পায়ের বুড়ো আঙুল বা গোড়ালি হুট করে ফুলে লাল হয়ে তীব্র কামড়ানো ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া ব্যথানাশক বড়ি খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস আপনার কিডনি ও লিভারকে চিরতরে বিকল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
রক্তে ইউরিক এসিড বৃদ্ধিজনিত তীব্র গেঁটে বাত বা Gouty Arthritis কোনো সাধারণ মেকানিক্যাল মচকে যাওয়া নয়, এটি মেটাবলিক প্রদাহ; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো গোড়া থেকে সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।
আমাদের হাড় ও জয়েন্ট সার্জারি এবং ট্রমা বিভাগে প্রায়ই এমন অনেক বয়স্ক ও মধ্যবয়সী ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুর জয়েন্ট অস্বাভাবিক ফুলে শক্ত গাঁট (Tophi) তৈরি হয়েছে এবং তীব্র প্রদাহের কারণে চামড়া লাল হয়ে গরম হয়ে আছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, রাতে ঘুমানোর পর শেষ রাতের দিকে হঠাৎ পায়ে তীব্র কামড়ানো বা মোচড়ানো বাতের কষ্ট শুরু হওয়ামাত্রই তারা চর্মরোগ বা বাতের আসল কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার গিলে খেয়ে নেন অথবা হাতুড়ে ওস্তাদের কেমিক্যাল মিশ্রিত 'বাতের জাদুকরী লিকুইড' অনবরত সেবন করতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত জয়েন্ট প্যাথলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, আমরা প্রতিদিন যে অতিরিক্ত প্রোটিন বা পিউরিন যুক্ত খাবার খাই, তা লিভার মেটাবলাইজ করার পর অতিরিক্ত বর্জ্য হিসেবে রক্তে 'ইউরিক এসিড' (Uric Acid) তৈরি করে।
রক্তে এই এসিডের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেলে তা তরল আকারে থাকতে না পেরে সুঁইয়ের মতো ধারালো ইউরেট ক্রিস্টাল (Monosodium Urate) হিসেবে জয়েন্টের ভেতরের সংবেদনশীল নরম সাইনোভিয়াল ফ্লুইডে অনবরত বিঁধতে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গেঁটে বাত বা গাউট (Gout) বলা হয়। কোনো কেমিক্যাল পেইনকিলার এই ভেতরের ধারালো পাথরের ক্রিস্টালগুলোকে শরীর থেকে নিষ্কাশন করতে পারে না। আপনি যখন কোনো সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা (Serum Creatinine) না জেনে সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগসগুলো অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এই অতিরিক্ত ইউরিক এসিডের ক্রিস্টালগুলো কিডনির ছাঁকনি বা নেফ্রন নালীতে জমা হয়ে সরাসরি ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
বাতের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক মেটাবলিক প্রদাহ শান্ত করার এবং জয়েন্টকে সুরক্ষার প্রধান চাবি লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন অর্থোপেডিক সার্জনের অধীনে আক্রান্ত জয়েন্টের একটি সাধারণ এক্স-রে এবং রক্তের ইউরিক এসিড পরীক্ষা করিয়ে আপনার সঠিক পুষ্টি গাইডলাইন লক করুন। বাতের আগুন ও মেদ কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত লাল মাংস (খাসি বা গরুর মাংস), সামুদ্রিক মাছ, পুঁইশাক এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো ইউরিক এসিডের মূল জ্বালানি। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্তে জমে থাকা ইউরিক এসিডের বিষাক্ত ক্রিস্টাল প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ধুয়ে বা ফ্ল্যাশ আউট করে বের করে দিতে দৈনিক অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস (৩.৫ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
রাতে পা ফুলে ব্যথা হলেই পেইনকিলার খেতাম। এখন কিডনিতে সমস্যা হয়েছে। ডাক্তার ইউরিক এসিড টেস্ট করিয়েছেন।
টেস্ট করে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলছি। পেইনকিলার ছাড়াই এখন ব্যথা অনেক কমে গেছে।
লাল মাংস আর সামুদ্রিক মাছ বাদ দিয়েছি। প্রতিদিন প্রচুর পানি খাই, ভালো থাকি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
