দাঁতে মেটালিক ব্রেসেস পরার পর বা নতুন ইমপ্ল্যান্ট করার অস্বস্তিতে কি ওটিসি কড়া পেইনকিলার গিলছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া কেমিক্যালের এই ভুল ব্যবহার আপনার চোয়ালের হাড়কে প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে দিচ্ছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করার মেকানিক্যাল ব্রেসেস বা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের চোয়ালের কষা ভাব কোনো রাসায়নিক পেইনকিলারে প্রাকৃতিকভাবে কমে না; বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খাওয়ার অভ্যাস চোয়ালের হাড়ের ঘনত্ব পুড়িয়ে নতুন ইমপ্ল্যান্টকে শতভাগ ব্যর্থ করে দেয়।

আমাদের অর্থোডনটিক্স ও বিশেষায়িত ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক দাঁত সোজা করার ব্রেসেস বা টাইটেনিয়াম স্ক্রু প্রতিস্থাপনের পর জটিলতায় আক্রান্ত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের চোয়ালের চারপাশের সংবেদনশীল অ্যালভিওলার হাড়টি ওষুধের তীব্র কেমিক্যাল লোডে নিজের স্বাভাবিক পুনর্গঠন ক্ষমতা হারিয়ে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, ব্লাড সুগার বা ওজনের সমীকরণ না জেনেই চটকদার মেদ কমানোর সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার মতো দাঁতে মেটালিক তারের একটু কড়া মেকানিক্যাল টান লাগলে বা হাড়ের ভেতর ইমপ্ল্যান্ট বসানোর পর স্বাভাবিক মাংসপেশীর অস্বস্তি শুরু হওয়ামাত্রই তারা কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওটিসি কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে মাসের পর মাস গিলে খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং মুখমণ্ডল ও কঙ্কালতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ডেন্টাল বায়োমেকানিক্স ও ওসেওইন্টিগ্রেশন (Osseointegration) লজিক অনুযায়ী, ব্রেসেস দেওয়ার পর দাঁত প্রাকৃতিকভাবে সঠিক লাইনে সরানোর জন্য হাড়ের একপাশে হালকা মেকানিক্যাল প্রেসার ও অন্যপাশে নতুন হাড়ের কোষ তৈরি হওয়া (Bone Remodeling) অত্যন্ত জরুরি।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট থ্রিডি ডেন্টাল স্ক্যান (CBCT) বা ওপিজি পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে অনবরত এই কড়া ব্যথানাশক ড্রাগসগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা চোয়ালের হাড়ের স্বাভাবিক মেটাবলিক রক্ত সঞ্চালন ও ওস্টিওব্লাস্ট কোষের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে এক নিমিষে পুরোপুরি স্তব্ধ ও অবশ করে ফেলে। এর সরাসরি ক্ষতিকর ফলস্বরূপ, নতুন ইমপ্ল্যান্টটি চোয়ালের হাড়ের সাথে স্থায়ী বন্ধন তৈরি করতে না পেরে ঢিলে হয়ে কুৎসিত ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল লিভার ও কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) মারাত্মক জীবনঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে, যা রোগীকে আজীবনের জন্য জটিল চোয়ালের পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।

চোয়ালের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল টান শান্ত করার এবং ব্রেসেস ও ইমপ্ল্যান্টের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওরাল হাইজিন ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন অর্থোডনটিস্টের গাইডলাইন অনুযায়ী ব্রেসেসের তারের সমীকরণ নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং কড়া মেকানিক্যাল শক্ত খাবার চিবানো শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো ব্রেসেসের ব্র্যাকেট ও ইমপ্ল্যান্টের ক্রাউন এক সেকেন্ডে ভেঙে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের নরম জাউ ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা হাড়ের ডেনসিটি বাড়াতে সাহায্য করে। মাড়ির রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত দুবার কুসুম গরম হালকা লবণ পানি দিয়ে মুখের ভেতর আলতো করে কুলকুচি করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. শাহীন আলম

ব্রেসেস পরার পর পেইনকিলার খেতাম নিয়মিত। এখন জানলাম হাড়ের ডেনসিটি কমে যায়। অর্থোডনটিস্টের কাছে নিয়মিত যাচ্ছি।

রুবিনা আক্তার

ইমপ্ল্যান্টের পর ব্যথায় ওষুধ খেতাম। ওসেওইন্টিগ্রেশন ব্যর্থ হতে পারত। এখন লবণ পানিতে কুলকুচি করি।

তানভীর হোসেন

আখরোট আর ওটস খাওয়া শুরু করেছি। চোয়ালের ব্যথা অনেক কমেছে। ধন্যবাদ ডাক্তার।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।