সিজারিয়ানের ভয়ে নরমাল ডেলিভারি এড়িয়ে যাচ্ছেন? নাকি অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের ঝুঁকি নিচ্ছেন?

জানুন কোন ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ এবং কখন সিজারিয়ান অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান মায়ের জন্য মারাত্মক সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ ও পরবর্তী গর্ভাবস্থায় জরায়ু ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়; সুস্থ গর্ভাবস্থায় নরমাল ডেলিভারিই সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি।

আমাদের প্রসূতি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক গর্ভবতী মা আসেন, যারা সিজারিয়ানের ভয়ে নরমাল ডেলিভারি এড়াতে চান অথবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজারিয়ান করতে চান। আমাদের দেশে দুটি চরম প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়—একদিকে গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে ঘরোয়া কবিরাজি উপায়ে ঝুঁকিপূর্ণ নরমাল ডেলিভারি, অন্যদিকে শহুরে ধনী পরিবারে সুবিধাজনক সময়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত প্রসূতি গাইডলাইন অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সুস্থ গর্ভাবস্থায়, বাচ্চার অবস্থান স্বাভাবিক থাকলে এবং মায়ের কোনো জটিলতা না থাকলে নরমাল বা যোনিপথ ডেলিভারিই সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। নরমাল ডেলিভারির পর মা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, বাচ্চাকে তাৎক্ষণিক বুকের দুধ দিতে পারেন এবং পরবর্তী গর্ভাবস্থায় কোনো ঝুঁকি থাকে না।

সিজারিয়ান হলো একটি বড় পেটের অপারেশন যা কেবল তখনই করা উচিত যখন নরমাল ডেলিভারি মা বা বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন—বাচ্চার অবস্থান উল্টো থাকলে (Breech Presentation), প্লাসেন্টা জরায়ুর মুখ বন্ধ করে রাখলে (Placenta Previa), মায়ের তীব্র প্রিক্ল্যাম্পসিয়া থাকলে, বাচ্চার হার্টবিট হঠাৎ কমে গেলে বা নরমাল ডেলিভারি দীর্ঘ সময় ধরে এগোচ্ছে না হলে।

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের মারাত্মক ঝুঁকি হলো—পেটে সংক্রমণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মূত্রাশয়ে আঘাত, পরবর্তী গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টা আটকে যাওয়া এবং জরায়ু ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি। সিজারিয়ানের পর মাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয় এবং সুস্থ হতে অনেক সময় লাগে।

নরমাল ডেলিভারি সফল করার জন্য গর্ভাবস্থায় নিয়মিত হালকা হাঁটা ও প্রসূতি যোগব্যায়াম করা। প্রচুর শাক-সবজি, ফলমূল ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত প্রসূতি চেকআপ করা। ডেলিভারির সময় সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল অনুসরণ করা।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

নাসরিন আক্তার

সিজারিয়ানের ভয় ছিল। ডাক্তার ম্যাডামের পরামর্শ মেনে নরমাল ডেলিভারি করেছি। এখন সুস্থ আছি।

ডা. সালমা আক্তার

একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলছি, নরমাল ডেলিভারিই সবচেয়ে নিরাপদ। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান এড়িয়ে চলুন।

ফাতেমা খাতুন

প্রথম সন্তান সিজারিয়ান হয়েছিল। দ্বিতীয় সন্তান নরমাল ডেলিভারি করেছি। ডাক্তার ম্যাডামের গাইডলাইন অমূল্য।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।