মাথায় হঠাৎ বজ্রপাতের মতো তীব্র অসহ্য ব্যথা শুরু হলেই কি মাইগ্রেন মনে করে ওটিসি পেইনকিলার বড়ি গিলছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া কড়া ব্যথানাশক বড়ির এই ভুল অপব্যবহার আপনার মস্তিস্কের ফেটে যাওয়া রক্তনালীকে চিরতরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
মাথায় হঠাৎ আকস্মিক তীব্র বজ্রপাতের মতো বিস্ফোরক ব্যথা (Thunderclap Headache) শুরু হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া পেইনকিলার খাওয়া এক জীবনঘাতী ভুল; কারণ এটি মস্তিস্কের রক্তনালী ফেটে 'Hemorrhagic Stroke' বা রক্তক্ষরণের স্পষ্ট সংকেত যা অপারেশনের বিলম্ব হলে এক সেকেন্ডে মানুষের চেতনা কেড়ে নেয়।
আমাদের স্ট্রোক ইমার্জেন্সি ও নিউরো-ইন্টারভেনশন আইসিইউ (ICU) জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক মস্তিস্কের মারাত্মক রক্তক্ষরণে ভোগা মুমূর্ষু রোগী আসেন, যারা অচেতন বা কোমা স্টেজে পৌঁছানোর আগে মাথায় জীবনের সবচেয়ে তীব্রতম মাথাব্যথার যন্ত্রণায় ছটফট করেছিলেন। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, হঠাৎ করে মাথায় কড়া কামড়ানো বা ফেটে যাওয়ার মতো তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া, অনবরত বমি হওয়া, ঘাড় শক্ত হয়ে লক (Nuchal Rigidity) হওয়া অথবা তীব্র আলো সহ্য করতে না পারার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার গিলে খেয়ে নেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত মস্তিস্ক অ্যানাটমি ও নিউরো-ভাস্কুলার লজিক অনুযায়ী, এই তীব্র মাথাব্যথা কোনো সাধারণ মাইগ্রেন বা এসিডিটির গ্যাস নয়; এটি মূলত মস্তিস্কের ভেতরের কোনো প্রধান ধমনীর দেওয়ালে বেলুনের মতো ফুলে থাকা দুর্বল অংশ বা অ্যানিউরিজম (Aneurysm) যখন হাই প্রেশারের চোটে হুট করে ফেটে গিয়ে মস্তিস্কের চারপাশের সুরক্ষিত সাব-অ্যারাকনয়েড স্তরে তাজা রক্ত ছড়িয়ে দেয়।
আপনি যখন কোনো নিউরোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত সেবন করবেন, তখন তা ব্যথার সংকেত সাময়িকভাবে অবশ করলেও ভেতরের রক্তক্ষরণ বিন্দুমাত্র থামাতে পারে না। উল্টো এই কড়া কেমিক্যালের বিষক্রিয়া রক্তের স্বাভাবিক জমাট বাঁধার মেকানিজম বা প্রতিরক্ষাকবচকে পুড়িয়ে পাতলা করে ফেলে, যার ফলে মস্তিস্কের ভেতরের রক্তক্ষরণ জ্যামিতিক হারে বেড়ে গিয়ে ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেশার (ICP) অস্বাভাবিক স্পাইক করে ফেলে। এর সরাসরি ফলে, মস্তিস্কের সুস্থ জীবন্ত স্নায়ুকোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে ও রক্তের চাপে এক নিমিষে মরে যায়, রোগী সরাসরি গভীর ডায়াবেটিক বা নিউরোলজিক্যাল কোমায় চলে যান এবং কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রেসপিরেটরি সেন্টার স্তব্ধ হয়ে স্ট্রোকের জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে মৃত্যু ঘটে।
মস্তিস্কের এই রক্তক্ষরণ থেকে জীবনকে রক্ষা করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের অন্ধ মোহের পেছনে গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই রোগীকে অবিলম্বে একটি ব্রেন সিটি স্ক্যান (CT Scan) এবং সিটি এনজিওগ্রাম (CT Angiogram) সুবিধাযুক্ত বিশেষায়িত নিউরো হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার ভেতর। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, পাতে আলাদা কাঁচা লবণ এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত করে রক্তনালী ফাটানোর মূল ট্রিগার। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা রক্তনালী নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
হঠাৎ মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হলেই পেইনকিলার খেতাম। পরে বুঝেছি সেটাই ভুল ছিল।
সিটি স্ক্যান করিয়ে ব্রেন হেমোরেজ ধরা পড়েছে। সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাণে বেঁচেছি।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখেছি, লবণ কমিয়েছি। মাথাব্যথা আর হয় না।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
