গলায় সামান্য ব্যথা বা খাবার গিলতে কষ্ট হলেই কি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি অ্যান্টিবায়োটিক গিলছেন?

সাবধান! ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া কড়া কেমিক্যালের এই ভুল প্রয়োগ আপনার শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

গলায় তীব্র কোয়ার্টজ ব্যথা বা টনসিলের ফোলা ভাব দূর করতে চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা পেইনকিলার খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ ভাইরাসের সংক্রমণে এই কেমিক্যাল ভাইরাসের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে উল্টো শরীরের পরম বন্ধু ব্যাকটেরিয়া পুড়িয়ে মারে।

আমাদের নাক, কান ও গলা এবং হেড-নেক সার্জারি ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক টনসিলাইটিসের জটিলতায় ভোগা রোগী আসেন, যাদের গলার টনসিল গ্রন্থি দুটি অনবরত ভুল ওষুধ সেবনের তীব্র কেমিক্যাল দহনে স্থায়ীভাবে বড় ও পুঁজযুক্ত ক্ষতে (Peritonsillar Abscess) রূপ নিয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা বা হা করে তাকালে গলা লাল হয়ে টনসিল ফোলার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা আসল কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুল কিংবা তীব্র ব্যথানাশক বড়ি কিনে ৩-৪ দিন মুড়িমুড়কির মতো খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত শ্বাসনালী অ্যানাটমি ও মাইক্রোবায়োলজি অনুযায়ী, গলার প্রবেশদ্বারে থাকা টনসিল হলো শরীরের প্রধান ইমিউন গার্ড বা পাহারাদার, যা মুখের বাতাস ও খাবারের সাথে ঢুকে যাওয়া লাখো ক্ষতিকর জীবাণুকে মস্তিস্কের বা ফুসফুসের গভীরে ঢুকতে সরাসরি বাধা দেয়।

অধিকাংশ সাধারণ গলার ইনফেকশন মূলত ভাইরাসজনিত (Viral Pharyngitis) কারণে ঘটে থাকে, ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কার্যকারিতা নেই। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (যেমন: রক্তের সিবিসি বা থ্রোট কালচার) ছাড়া হুটহাট কড়া অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগস সেবন করবেন, তখন তা ভাইরাসের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে উল্টো আপনার শরীরের আজীবনের পরম বন্ধু উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে এক নিমিষে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে মেরে ফেলে। এর চেয়েও বিপজ্জনক চিকিৎসাগত সত্য হলো, আপনার শরীরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো এই ওষুধের অপূর্ণাঙ্গ ডোজের কারণে ওই নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের ফর্মুলা চিনে ফেলে নিজের জিনগত মিউটেশন ঘটিয়ে ফেলে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স' (Antibiotic Resistance) বা সুপারবাগ বলা হয়, যার সরাসরি ফলে পরবর্তীতে টাইফয়েড, মূত্রনালীর ইনফেকশন বা ফুসফুসের মৃদু নিউমোনিয়া হলেও কোনো ওষুধ কাজ না করায় রোগী দ্রুত মাল্টি-অর্গান ফেইলিওরের দিকে চলে যান।

গলার এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক মেটাবলিক প্রদাহ শান্ত করার এবং টনসিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। গলা ব্যথা শুরু হওয়ামাত্রই এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য একটু লবণ মিশিয়ে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার আলতো করে কুলকুচি বা গার্গল (Gargle) করুন; লবণের সোডিয়াম প্রাকৃতিকভাবেই গলার চারপাশের রক্তনালীর পেশী শিথিল করে এবং ইনফেকশনের ভাইরাসকে নিমিষেই ফ্ল্যাশ আউট করে ধুয়ে ফেলে। খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল এবং প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত ঠান্ডা কোক বা কোল্ড ড্রিংকস শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো টনসিলের প্রদাহকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যায়। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. রফিকুল ইসলাম

গলা ব্যথা হলেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেতাম। একপর্যায়ে কোনো ওষুধ কাজ করতো না।

ফারজানা আক্তার

ডাক্তারের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করেছি। এখন লবণ পানিতে গার্গল করি, অ্যান্টিবায়োটিক খাই না।

আব্দুল করিম

প্রচুর পানি পান করি, ঠান্ডা জিনিস খাই না। গলার ইনফেকশন অনেক কমে গেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।