চুল পড়া শুরু হওয়ামাত্রই কি আতঙ্কিত হয়ে কড়া কেমিক্যাল অয়েল মাখছেন? লাভ কি আদেও হচ্ছে?

জানুন মানসিক স্ট্রেস ও বংশগত কারণ কীভাবে আপনার মাথার হেয়ার ফলিকলকে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

চুল পড়ার আদি কারণ না জেনে বাজারচলতি তথাকথিত জাদুকরী তেল বা হারবাল লোশন মাথায় মাখলে কোনো নতুন চুল গজায় না; বরং অতিরিক্ত তেল জমার কারণে স্কাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়ে স্থায়ী Hair Loss-এর সৃষ্টি হয়।

আমাদের হেয়ার রিহ্যাবিলিটেশন ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারে প্রতিদিন এমন অনেক তরুণ ও মধ্যবয়সী রোগী আসেন, যারা প্রতিদিন চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর সময় গোষা গোষা চুল পড়তে দেখে চরম প্যানিকড বা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই তীব্র মানসিক দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত ওভারথিংকিং শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের (Cortisol) মাত্রা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয়। এই ক্ষতিকর হরমোন মাথার ত্বকের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে চুলের গোড়ার পুষ্টি ও অক্সিজেন চলাচল এক ধাক্কায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে চুল ঝরে পড়ার গতি আরও ১০ গুণ দ্রুত হয়ে যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া অত্যন্ত সাধারণ এবং প্রাকৃতিক একটি মেকানিজম, কারণ পুরোনো চুল ঝরে গিয়ে সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন ও সতেজ চুল গজায়। তবে চুল পড়ার পরিমাণ যদি অস্বাভাবিক বেশি হয় এবং চিরুনি দিলেই চুল গোড়া থেকে উঠে আসে, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে প্রধানত দুটি বড় কারণ কাজ করছে—প্রথমটি হলো হরমোনজনিত অ্যান্ডোজেনিক অ্যালোপেসিয়া (Androgenetic Alopecia) বা বংশগত টাক পড়া, এবং দ্বিতীয়টি শরীরে আয়রন, জিংক, বায়োটিন বা ভিটামিন ডি-এর তীব্র অভ্যন্তরীণ ঘাটতি।

অ্যান্ডোজেনিক অ্যালোপেসিয়া মূলত শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন থেকে তৈরি ডিএইচটি (DHT) নামক এক ক্ষতিকর উপাদানের কারণে ঘটে, যা চুলে থাকা বিশেষ রিসেপ্টরকে আক্রমণ করে ফলিকলকে প্রাকৃতিকভাবেই সংকুচিত ও অবশ করে দেয়। কোনো কসমেটিক তেল, শ্যাম্পু বা হারবাল প্যাক এই ভেতরের হরমোনের শক্তিশালী জৈবিক গঠনকে স্কাল্পের উপরিভাগ থেকে পরিবর্তন করতে পারে না। উল্টো মাথায় অতিরিক্ত তেল জমিয়ে রাখলে সেখানে 'ম্যালাসেসিয়া' নামক ফাঙ্গাস বাসা বাঁধে, যা তীব্র খুশকি ও সেবোরিক ডার্মাটাইটিস তৈরি করে চুলের অকাল মৃত্যু ঘটায়।

আমার ওষধি পরামর্শ হলো—চুল পড়ার সঠিক কারণ নির্ণয় করতে কোনো অলৌকিক টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্ত পরীক্ষা (Serum Ferritin/Thyroid Profile) ও স্কাল্পের ট্রাইকোসকোপি টেস্ট করান। চিকিৎসকের নির্দেশিত ও এফডিএ অনুমোদিত মিনোক্সিডিল (Minoxidil) থেরাপি বা রক্তের প্লেটলেট সমৃদ্ধ পিআরপি (PRP) চিকিৎসা চুলের গোড়াকে আবার প্রাকৃতিকভাবে জাগ্রত ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। আর যদি মাথার কোনো অংশে ফলিকল স্থায়ীভাবে মরে গিয়ে মসৃণ টাক পড়ে যায়, তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে নিরাপদ ও নিখুঁত উপায় হলো—এফইউই (FUE) হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা চুল প্রতিস্থাপন, যা কোনো কাটাছেঁড়া বা দাগের ধকল ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মাথায় স্থায়ী ও জীবন্ত চুল ফিরিয়ে আনে। দৈনিক ৩ লিটার পানি পান করুন এবং চর্বিহীন মুরগির মাংস, ডিমের সাদা অংশ ও ওমেগা-৩ যুক্ত বাদাম প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মিজানুর রহমান

চুল পড়া দেখে আতঙ্কিত হয়ে হারবাল তেল মাখতাম, লাভ হতো না। রক্ত পরীক্ষা করালে আয়রন ও ভিটামিন ডি-এর অভাব ধরা পড়ল। চিকিৎসা শুরু করেছি।

রাকিবুল ইসলাম

FUE হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করিয়েছি, ৮ মাসে নতুন চুল গজিয়েছে। আগে জানলে এত দেরি করতাম না।

সাব্বির আহমেদ

মিনোক্সিডিল ব্যবহার শুরু করেছি, ৩ মাসে চুল পড়া কমেছে। স্ক্যাল্প হেলথ অ্যানালাইজার টুলটা অনেক কাজে লেগেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।