রাত্রে দুশ্চিন্তার চোটে ঠিকমতো ঘুম আসছে না বলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি ঘুমের বড়ি গিলছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের গাইডলাইন ছাড়া কেমিক্যাল সিডেটিভের এই দীর্ঘস্থায়ী কুঅভ্যাস আপনার মস্তিস্কের স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
সামান্য মানসিক উত্তেজনা বা রাত্রের অনিদ্রার (Insomnia) যন্ত্রণায় চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া ঘুমের বড়ি বা সিডেটিভ ড্রাগস খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই কৃত্রিম আসক্তি মস্তিস্কের প্রাকৃতিক মেলাটোনিন ধ্বংস করে মানুষকে আজীবনের জন্য জড় পদার্থে রূপান্তর করে।
আমাদের ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রি ও সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক অনিদ্রা ও কড়া কেমিক্যাল ড্রাগসের টক্সিসিটিতে আক্রান্ত জটিল মনোরোগী আসেন, যাদের মস্তিস্কের স্বাভাবিক কগনিটিভ কার্যক্ষমতা ভুল প্র্যাকটিসের প্রভাবে সম্পূর্ণ থমকে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, পরীক্ষার চাপ, অফিসের অতিরিক্ত স্ট্রেস কিংবা পারিবারিক ঝামেলার কারণে দুই-এক রাত স্বাভাবিক ঘুম না হওয়া মাত্রই তারা সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। এর বদলে তারা কাছের ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া ঘুমের বড়ি (Benzodiazepines যেমন: ব্রোমাজেপাম, ডায়াজেপাম বা আলপ্রাজোলাম যুক্ত ট্যাবলেট) কিনে বছরের পর বছর মুড়িমুড়কির মতো খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত আত্মঘাতী এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-সাইকোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি অনুযায়ী, অনিদ্রা নিজে কোনো স্বাধীন রোগ নয়; এটি মূলত মনের অবদমিত দুশ্চিন্তা বা তীব্র প্যানিক অ্যাটাকের এক আগাম মানসিক সংকেত বা বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট সাইকোমেট্রিক অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া সাময়িক শান্ত হওয়ার মোহে অনবরত এই কড়া সিডেটিভ কেমিক্যাল বড়িগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা মস্তিস্কের ভেতরের প্রাকৃতিক ঘুমের হরমোন বা 'মেলাটোনিন' (Melatonin) নিঃসরণের স্বাভাবিক গ্ল্যান্ডগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে চিরতরে অবশ ও বন্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, পরবর্তীতে ওষুধ ছাড়া মস্তিস্ক নিজের ইচ্ছায় আর ঘুমের তরঙ্গে (REM Sleep) প্রবেশ করতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ড্রাগ ডিপেন্ডেন্সি বা কেমিক্যাল আসক্তি বলা হয়। দীর্ঘকাল এই ওষুধের অপব্যবহারের কারণে রোগীর স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, দিনের বেলাতেও অনবরত মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি থাকে এবং মস্তিস্কের নিউরোনগুলো অকেজো হয়ে তীব্র ডিমেনশিয়া ও মেটাবলিক ক্রাশের জন্ম দেয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য গভীর ক্লিনিক্যাল অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।
মানসিক অস্থিরতা ও অনিদ্রার এই ক্রনিক যন্ত্রণা প্রাকৃতিকভাবে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ ড্রাগ-ফ্রি উপায়ে শান্ত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট মেটাবলিক ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT-I) সেশন লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত ক্যাফেইন (কড়া চা-কফি ও ধূমপান) সূর্যাস্তের পর শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো মস্তিস্কের নিউরনের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও গরম দুধ খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা মেলাটোনিন সচল করতে সাহায্য করে। বিছানায় যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন সম্পূর্ণ ব্লকিং করে চোখকে প্রাকৃতিকভাবে শান্ত হতে দিন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
পরীক্ষার চাপে ঘুম না আসায় ফার্মেসি থেকে বড়ি কিনে খেতাম। এখন মনে হচ্ছে আসক্তি তৈরি হয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ঘুমের বড়ি খেয়ে এখন বড়ি ছাড়া ঘুমাতেই পারি না। ডাক্তার বলছেন মেলাটোনিন নষ্ট হয়ে গেছে।
CBT-I থেরাপি শুরু করেছি। ধীরে ধীরে বড়ি ছাড়তে পারছি। এই গাইডলাইন অনেক কাজে আসছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
