প্রচুর খাওয়া সত্ত্বেও কি শরীর দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে এবং গরম সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছে?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি অ্যান্টি-থাইরয়েড বড়ি খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস আপনার লিভার ও শ্বেত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
বুক ধড়ফড় করা, হাত কাঁপনি বা কোনো কারণ ছাড়াই হুট করে অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়ার তীব্র লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্রই চিকিৎসকের লিখিত পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) অ্যান্টি-থাইরয়েড বড়ি খাওয়া এক জীবনঘাতী ভুল; কারণ এই ওষুধের ওভারডোজ রক্তের শ্বেতকণিকা শূন্য করে বোনম্যারো সাপ্রেশন তৈরি করতে পারে।
আমাদের হরমোন ও এন্ডোক্রাইনোলজি থেরাপি বিভাগে প্রায়ই এমন অনেক মারাত্মক মেটাবলিক ক্রাইসিসের রোগী আসেন, যাদের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১২০ থেকে ১৪০ পার হয়ে গেছে, চোখ জোড়া হুট করে বাইরের দিকে ঠেলে ফুলে (Exophthalmos) এসেছে এবং শরীর অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ঘামে অনবরত কাঁপছে। এই রোগীরা কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা কিংবা রক্তে থাইরয়েড হরমোনের সুষম সমীকরণ না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া অ্যান্টি-থাইরয়েড (Anti-thyroid drugs যেমন: কার্বিমাজোল বা মেথিমাজোল) ট্যাবলেট কিনে খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাগত কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত এন্ডোক্রাইন প্যাথলজি অনুযায়ী, যখন থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে, তখন তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism) বলা হয়। এটি শরীরের মেটাবলিক ইঞ্জিনকে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে সচল করে তোলে, যার ফলে কোষগুলো শরীরের জমানো সব মাংসপেশী ও ক্যালোরি দ্রুত পুড়িয়ে নিস্তেজ করে ফেলে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা (TSH / Free T4) এবং রক্তের সেলুলার কাউন্ট না জেনে এই কড়া থাইরয়েড হরমোন ব্লকিং বড়ি অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা বোনম্যারোর স্বাভাবিক রক্তকণিকা তৈরি করার ক্ষমতাকে এক নিমিষে স্তব্ধ করে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস' (Agranulocytosis) বলা হয়। এর সরাসরি ফলে, শরীরের প্রধান সুরক্ষাবাহিনী বা শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) হঠাৎ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যার ফলে সামান্য সর্দি-কাশি বা ইনফেকশন হলেও রোগী তীব্র সেপটিক শকে চলে যান। তাছাড়া, এই কড়া কেমিক্যালের ভুল মাত্রা লিভারের কোষকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে তীব্র কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিসের জন্ম দেয় এবং হৃদপিণ্ডের পেশী অতি-উত্তেজিত করে 'থাইরয়েড স্টর্ম' (Thyroid Storm) নামক এক চূড়ান্ত ও জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকট তৈরি করে।
হাইপারথাইরয়েডিজম ও অনিয়ন্ত্রিত মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ক্যাপসুল হুট করে মুখে না দিয়ে দুর্বলতার আসল মূল কারণটি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করার ভেতর। কোনো চটকদার সাপ্লিমেন্টের পেছনে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে হরমোনের সঠিক মাত্রা আগে নিশ্চিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা আইওডিনযুক্ত লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো থাইরয়েডের প্রদাহকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যায়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শালগমের মতো ক্রুসিফেরাস সবজি রাখুন, যা প্রাকৃতিকভাবেই থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ করার গতিকে ধীর করে দেয়। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
বুক ধড়ফড়ানি ও ওজন কমায় নিজে অ্যান্টি-থাইরয়েড বড়ি খেয়ে লিভার ড্যামেজ হয়েছিল। আর কখনও করব না।
চাচার থাইরয়েড স্টর্ম হয়ে ICU-তে ভর্তি হতে হয়েছিল। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার ফলেই এমনটা হয়েছে।
হাত কাঁপা ও ওজন কমে যাওয়ায় নিজে ওষুধ খেয়েছিলাম। পরীক্ষা করে দেখলাম WBC শূন্যের কাছাকাছি। বাঁচে গেছি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
