হঠাৎ পড়ে গিয়ে হাত বা পা মারাত্মক মচকে গেছে কিংবা ফেটে গেছে? কবিরাজের মালিশে কি বিশ্বাস রাখছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া হাড়ের ওপর এই অবৈজ্ঞানিক টানাটানি ও কড়া মালিশ আপনার সন্তানকে চিরতরে পঙ্গু করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
হঠাৎ আঘাত লেগে হাড় ভেঙে (Fracture) গেলে কোনো বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা ছাড়া কড়া কবিরাজী বাঁশের চটার পট্টি বাঁধা বা নামহীন তেল দিয়ে মালিশ করা চরম আত্মঘাতী ভুল; কারণ এই অন্যায্য চাপে হাড়ের রক্তনালী মরে গিয়ে ‘Compartment Syndrome’ হয়ে চিরতরে অঙ্গহানি ঘটতে পারে।
আমাদের ট্রমা ও জরুরি পঙ্গু সার্জারি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক মারাত্মক পঙ্গুত্বের শিকার হওয়া রোগী আসেন, যাদের হাত বা পায়ের হাড় ভাঙার পর তারা কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি লোকাল কবিরাজ বা ওস্তাদের কাছে গিয়ে কড়া মালিশ করিয়েছেন। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে এটি অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত জীবনঘাতী এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। অনেকেই ভাবেন হাড় ভাঙলে হাসপাতালের প্লাস্টার বা অপারেশনের কোনো প্রয়োজন নেই; কবিরাজের কড়া টানাহেঁচড়া আর চুন-হলুদের পট্টি বাঁধলেই হাড় প্রাকৃতিকভাবে জোড়া লেগে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত অর্থোপেডিক প্যাথলজি ও টিস্যু অ্যানাটমি অনুযায়ী, যখনই কোনো হাড় ভেঙে বা ফেটে যায়, তখন তার চারপাশের সংবেদনশীল নরম পেশী, সূক্ষ্ম রক্তনালী এবং প্রধান স্নায়ুগুলো চরম ক্ষতবিক্ষত ও সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে।
এই ভঙ্গুর অবস্থায় আপনি যখন চিকিৎসকের কোনো সুনির্দিষ্ট এক্স-রে পরীক্ষা ছাড়া কবিরাজের কাছে গিয়ে হাড় জোড়া লাগানোর অন্ধ মোহে কড়া তেল মালিশ করাবেন কিংবা বাঁশের শক্ত চটা দিয়ে রশি দিয়ে কষে চামড়ার ওপর দীর্ঘক্ষণ পট্টি বেঁধে রাখবেন, তখন সেই অন্যায্য ও অতিমানবীয় চাপে ভেতরের রক্ত সঞ্চালন পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'কম্পার্টমেন্ট সিন্ড্রোম' (Compartment Syndrome) বলা হয়। এর সরাসরি ফলে, হাড় ও পেশীর জীবন্ত টিস্যুগুলো অক্সিজেন না পেয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পচে মরে পচনশীল গ্যাংগ্রিন (Gangrene) তৈরি করে। তখন রোগীকে সেপটিক শক ও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো হাত বা পা কেটে ফেলে দিতে হয়, যা সাধারণ একটি ফ্র্যাকচারকে স্থায়ী পঙ্গুত্বে রূপান্তর করে।
হাড় ভাঙা ও মচকে যাওয়ার সঠিক ও বৈজ্ঞানিক নিরাময় লুকিয়ে আছে কোনো অবৈজ্ঞানিক কবিরাজী শর্টকাটের পেছনে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই নিকটস্থ ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ভেতর। আঘাত লাগার সাথে সাথে ওই স্থানটি নড়াচড়া না করিয়ে একটি সোজা কাঠ বা স্কেল দিয়ে আলতো করে বেঁধে সোজা একজন অর্থোপেডিক সার্জনের অধীনে একটি সুনির্দিষ্ট এক্স-রে (X-ray) পরীক্ষা করিয়ে ক্ষতের গভীরতা নিশ্চিত করুন। হাড়ের দ্রুত ক্যালসিয়াম পুনর্গঠন ও ওষধি হিলিং সচল রাখতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা এবং প্রক্রিয়াজাত ফাস্টফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিম, ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা হাড়ের টিস্যু মজবুত করতে সাহায্য করে। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের সময়ই শরীরের গ্রোথ হরমোন কোষ মেরামতের প্রধান চাবি হিসেবে কাজ করে।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
হাত ভেঙে কবিরাজের কাছে মালিশ করিয়েছিলাম। পরে কম্পার্টমেন্ট সিন্ড্রোম হয়ে অপারেশন লেগেছে।
ছেলের পা মচকে গেলে সরাসরি পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। প্লাস্টার দিয়ে ভালো হয়ে গেছে।
ফ্র্যাকচারের পর ডাক্তারের পরামর্শে ছোট মাছ আর ডিম খাচ্ছি। হাড় জোড়া লাগার গতি বেড়েছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
