কোনো কারণ ছাড়াই কি শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগছে ও ওজন দ্রুত বাড়ছে? থাইরয়েডের সমস্যা নয় তো?
সাবধান! চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে থাইরক্সিন হরমোন বড়ি খাওয়ার এই শর্টকাট আপনার হৃদপিণ্ডের গতি চিরতরে স্তব্ধ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
শরীর ফ্যাকাশে হওয়া, অলসতা বা হঠাৎ দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার মৃদু লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্রই চিকিৎসকের লিখিত গাইডলাইন ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া থাইরক্সিন হরমোন বড়ি খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এটি হার্টের ওপর তীব্র প্রেশার তৈরি করে অস্টিওপরোসিস ও স্থায়ী হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আমাদের হরমোন ও এন্ডোক্রাইনোলজি ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক অনিয়মিত মেটাবলিক জটিলতার রোগী আসেন, যারা অনবরত অতিরিক্ত ক্লান্তি, সামান্য কাজ করলেই হাঁপিয়ে ওঠা, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়েট করা সত্ত্বেও হঠাৎ দ্রুত ওজন বেড়ে মেদ জমার সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগীরা কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ কিংবা রক্তে থাইরয়েড হরমোনের (TSH, Free T3, Free T4) রিজার্ভের সঠিক সমীকরণ না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া হরমোন রিপ্লেসমেন্ট বড়ি (যেমন: থাইরক্সিন বা লেভোথাইরক্সিন) ট্যাবলেট কিনে খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত এন্ডোক্রাইনোলজি ও যকৃত বিপাকীয় লজিক অনুযায়ী, গলার সামনের অংশে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের তাপমাত্রা, মেটাবলিজম ও হৃদস্পন্দনের গতি স্বাভাবিক সীমায় নিখুঁতভাবে সচল রাখতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া কড়া কেমিক্যাল হরমোন বড়ি অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পিটুইটারি গ্রন্থির স্বাভাবিক ফিডব্যাক মেকানিজমকে জোরপূর্বক ওলটপালট করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, হরমোনের কৃত্রিম আধিক্য বা হাইপারথাইরয়েডিজম দেখা দেয় যা রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে বুক ধড়ফড়ানি, হাত-পা কাঁপা এবং ক্রনিক অনিদ্রার জন্ম দেয়। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এই কড়া হরমোনের অতিরিক্ত উপাদান হাড় থেকে ক্যালসিয়াম দ্রুত গলিয়ে বের করে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'সেকেন্ডারি অস্টিওপরোসিস' বলা হয়, যার ফলে রোগীর হাড় অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পিঠ ও কোমরে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয় এবং কার্ডিওভাসকুলার স্ট্রেস বেড়ে গিয়ে বাচ্চার বা বড়দের হার্ট বিকল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য ও ওজনের ভারসাম্যহীনতা দূর করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া রাসায়নিক ক্যাপসুল হুট করে মুখে না দিয়ে দুর্বলতার আসল মূল কারণটি সনাক্ত করার ভেতর। কোনো ওটিসি ওষুধের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে হরমোনের আসল মাত্রা নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড সম্পূর্ণ বর্জন করুন; কারণ এগুলো থাইরয়েডের প্রদাহ মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিম, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং মেটাবলিজম সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ওজন বাড়ার কারণ নিজে নিজে থাইরয়েডের বড়ি খেতাম। পরীক্ষা করে দেখলাম থাইরয়েড স্বাভাবিক ছিল। ডাক্তার বললেন ওষুধ বন্ধ করতে।
মা দীর্ঘদিন নিজে নিজে থাইরক্সিন খেয়ে হার্টের সমস্যায় পড়েছিলেন। এখন ডাক্তারের নিয়ন্ত্রণে আছেন। সবার এই শিক্ষা নেওয়া উচিত।
ক্লান্তি ও ওজন বাড়ায় নিজে থাইরয়েড টেস্ট করিয়ে বড়ি শুরু করেছিলাম। এই আর্টিকেল পড়ে বুঝলাম কত বড় ভুল করেছিলাম।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
