেঁড়া ছাড়া কুঁচকি বা হাতের রগ দিয়ে গিয়ে ধমনীর ভেতরে একটি আধুনিক ড্রাগ-এলুটিং রিং (Stenting) পরানোর উন্নত প্রফেশনাল চিকিৎসা নিশ্চিত করুন, যা ধমনীর মুখকে আজীবনের জন্য প্রসারিত করে রক্তপ্রবাহ সচল রাখবে।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

আব্দুল কাদের

এনজিওগ্রাম করিয়ে ৮০% ব্লকেজ ধরা পড়েছিল। রিং পরিয়ে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

মোঃ ফারুক

সিরাপ খেয়ে সময় নষ্ট করেছিলাম, শেষে ডাক্তার দেখিয়ে রিং পরিয়েছি।

হাসিনা বেগম

হাঁটা আর খাবার নিয়ন্ত্রণে স্বামীর কোলেস্টেরল অনেক কমেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।