ব্রেইন স্ট্রোকের পর পঙ্গুত্ব এড়াতে কি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অনবরত রক্ত পাতলা করার বড়ি খাচ্ছেন?
সাবধান! সুনির্দিষ্ট ব্রেন স্ক্যান ছাড়া ওটিসি ড্রাগসের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার মস্তিস্কের ভেতরেই মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ব্রেইন স্ট্রোকের পর প্যারালাইসিস বা অবশ ভাব দূর করতে চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট অ্যান্ডোক্রাইন পরীক্ষা ও স্ক্যান ছাড়া ওটিসি (OTC) রক্ত পাতলা করার কড়া বড়ি অনবরত খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ রক্তের ঘনত্বের তারতম্য না বুঝে এই কেমিক্যাল সেবন মস্তিস্কের রক্তনালী ফাটিয়ে ব্রেইন হেমোরেজ ঘটায়।
আমাদের নিউরোলজি ও স্ট্রোক রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক স্ট্রোক পরবর্তী (Post-stroke) অবশ ভাব ও জটিলতায় ভোগা ক্রনিক প্যারালাইসিসের রোগী আসেন, যাদের শরীরের একপাশ সম্পূর্ণ অকেজো এবং রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় অনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, একবার স্ট্রোক হয়ে হাত-পা অবশ হলে বা কথা জড়িয়ে গেলে তারা চিকিৎসকের কোনো নিয়মিত ফলোআপ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে আজীবন রক্ত পাতলা করার কড়া অ্যাসপিরিন বা ক্লোপিডোগ্রেল জাতীয় ওটিসি ড্রাগস অনবরত খাওয়াতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত আত্মঘাতী এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-প্যাথলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, রক্ত পাতলা করার ওষুধ মূলত মস্তিস্কের ধমনীতে নতুন কোনো চর্বির ক্লট জমার গতি ধীর করতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি অলরেডি ড্যামেজ হওয়া স্নায়ুকোষকে সচল করতে পারে না।
আপনি যখন কোনো নিউরোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (যেমন: PT with INR/Lipid Profile) ছাড়া এবং রক্তচাপের সঠিক সমীকরণ না জেনে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল ড্রাগসগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা রক্তের স্বাভাবিক জমাট বাঁধার প্রাকৃতিক মেকানিজম বা প্রতিরক্ষাকবচকে এক নিমিষে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ফলস্বরূপ, রক্তচাপ সামান্য বৃদ্ধি পেলেই মস্তিস্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো সেই পাতলা রক্তের প্রেশার নিতে না পেরে হুট করে ফেটে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হেমোরেজ' (Intracranial Hemorrhage) বা মস্তিস্কের অভ্যন্তরীণ তীব্র রক্তক্ষরণ বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় রোগীকে গভীর ডায়াবেটিক কোমায় নিয়ে যায় এবং চিরতরে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয়।
স্ট্রোক পরবর্তী প্যারালাইসিস থেকে শরীরকে আবার সচল করার এবং মস্তিস্কের স্নায়ুকোষ জাগ্রত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে সঠিক নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ও ওষধি লাইফস্টাইল কমপ্লায়েন্সে আসার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে একটি ব্রেন এমআরআই (MRI) করিয়ে মূল স্নায়ুর ড্যামেজ ট্র্যাক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, পাতে আলাদা কাঁচা লবণ এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো রক্তনালীকে শক্ত ও রুক্ষ করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন। স্নায়ুর সংকেত সচল করতে চিকিৎসকের নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট নিউরো-ফিজিওথেরাপি (Neuro-Physiotherapy) নিয়ম মেনে প্রতিদিন করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
স্ট্রোকের পর নিজে নিজে অ্যাসপিরিন খেতাম। ডাক্তার দেখিয়ে জানলাম রক্ত পাতলা করার ডোজ সঠিক ছিল না।
বাবার স্ট্রোকের পর নিউরো-ফিজিওথেরাপি শুরু করেছি। ধীরে ধীরে হাত-পা সচল হচ্ছে।
রক্ত পাতলা করার ওষুধ নিয়মিত খেলেও PT with INR পরীক্ষা করাতে হয়, এটা ডাক্তারের কাছে শিখেছি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
