সামান্য মাথা ব্যথা বা গা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার গিলে খাচ্ছেন? ব্যাপারটা কি আসলে এমন সরল?
নাকি ঝটপট আরাম পাওয়ার সাময়িক মোহে আপনার অজান্তেই পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে রক্তের প্রধান ছাঁকনি কিডনি?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
সামান্য মাথা ব্যথা বা গা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে খাওয়ার অভ্যাস রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির সূক্ষ্ম নেফ্রন কোষগুলোকে এক নিমিষে পুড়িয়ে স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়।
আমাদের নেফ্রোলজি ও ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর জরুরি ইউনিটে প্রতিদিন এমন অনেক মারাত্মক কিডনি বিকল (CKD Stage 4/5) হওয়া রোগী আসেন, যারা রক্তে বিষাক্ত ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়ার অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা নিয়ে চরম মুমূর্ষু অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে চলে যান। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভয়ানক এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত ক্ষতিকর ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, শরীরে যেকোনো ধরণের ব্যথা বা কোমর কষা ভাব হলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; কাছের ফার্মেসি থেকে যেকোনো একটি ব্যথানাশক ট্যাবলেট (যেমন: ডিক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন বা কিটোরোলাক) কিনে খেয়ে নিলেই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, ব্যথা নিজে কোনো স্বাধীন রোগ নয়, এটি মূলত শরীরের ভেতরের কোনো ইনফেকশন বা প্রদাহের এক সতর্ক সংকেত মাত্র। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া আপনি যখনই অনবরত কোনো এনএসএআইডি (NSAIDs) জাতীয় কড়া ব্যথানাশক বড়ি সেবন করবেন, তখন তা কিডনির অভ্যন্তরীণ রক্তপ্রবাহ সচল রাখার প্রাকৃতিক মেকানিজম বা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন প্রলেপকে এক নিমিষে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।
এর সরাসরি ফলস্বরূপ, কিডনির ভেতরের সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা নেফ্রন কোষগুলো রক্ত থেকে বর্জ্য ফিল্টার করার ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'একিউট রেনাল ইনজুরি' (AKI) বা ক্রনিক কিডনি ড্যামেজ বলা হয়। আমাদের চেম্বারে প্রতিনিয়ত এমন অনেক তরুণ ও মধ্যবয়সী ক্রনিক কিডনি বিকল হওয়া রোগী আসেন, যাদের এই জীবনঘাতী ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের স্টেজে পৌঁছানোর একমাত্র মূল কারণ হলো চিকিৎসকের কোনো লিখিত প্রেসক্রিপশন ছাড়া বছরের পর বছর পেইনকিলার খাওয়ার এই শর্টকাট ক্ষতিকর অভ্যাস। ব্যথা দূর করার এবং কিডনিকে আজীবন শতভাগ সুস্থ রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া রাসায়নিক বড়ি হুট করে মুখে না দিয়ে, ব্যথার মূল কারণটি খুঁজে বের করা।
ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা পাতে কাঁচা লবণ খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত করে কিডনির ওপর তীব্র চাপের সৃষ্টি করে। এর বদলে পরিমিত পরিমাপের বিশুদ্ধ পানি পান, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা, সঠিক বসার ভঙ্গি মেইনটেইন করা এবং রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে কোনো কড়া পেইনকিলার ছাড়াই শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব। যদি কোনো কারণে শরীরের ব্যথা তীব্র ও অসহ্য হয়ে পড়ে, তবে নিজে নিজে কোনো পেইনকিলার না খেয়ে অবিলম্বে একজন নেফ্রোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন এবং শরীরের রক্তের ইজিএফআর (eGFR) হার অক্ষুণ্ণ রেখে শুধুমাত্র তাঁর নির্দেশিত শতভাগ নিরাপদ থেরাপিউটিক মেডিসিন (যেমন: সঠিক ডোজে Paracetamol) সেবন নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
প্রতিদিন পেইনকিলার খেতাম। ক্রিয়েটিনিন ৩.৫ ধরা পড়ল। এখন নেফ্রোলজিস্টের গাইডলাইনে আছি।
কোমর ব্যথায় ওটিসি বড়ি খেতাম। এখন জানলাম কিডনির কত ক্ষতি হচ্ছিল। ডায়েট শুরু করেছি।
eGFR ৪৫ নেমে গিয়েছিল। পেইনকিলার বন্ধ করে ড্যাশ ডায়েট ফলো করছি। অনেক উন্নতি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
