নাকের পলিপাস বা মাংস বাড়ার সমস্যায় কি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অবৈজ্ঞানিক চুন বা এসিডের ক্ষতিকর ছ্যাঁকা নিচ্ছেন?
সাবধান! হাতুড়ে চিকিৎসার এই তীব্র দহন আপনার নাকের মাঝখানের নরম হাড় পুড়িয়ে চিরতরে ফুটো করে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
নাকের মাংস বাড়া বা পলিপাস দূর করার তীব্র অন্ধ মোহে কোনো বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা ছাড়া হাতুড়ে চিকিৎসকের তৈরি কড়া এসিড বা ক্ষতিকর চুনের ছ্যাঁকা নেওয়া এক চরম আত্মঘাতী অপরাধ; কারণ এই ক্ষার সরাসরি নাকের মধ্যবর্তী দেওয়ালের নরম হাড়কে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে চিরতরে ফুটো করে দেয়।
আমাদের নাক, কান ও গলা এবং সাইনাস ল্যাপারোস্কোপি সার্জারি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক মারাত্মক ড্যামেজড রাইনোলজি রোগী আসেন, যাদের নাকের ভেতরের সংবেদনশীল সেপ্টাম দেয়াল বা মধ্যবর্তী নরম তরুণাস্থি হাড়টি হাতুড়ে চিকিৎসার তীব্র রাসায়নিক দহনে পুড়ে সম্পূর্ণ কয়লা হয়ে গেছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, তীব্র সাইনাসের মাথাব্যথা, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, হাঁচি হওয়া কিংবা নাকের ভেতরের টারবিনেট বা মাংসপিণ্ড অতিরিক্ত ফুলে যাওয়ার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কোনো ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা রাস্তার পাশের হাতুড়ে ওস্তাদের কাছে গিয়ে 'এক মিনিটে পলিপাস নির্মূল' করার চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে নাকের ভেতর কড়া নাইট্রিক এসিড বা চুন-ক্ষার মিশ্রিত ক্ষতিকর লিকুইডের প্রলেপ বা ছ্যাঁকা নেন। এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং শ্বাসনালীর সুরক্ষার জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত শ্বাসনালী অ্যানাটমি ও প্যাথলজি অনুযায়ী, নাকের পলিপাস কোনো সাধারণ মাংসের অতিবৃদ্ধি নয়; এটি মূলত তীব্র ক্রনিক অ্যালার্জির কারণে সাইনাসের আস্তরণ ঝিল্লি ফুলে আঙুরের থোকার মতো নরম জলীয় থলিতে রূপ নেয়।
কোনো কড়া ক্ষার বা কেমিক্যাল অ্যাসিড এই ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জির মেটাবলিক পাথওয়েকে বিন্দুমাত্র শান্ত করতে পারে না। আপনি যখন কোনো ওটোস্কোপি বা রাইনোস্কোপি পরীক্ষা ছাড়া অন্ধ ভরসায় ওই এসিডের বিষক্রিয়া নাকের কাঁচা চামড়ায় পুশ করবেন, তখন তা নাকের মিউকোসা স্তরকে পুড়িয়ে গভীর রক্তক্ষরণযুক্ত নেক্রোসিস বা পচনশীল ক্ষতের সৃষ্টি করে। এর সরাসরি মেকানিক্যাল ফলস্বরূপ, নাকের মধ্যবর্তী সুরক্ষিত হাড়টি (Septal Perforation) স্থায়ীভাবে ফুটো হয়ে ভেঙে ধসে পড়ে, যার ফলে নাকের স্বাভাবিক বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে মুখটি কুৎসিত দেখায়। একপর্যায়ে নাকের ভেতরের বাতাস ফিল্টার করার প্রাকৃতিক সিলিয়া ও অলফ্যাক্টরি ঘ্রাণ স্নায়ু চিরতরে মরে যায়, যার ফলে রোগী আজীবনের জন্য সুগন্ধ ও দুর্গন্ধ চেনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং মস্তিস্কের গভীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে মেনিনজাইটিসের মতো জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন।
নাকের পলিপাস ও সাইনাসের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ শান্ত করার এবং শ্বাসনালীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো হাতুড়ে অ্যাসিডের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো ওটিসি ওষুধের শর্টকাট উপায়ের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ইএনটি সার্জনের অধীনে কানের বা নাকের একটি ন্যাজাল এন্ডোস্কোপি (Nasal Endoscopy) পরীক্ষা করিয়ে পলিপাসের আসল স্তর ও অ্যালার্জির তীব্রতা নিখুঁতভাবে লক করুন। ইনফ্লেমেশন ও অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত ঠান্ডা আইসক্রিম শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো সাইনাসের প্রদাহ বহুণ বাড়িয়ে দেয়। নাকের ভেতরের কষা শ্লেষ্মা প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে ফ্ল্যাশ আউট করে পরিষ্কার করতে প্রতিদিন অন্তত দুবার মৃদু গরম পানির ভাপ বা ওষধি স্টিম ইনহেলেশন নিন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
নাকে মাংস বাড়া বলে হাতুড়ে চুন দিলাম। নাক ফুটো হয়ে রক্ত পড়ল, তখন ডাক্তার দেখালাম।
এন্ডোস্কোপি করিয়ে পলিপাস বের করেছি। এখন স্টিম নেই, পানি বেশি খাই। নাক দিয়ে শ্বাস নিতে পারি।
ঠান্ডা জিনিস খাওয়া বন্ধ করেছি, গরম পানির ভাপ নেই। সাইনাসের মাথাব্যথা অনেক কমেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
