শিশুর শরীর হঠাৎ অতিরিক্ত গরম হয়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর উঠলেই কি কপালে সরাসরি বরফ বা ঠাণ্ডা পানি দিচ্ছেন?
সাবধান! তাপমাত্রার এই আকস্মিক চিকিৎসাগত ধাক্কা আপনার অবুজ সন্তানের মস্তিস্কের স্নায়ুকে অতি-উত্তেজিত করে তীব্র খিঁচুনি ডেকে আনছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
শিশুর হঠাৎ ১০২ বা ১০৩ ডিগ্রি উচ্চ জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ খাওয়ানো কিংবা কপালে সরাসরি ফ্রিজের বরফ বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি দেওয়া এক মারাত্মক জীবনঘাতী ভুল; কারণ এই তীব্র শীতলতা বাচ্চার মস্তিস্কে শক তৈরি করে ফেব্রাইল কনভালশন বা স্থায়ী খিঁচুনি রোগ ডেকে আনে।
আমাদের শিশু ইমার্জেন্সি ও পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে প্রতিদিন এমন অনেক আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শিশু আসে, যাদের শরীর উচ্চ জ্বরের তীব্রতায় কাঁপছে এবং চোখ দুটো ওপরের দিকে উল্টে হাত-পা শক্ত হয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খিঁচুনি শুরু হয়েছে। আমাদের দেশের সাধারণ পরিবারগুলোতে একটি অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত এক মারাত্মক চিকিৎসাগত ক্ষতিকর ভুল টোটকা প্রচলিত আছে যে, বাচ্চার শরীর আগুন গরম হওয়ামাত্রই তারা প্যানিকড হয়ে কপালে সরাসরি ফ্রিজের বরফ খণ্ড চেপে ধরেন অথবা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানির কড়া প্রলেপ দিতে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি ও থার্মোরেগুলেশন লজিক অনুযায়ী, শিশুর মস্তিস্কের ভেতরে থাকা হাইপোথ্যালামাস নামক থার্মোস্ট্যাট কেন্দ্রটি হঠাৎ কোনো ভাইরাল সংক্রমণের কারণে বাচ্চার ভেতরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়, যা মূলত ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাচ্চার শরীরের এক ধরণের প্রাকৃতিক ওষধি ইমিউন সাড়া।
যখনই অভিভাবকেরা চিকিৎসকের কোনো লিখিত গাইডলাইন ছাড়া বাচ্চার কপালে তীব্র শীতল বরফ বা ঠাণ্ডা পানি ছোঁয়াতে থাকেন, তখন মস্তিস্কের উপরিভাগের রক্তনালীগুলো প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় এক সেকেন্ডে সংকুচিত (Vasoconstriction) হয়ে যায়। এর সরাসরি বিপরীতমুখী মেকানিজম হিসেবে বাচ্চার ভেতরের মূল তাপমাত্রা বা কোর বডি টেম্পারেচার (Core Body Temperature) এক ধাক্কায় আরও বহুগুণ বেড়ে মস্তিস্কের স্নায়ু কোষগুলোকে অতি-উত্তেজিত করে তোলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ফেব্রাইল কনভালশন' (Febrile Convulsion) বা উচ্চ জ্বরের খিঁচুনি বলা হয়। এই বিপজ্জনক খিঁচুনি বাচ্চার মস্তিস্কের নরম স্নায়ু টিস্যুকে সরাসরি পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে বাচ্চার অক্সিজেন সরবরাহ থমকে যায় এবং অবুজ শিশু আজীবনের জন্য মৃগী রোগ বা মস্তিস্কের স্থায়ী জড়বুদ্ধিতার শিকারে পরিণত হতে বাধ্য হয়, যা কোনো কড়া কেমিক্যালেও আর নিরাময় সম্ভব নয়।
শিশুর উচ্চ জ্বর ও মস্তিস্কের স্নায়ুর সুরক্ষার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কড়া ওষুধের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে সম্পূর্ণ ড্রাগ-ফ্রি থেরাপিউটিক স্পঞ্জিং গাইডলাইন মেনে চলার ভেতর। বাচ্চার উচ্চ জ্বর হওয়ামাত্রই প্যানিকড না হয়ে সাধারণ ঘরের তাপমাত্রার কুসুম গরম পানিতে একটি পরিষ্কার নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে বাচ্চার পুরো শরীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত আলতো হাতে অনবরত মুছে দিন (Tepid Sponging)। এই ওষধি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া বাচ্চার কাঁচা চামড়ার বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে ভেতরের অতিরিক্ত তাপকে প্রাকৃতিকভাবেই বাইরে টেনে এনে শরীর ঠাণ্ডা করে দেয়। কোনো ওটিসি অ্যান্টিবায়োটিকের ভুয়া মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে বাচ্চার ওজন অনুযায়ী শুধুমাত্র চিকিৎসকের পূর্বনির্ধারিত ডোজে নিরাপদ প্যারাসিটামল (Paracetamol) সিরাপ দিন। বাচ্চার তীব্র পানিশূন্যতা ও মেটাবলিক শক রোধ করতে বয়স অনুযায়ী পরিমিত খাবার পানি, ওরাল স্যালাইন ও বুকের দুধের জোগান শতভাগ নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
জ্বরে বরফ দিয়েছিলাম, বাচ্চা খিঁচুনি শুরু করল। ডাক্তার বললেন ফেব্রাইল কনভালশন। ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মুছে দিলাম। জ্বর ধীরে ধীরে কমল। আর বরফ দিই না।
টেপিড স্পঞ্জিং আর প্যারাসিটামল সিরাপ দিয়ে জ্বর কমাচ্ছি। ডাক্তারের ডোজ মেনে চলি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
