ওজন বা ব্লাড সুগার একটু বেশি দেখলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি মেটফরমিন বড়ি গিলছেন?
সাবধান! এই কড়া কেমিক্যালের ভুল অপব্যবহার আপনার শরীরে মেটাবলিক এসিডোসিস তৈরি করে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ওজন কমানো বা রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার শর্টকাট মোহে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি (OTC) মেটফরমিন বড়ি খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই ড্রাগসের ভুল মাত্রা শরীরে 'Lactic Acidosis' তৈরি করে কিডনি ও লিভারকে এক নিমেষে বিকল করে দিতে পারে।
আমাদের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিক ডিসঅর্ডার বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার (Obesity) রোগী আসেন, যারা ওজনের তীব্র আধিক্য বা ব্লাড সুগারের সামান্য তারতম্য দেখেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া মেটফরমিন (Metformin) বড়ি কিনে সেবন করতে থাকেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। অনেকেই মনে করেন মেটফরমিন একটি সাধারণ মেদ কমানোর বড়ি, যা চিকিৎসকের লিখিত গাইডলাইন ছাড়া যত খুশি খাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, মেটফরমিন মূলত কোষে ইনসুলিন হরমোনের সেন্সিটিভিটি বাড়াতে এবং লিভারের গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কিডনি ও লিভারের ছাঁকন ক্ষমতা (eGFR/SGPT) না জেনে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল বড়ি সেবন করতে থাকবেন, তখন তা শরীরের রক্তে ল্যাকটিক অ্যাসিডের মাত্রা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ল্যাকটিক এসিডোসিস' (Lactic Acidosis) বলা হয়। এর ফলে রোগীর তীব্র বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, মাংসপেশীতে তীব্র টান লাগা এবং শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক জটিলতা তৈরি হয়, যা রোগীকে সরাসরি মেটাবলিক শকের দিকে ঠেলে দেয় এবং কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই কিডনিকে স্থায়ীভাবে ড্যামেজ করে দেয়। তাছাড়া, চিকিৎসকের গাইডলাইন ছাড়া হুটহাট ক্রাশ ডায়েট বা না খেয়ে থাকার অভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে আরও তীব্র করে তোলে; কারণ শরীর ক্ষুধার্ত থাকলে লিভার উল্টো চর্বি জমা করে ফ্যাটি লিভারের জন্ম দেয়।
ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং রক্তের সুগার স্বাভাবিক রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুনির্দিষ্ট সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। কোনো ওটিসি ওষুধের মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্তের ফাস্টিং ইনসুলিন ও HbA1c পরীক্ষা করিয়ে আপনার ইনসুলিনের সঠিক গাইডলাইন লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরির মূল ট্রিগার। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন। ওটস চিনি শোষণের গতি ধীর করে ইনসুলিনের ওপর কাজের লোড অনেক কমিয়ে দেয়; তাই পরিমিত ওটস ডায়েটে রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন। কোষে ইনসুলিনের সেন্সিটিভিটি প্রাকৃতিকভাবে বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ওজন কমানোর জন্য নিজে নিজে মেটফরমিন খেতে শুরু করেছিলাম। পেটে তীব্র ব্যথা হওয়ার পর ডাক্তার বললেন ল্যাকটিক এসিডোসিস।
ফার্মেসি থেকে মেটফরমিন কিনে খাচ্ছিলাম। কিডনির সমস্যা ধরা পড়ার পর বন্ধ করেছি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।
বন্ধু মেটফরমিন খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এই আর্টিকেলটা তাকে দেখালাম। এখন ডাক্তারের নিয়ন্ত্রণে আছেন।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
