সামান্য ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার খেলেই কি বুক জ্বলে? অনবরত বোতল ভর্তি এন্টাসিড সিরাপ খাচ্ছেন কি?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি লিকুইডের এই অতিরিক্ত মেল্টিং আপনার পাকস্থলীর ক্যানসারের পূর্বলক্ষণকে আড়াল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ঘন ঘন বুক জ্বালাপোড়া বা পেটের ওপরের দিকে তীব্র কামড়ানো ব্যথাকে সাধারণ গ্যাস মনে করে ওটিসি (OTC) এন্টাসিড সিরাপ খেয়ে চেপে রাখা মারাত্মক ভুল; কারণ এটি পাকস্থলীর ক্ষতিকর 'H. pylori' ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কিংবা ক্রনিক আলসার ও ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
আমাদের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও এন্ডোস্কোপি ওয়ার্ডে প্রতিদিন এমন অনেক জটিল পেপটিক আলসার ডিজিজ (PUD) বা রক্তবমি হওয়া রোগী আসেন, যারা গত কয়েক বছর ধরে সামান্য বুক জ্বালা বা পেট ফাঁপা হলেই বোতল ভর্তি সাদা এন্টাসিড সিরাপ কিংবা সুক্রালফেট লিকুইড ওটিসি ড্রাগস কিনে গিলে আসছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি জঘন্য ক্ষতিকর এবং অবৈজ্ঞানিক শর্টকাট প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পরিপাক প্যাথলজি অনুযায়ী, যখনই রোগীরা কোনো পরীক্ষা ছাড়া এই অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড যুক্ত ক্ষারীয় লিকুইড সিরাপগুলো অনবরত খেতে থাকেন, তখন তা পাকস্থলীর ভেতরের এসিডকে সাময়িকভাবে নিউট্রালাইজ বা প্রশমিত করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, সাময়িক একটি ঠাণ্ডা আরামের অনুভূতি বা ছদ্মবেশ তৈরি হলেও ভেতরের আসল ক্ষত বা গভীর আলসার বিন্দুমাত্র নিরাময় হয় না।
এর চেয়েও বিপজ্জনক চিকিৎসাগত সত্য হলো, পাকস্থলীর প্রায় ৮০ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী আলসারের জন্য দায়ী হলো 'হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি' (Helicobacter pylori) নামক এক অত্যন্ত জেদি ও বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াটি পাকস্থলীর মিউকাস সুরক্ষাত্তর কামড়ে ধরে এসিড তৈরি বাড়িয়ে দেয় এবং চামড়াকে কাঁচা ক্ষতে রূপান্তর করে। আপনি যখন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টাসিড সিরাপ খেয়ে কেবল ব্যথার সংকেতকে কৃত্রিমভাবে অবশ করে রাখবেন, তখন ভেতরের এই সংক্রমণ ড্যামেজ ছড়াতে ছড়াতে একপর্যায়ে পাকস্থলীর দেয়াল ফুটো করে ফেলে (Perforation) অথবা চামড়ার কোষগুলোকে অস্বাভাবিক মিউটেশনের দিকে ঠেলে দেয়, যা পরবর্তীতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাস্ট্রিক কার্সিনোমা বা পাকস্থলীর মারাত্মক ক্যানসারের রূপ ধারণ করে। তখন কড়া কোনো সার্জারি ছাড়া রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বুক জ্বালাপোড়া ও পেপটিক আলসারের এই ভয়ানক জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো—নিজে নিজে কোনো ক্ষারীয় ওটিসি সিরাপ বা লিকুইড খাওয়া সম্পূর্ণ বর্জন করা। ঘন ঘন গ্যাস-এসিডিটি হলে প্যানিকড না হয়ে বা ভেষজ টনিকের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে একটি আপার জিআই এন্ডোস্কোপি (Endoscopy) এবং রক্তে বা মলে এইচ. পাইলোরি (H. pylori) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করিয়ে ক্ষতের গভীরতা ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে কাঁচা চিনি, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল, কৃত্রিম ফুড কালার এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত Processesড জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাকস্থলীর ভালো ব্যাকটেরিয়ার ইমিউনিটি সচল রাখতে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পর ছোট এক বাটি ঘরে পাতা চিনি ছাড়া টকদই খাওয়ার ওষধি অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং যকৃতের মেটাবলিজম সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
দীর্ঘদিন ধরে এন্টাসিড সিরাপ খেতাম। এন্ডোস্কোপি করিয়ে জানলাম H. pylori ইনফেকশন। ডাক্তার স্যারের কথা আগে জানলে এত বড় ক্ষতি হতো না।
বুক জ্বালাপোড়াকে সাধারণ গ্যাস ভেবে অবহেলা করেছিলাম। পরে জানলাম আলসার হয়ে গেছে। সবাইকে অনুরোধ, সময়মতো পরীক্ষা করান।
টকদই খাওয়ার অভ্যাস শুরু করেছি, সাথে এন্ডোস্কোপি করিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। অনেক উপকার হচ্ছে। এই তথ্যগুলো সত্যিই জীবন বাঁচানো।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
