হঠাৎ দম আটকে কোনো কারণ ছাড়াই কি তীব্র ভয়ে বুক ধড়ফড় করছে এবং সারা শরীর কাঁপছে?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি সিডেটিভ বড়ি খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস আপনার ডিম্বাশয় ও হরমোন ব্যালেন্সকে স্থায়ীভাবে অলস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
নারীদের হঠাৎ দম আটকে যাওয়া, মৃত্যুর ভয় বা তীব্র প্যানিক অ্যাটাক (Panic Attack) নিয়ন্ত্রণে লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে ওটিসি (OTC) কড়া ঘুমের বড়ি খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এটি এন্ডোক্রাইন সিস্টেমকে স্থায়ীভাবে বিশৃঙ্খল করে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণুর কোয়ালিটি সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।
আমাদের ফিমেল মেন্টাল হেলথ ও সাইকোসোমাটিক রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক অনিয়মিত পিরিয়ড, তীব্র প্যানিক ডিসঅর্ডার এবং হরমোনের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতায় আক্রান্ত তরুণী ও মায়েরা আসেন, যারা সন্তান প্রসবের পর (Postpartum Depression) অথবা তীব্র মানসিক অবসাদের মেটাবলিক কষ্টে ভুগছেন। আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও ভয়ানক চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, নারীদের হঠাৎ দম আটকে আসা, বুক ধড়ফড় করা, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে অবশ ভাব মনে হওয়া কিংবা একা থাকতে তীব্র ভয় পাওয়া শুরু হওয়ামাত্রই তারা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা প্রাবেশিকভাবে এসিডিটি বা হার্টের ব্লক মনে করে ওটিসি গ্যাসের বড়ি খাইয়ে দেন অথবা ফার্মেসি থেকে কড়া কেমিক্যাল ঘুমের বড়ি কিনে অনবরত সেবন করতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং জরায়ু ও মস্তিস্কের সুষম এন্ডোক্রাইন অক্ষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-এন্ডোক্রাইনোলজি লজিক অনুযায়ী, নারীদের শরীরে যখন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তীব্র ওঠানামা ঘটে, তখন মস্তিস্কের ভয় নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্র অতি-সংবেদনশীল হয়ে তীব্র প্যানিক অ্যাটাকের জন্ম দেয়।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা (যেমন: GAD-7) বা রক্তের হরমোন প্রোফাইল না জেনে কড়া সিডেটিভ বড়ি অনবরত সেবন করবেন, তখন তা মস্তিস্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ডিম্বাশয়ে পাঠানো স্বাভাবিক প্রাকৃতিক সংকেতকে চাবির মতো ব্লক করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, ওভারি বা জরায়ু প্রাকৃতিকভাবে নিজের হরমোন তৈরি করার ক্ষমতা হারিয়ে অলস হয়ে পড়ে, যা ডিম্বাশয়ের সুস্থ ডিম্বাণুগুলো সময়ের আগেই ম্যাচিউর হওয়া বন্ধ করে দেয় এবং পানির ছোট ছোট ফোস্কার মতো সিস্টে (PCOS) রূপ নেয়। দীর্ঘকাল এই কড়া ওষুধের অপব্যবহারের কারণে মস্তিস্কের স্বাভাবিক সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন পাথওয়ে অ্যাসিডের মতো পুড়ে স্থায়ীভাবে নিস্তেজ হয়ে যায়, যা রোগীকে এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় স্থায়ী সাইকোসিস ও তীব্র এনহেডোনিয়ার মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে ঠেলে দেয়।
প্যানিক অ্যাটাকের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক মেটাবলিক প্রদাহ শান্ত করার এবং মস্তিস্কের সুরক্ষার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে সঠিক নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ও ওষধি লাইফস্টাইল কমপ্লায়েন্সে আসার ভেতর। হঠাৎ তীব্র ভয় বা বুক ধড়ফড়ানি শুরু হওয়ামাত্রই এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসুন এবং নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে গভীর শ্বাস বুক ভরে নিয়ে ৭ সেকেন্ড পেটে আটকে রেখে মুখ দিয়ে ৮ সেকেন্ড ধরে ধীর গতিতে ছেড়ে দেওয়ার '৪-৭-৮ শ্বাসের বৈজ্ঞানিক কৌশল' ব্যবহার করুন, যা মস্তিস্কের অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন কমিয়ে এক পলকে হার্টবিট স্বাভাবিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনে। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও চিয়া সিড প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্তের বর্জ্য নিষ্কাশন করতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
পিরিয়ডের আগে প্যানিক অ্যাটাক হতো। ওটিসি বড়ি খেয়ে পার করতাম। এখন ডাক্তার দেখাচ্ছি।
প্রসবের পর প্যানিক অ্যাটাক শুরু হয়েছিল। ৪-৭-৮ ব্রিদিং টেকনিক অনেক কাজে আসছে।
মেয়ের প্যানিক অ্যাটাকে ঘুমের বড়ি খাওয়াতাম। এই আর্টিকেল পড়ে ভুল বুঝতে পেরেছি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
